সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: মৃত্যুদণ্ড প্রসঙ্গে ফের চাপে সৌদি আরব। জানা গিয়েছে, সৌদি কর্তৃপক্ষ ২০২৫ সালে ৩৫৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। এক বছরে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দীর সংখ্যার ক্ষেত্রে এটি একটি নতুন রেকর্ড বলে জানা গিয়েছে। মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার নিয়ে সৌদি আরবকে ধারাবাহিক সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলির অভিযোগ, মৃত্যুদণ্ডের অত্যধিক ব্যবহার বিশ্বের কাছে সৌদির আধুনিক ভাবমূর্তি তুলে ধরার চেষ্টার বিরোধী।
বিশ্লেষকরা মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যায় এই বৃদ্ধির জন্য মূলত ‘মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’কে দায়ি করেছে। রিয়াধ সাম্প্রতিক বছরগুলিতে মাদক সংক্রান্ত চোরাকারবারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা শুরু করেছে। এই বিষয়ে, যাদের প্রথমে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল তাদের অনেকেই এখন আইনি প্রক্রিয়ার শেষে এখন দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে এই বছর।
সৌদি সরকারের তথ্য থেকে জানা গিয়েছে, শুধুমাত্র ২০২৫ সালেই মাদক সংক্রান্ত মামলায় ২৪৩ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। এই নিয়ে পর পর দুই বছর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ক্ষেত্রে রেকর্ড করেছে সৌদি। ২০২৪ সালে ৩৩৮ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে সৌদি। ২০২২ সালের শেষে মাদক মামলায় দোষীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা শুরু করে সৌদি। এর আগে প্রায় তিন বছর মাদক মামলায় তিন বছর মৃত্যুদণ্ড বন্ধ ছিল।
মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে, দেশের বিভিন্ন সড়ক এবং সীমান্ত ক্রসিংয়ে পুলিশ চেকপয়েন্টের সংখ্যা বাড়িয়েছে। এর মাধ্যমে মাদক বাজেয়াপ্ত করার পরিমাণ অনেকটা বেড়েছে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি, কয়েক ডজন পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। এই মাদক বিরোধী অভিযানের প্রধান প্রভাব পড়েছে বিদেশীদের উপর।
মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার নিয়ে ধারাবাহিক সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে সৌদি আরব। মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলির দাবি, বিশ্বের কাছে একটি আধুনিক দেশ হিসেবে নিজেদের ভাবমূর্তি তুলে ধরার চেষ্টা বাধা পাচ্ছে এই মৃত্যুদণ্ডে কারণে। একটি উন্মুক্ত, সহনশীল সমাজের ভাবমূর্তি তৈরির ক্ষেত্রে ক্রাউন প্রিন্স মহম্মদ বিন সালমানের ভিশন ২০৩০-এর কাজ ব্যপক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। বলে দাবি করা হয়েছে।
সৌদি আরব তার তেল-নির্ভর অর্থনীতিকে আরও বাড়ানোর চেষ্টায় পর্যটন পরিকাঠামো তৈরির চেষ্টা করছে। পাশাপাশি ২০৩৪ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের মতো ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় প্রচুর অর্থ ব্যয় করছে তাঁরা। তবে দেশের প্রশাসনের দাবি, শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য মৃত্যুদণ্ড প্রয়োজনীয় এবং আপিলের সমস্ত উপায় শেষ হয়ে যাওয়ার পরেই এর ব্যবহার করা হয়।
সর্বশেষ খবর
-
প্রয়াত ‘পদ্মশ্রী’ সাহিত্যিক রবিলাল টুডু, রোগভোগের পর না ফেরার দেশে ‘বীর বীরসা’র স্রষ্টা
-
বিশ্বকাপের আগে ‘অমানবিক’ ফিফা! দর্শকদের ভোগান্তি বাড়তে পারে এই সিদ্ধান্তে
-
দাউদ ইব্রাহিমের হাড়হিম হুমকি, ‘তোর খেলা শেষ’, আইপিএলের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা শোনালেন ললিত
-
ভেঙে খানখান সাধের দল! ‘বিদ্রোহী’দের ফেরাতে জনে জনে ফোন করছেন মমতা
-
গেট খুললেই জুতোর বাড়ি! প্রতারণার অভিযোগে দুর্গাপুরে তৃণমূলের নেতার বাড়ির সামনে ধরনা