সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: একাধিকবার রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর চেষ্টা করেছেন তিনি। সম্প্রতি দু’দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে দেখাও করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু তাতেও লাভ হয়নি। তাই রাশিয়াকে বাগে আনতে এবার ইউক্রেনের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম দূরপাল্লার টমাহক মিসাইল তুলে দিতে চলেছে আমেরিকা। সূত্র মারফত এমনটাই জানা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ঘুরিয়ে দু’দেশের মধ্যে পরমাণু যুদ্ধতে ইন্ধন দিচ্ছেন। এর ফলে গোটা বিশ্ব ফের প্রত্যক্ষ করতে পারে কিউবা বিপর্যয়ের ভয়ানক সেই দিলগুলি।
আমেরিকার তৈরি ২ হাজার ৫০০ কিলোমিটার পাল্লার টমাহক মিসাইল জাহাজ বা সাবমেরিন থেকে নিক্ষেপ করা হয়। অত্যাধুনিক এই ক্ষেপণাস্ত্রটির বিশেষত্ব হল – এটি খুব বেশি উচ্চতায় ওড়ে না। তাই ব়্যাডারেও ধরা পড়ে না। শুধু তাই নয়, এটি সাধরাণ এবং পারমাণবিক উভয় মিসাইল হিসাবেই ব্যবহার করা যেতে পারে। একএকটি টমাহক মিসাইলের ওজন প্রায় ১.৫ টন এবং একসঙ্গে ৪৫৪ কেজি বিস্ফোরক বহন করতে সক্ষম। প্রতিটি মিসাইলের দাম প্রায় ১.৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধে প্রথম এই টমাহক মিসাইল ব্যবহৃত হয়। পরে ইরাক, আফগানিস্তান, সোমালিয়া, লিবিয়া এবং সিরিয়ার যুদ্ধেও এটির ব্যবহার হয়। সাম্প্রতিক সময়ে হাউথিদের উপর হামলা চালাতে এবং ইরানের পারমাণবিক ঘাঁটিগুলিতে হামলা চালাতে এই ক্ষেপণাস্ত্রটির ব্যবহার করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্প যদি ইউক্রেনের হাতে টমাহক মিসাইল তুলে দেয়, তাহলে ১৯৬২-র কিউবা বিপর্যয়ের ভয়ানক সেই দিনগুলি ফের প্রত্যক্ষ করতে পারে গোটা বিশ্ব, যা একেবারেই সুখকর নয়। রাশিয়ার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট এবং রুশ ফেডারেশনের নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেন, “আমেরিকা ইউক্রেনের হাতে টমাহক মিসাইল তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। আমাদের সকলের জন্য এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। সবচেয়ে সমস্যায় পড়তে পারেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্টই।” যদিও ট্রাম্প জানিয়েছেন, আমেরিকা এই টমাহক মিসাইল সরাসরি ইউক্রেনকে বিক্রি করবে না। তারা ন্যাটোর হাতে তুলে দেবে। ন্যাটে তা ইউক্রেনকে দিতে পারে।
উল্লেখ্য, ১৯৬২ সালে ঠান্ডা লড়াইয়ের সময় আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে একটি বড় সংঘাতের ঘটনা ঘটে। কিউবায় গোপনে সোভিয়েত ইউনিয়ন পারমাণবিক অস্ত্র মজুত করতে থাকে। তাতেই অস্বস্তিতে পড়ে আমেরিকা। কারণ, কিউবা আমেরিকার খুব কাছে অবস্থিত এবং তারা আশঙ্কা করছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন সেগুলি দিয়ে তাদের উপর হামলা চালাতে পারে। এই ঘটনার পরই তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি পালটা কিউবার চারপাশে মার্কিন নৌসেনা পাঠায়। যুদ্ধের একদম কাছাকাছি পৌঁছে যায় দুই দেশ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দু’পক্ষই শান্তিপূর্ণ সমঝোতায় পৌঁছয়। সোভিয়েত ইউনিয়ন কিউবা থেকে পারমাণবিক অস্ত্রগুলি প্রত্যাহার করে নেয়। অন্যদিকে, আমেরিকাও প্রতিশ্রুতি দেয় যে তারা কিউবা আক্রমণ করবে না। গোটা ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে ওই সময় বিশ্বজুড়ে আতঙ্কের পরিস্থিতি তৈরি হয়। যদিও শেষ পর্যন্ত দু’দেশের সংঘাত হয়নি। এই ঘটনাটিই ‘কিউবান মিসাইল ক্রাইসিস’ নামে পরিচিত।
সর্বশেষ খবর
-
পড়ুয়াদের বিনামূল্যে বাস সফর, কর্নাটকের মসনদে বসেই ‘যুব যুগে’র সূচনা শিবকুমারের
-
নতুন হর্ষদ মেহতা, ১৫ লক্ষ কোটির শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারি! জড়িয়ে গেল এলআইসির নামও
-
পাটের জমিতে লুকিয়ে ২ দিন! পুলিশ ভ্যান থেকে ঝাঁপ দিয়ে পলাতক দুষ্কৃতী অবশেষে জালে
-
যৌনগন্ধী মন্তব্য বিতর্ক অতীত, জন্মদিনে প্রেমিকার সঙ্গে মহাকালের দরবারে ‘শাপমোচন’ রণবীরের
-
বিশ্বকাপের আগে মেসির মুকুটে নতুন পালক, প্রথম ফুটবলার হিসাবে জিতলেন এই পুরস্কার