প্রকৃতির ঋতুচক্রের অন্তরালে লুকিয়ে থাকে এক গভীর আধ্যাত্মিক আবহ। বর্ষার নবীন মেঘের গুরুগুরু ডাক আর ধরিত্রীর রজঃস্বলা রূপ। দুইয়ের মহামিলনেই সূচিত হয় পবিত্র অম্বুবাচী। ২২ জুন, সোমবার থেকে শুরু হয়েছে অম্বুবাচী। সমাপ্তি ২৬ জুন রাত্রি ১০টা ৫৭ মিনিটে। শাস্ত্র মতে, এই সময়টা থমকে দাঁড়ানোর, নিজের অন্তরে আলো ফেলার সময়। মহাজাগতিক দিক থেকেও তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কর্কটে বৃহস্পতি ও শুক্রের তুঙ্গ অবস্থান, মীনে শনি, কুম্ভে রাহু এবং মঘায় কেতুর উপস্থিতি এক বিরল জ্যোতিষতান্ত্রিক পটভূমি তৈরি করেছে। এই পুণ্যলগ্নে রাশিচক্রের বারোটি চিহ্নের ভাগ্যাকাশে কী রয়েছে?

আরও পড়ুন:
মেষ: দৌড়ঝাঁপ বন্ধ করুন। লক্ষ্য পূরণের তাগিদে ছুটে চলার মাঝে এই কয়েকটা দিন একটু জিরিয়ে নিন। অসমাপ্ত কাজ ও নিজের কাছে করা অঙ্গীকারগুলো খতিয়ে দেখুন। সন্ধ্যায় একটি প্রদীপ জ্বেলে শান্ত হয়ে বসলে মনের সব দ্বিধা কাটবে।
বৃষ: প্রকৃতির কোলে ফিরুন। অম্বুবাচীর দিনগুলো মাটির কাছাকাছি থাকার সময়। গাছে জল দিন, পশুপাখিকে খাওয়ান। সবুজ ঘাসে খালি পায়ে হাঁটলে মন শান্ত হবে। মুঠোর মধ্যে যা আছে, তাতেই আনন্দ খুঁজুন।
মিথুন: কোলাহল থেকে দূরে থাকুন। আপনার চঞ্চল মনকে একটু বিশ্রাম দিন। সারাক্ষণ তথ্য আর আলোচনার মধ্যে না ডুবে ভালো বই পড়ুন বা ডায়েরি লিখুন। নীরবতাই আপনাকে নতুন পথের হদিস দেবে।

কর্কট: আপনার রাশিতেই অবস্থান করছে বৃহস্পতি ও শুক্র। আবেগের ক্ষত নিরাময় এবং পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করার এটাই সেরা সময়। গুরুজনদের আশীর্বাদ নিন। দেবীর চরণে কৃতজ্ঞতা জানান।
সিংহ: পূর্বপুরুষদের স্মরণ করার পুণ্যক্ষণ এটি। মঘায় কেতুর অবস্থান পিতৃপুরুষের আশীর্বাদপ্রাপ্তি ঘটাবে। চলে যাওয়া মানুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণ করুন। শিকড়কে সম্মান করলেই ভবিষ্যতের শক্তি সঞ্চিত হবে।
কন্যা: অপ্রয়োজনীয় জিনিস বাদ দিন। ঘরবাড়ি, কাজের টেবিল বা মনের ভেতরের জমে থাকা আবর্জনা পরিষ্কার করুন। শূন্যতাই নতুন সৃষ্টির পথ দেখায়। এই ছোট বদল আপনার জীবনে বড় প্রভাব ফেলবে।
তুলা: আলগা হওয়া সম্পর্ক জোড়া লাগান। পুরনো কোনও বন্ধুর খোঁজ নিন, মান-অভিমান মুছে ফেলুন। অম্বুবাচীর এই পবিত্র তিথি ভাঙা সম্পর্ক জুড়ে দেওয়ার মন্ত্র শেখায়।

বৃশ্চিক: সাধনায় মন দিন। ধ্যান, মন্ত্রোচ্চারণ বা আধ্যাত্মিক চর্চার জন্য এই ক’দিন ভীষণ শুভ। সামাজিক মাধ্যমের মোহ ত্যাগ করে নিজের ভেতরের শক্তির সন্ধান করুন।
ধনু: জ্ঞানের আলোয় সমৃদ্ধ হোন। কোনও পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পাঠ বা গুরুবাক্য শ্রবণ আপনার চেতনাকে বদলে দিতে পারে। এই সময়ে শেখা পাঠ সারাজীবন পাথেয় হয়ে থাকবে।
মকর: সাফল্যের নতুন সংজ্ঞা খুঁজুন। আপনি যে লক্ষ্যের পেছনে ছুটছেন, তা সত্যিই আপনার তো? নাকি লোকদেখানো? নিজের মনের কাছে সৎ হোন, জীবনের আসল অর্থ খুঁজে পাবেন।
কুম্ভ: নিঃস্বার্থ সেবায় ব্রতী হোন। রাহু আপনাকে সামাজিক দায়বদ্ধতার কথা মনে করাবে। প্রচারের আলো থেকে দূরে থাকুন। আর্তের পাশে দাঁড়ান।
মীন: নীরবতার শক্তি বুঝুন। শনির প্রভাবে এখন আপনার জীবনে আত্মনিয়ন্ত্রণের পাঠ চলছে। সব কাজ থেকে ছুটি নিয়ে কিছুটা সময় একা কাটান। নিস্তব্ধতাই আপনার মনের জোর বাড়াবে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
মহরমের শোভাযাত্রায় অস্ত্র প্রদর্শনে ‘না’! নিয়ন্ত্রণে তাজিয়ার উচ্চতাও, প্রত্যেক থানাকে নির্দেশ লালবাজারের
-
টাকির বিতর্কিত হোটেল ভাঙার নির্দেশ হাই কোর্টের, কবে শুরু কাজ?
-
থাকবে সাংস্কৃতিক মঞ্চ, ফুড কোর্ট! পুজোর আগেই শেষ হবে কুমোরটুলির ঘাট সংস্কারের কাজ
-
এখনও ফুরিয়ে যাইনি… নিন্দুকদের জবাব দিয়ে বিশ্বকাপে বিশ্বরেকর্ড রোনাল্ডোর
-
ডিজে মামলায় অভিষেকের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করবে সিআইডি! আবেদন মঞ্জুর করল বিধাননগর আদালত