রুশ তেল আমদানি ইস্যুতে আমেরিকাকে তুলোধোনা করলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর। ফিনল্যান্ডের একটি সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। সেখানে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে জয়শংকর সাফ জানান, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির মধ্যে কোনও উদারতা নেই। তাই ভারত যদি রুশ তেল কেনে, সেটাকে রাশিয়ার প্রতি পক্ষপাতিত্ব হিসাবে ধরে নেওয়া যায় না। মার্কিন প্রেসিডেন্টের খামখেয়ালিপনাও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন জয়শংকর।
২০২২ থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিমের একাধিক দেশ রুশ তেল আমদানি বন্ধ করে দেয়। যদিও জার্মানির মতো বহু দেশেই রুশ গ্যাস আমদানি এখনও অব্যাহত। রুশ গ্যাস না থাকলে জার্মানি কার্যত অচল হয়ে পড়বে, এমনটাই শোনা যায়। সেসময়ে কমদামে রুশ তেল কেনা শুরু করে ভারত। হুহু করে রুশ তেল আমদানির পরিমাণ বাড়তে থাকে। প্রথম থেকেই এই বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি আমেরিকা। কিন্তু নয়াদিল্লির স্পষ্ট অবস্থান ছিল, জাতীয় স্বার্থের কথা মাথায় রেখে যেখান থেকে তেল আমদানি লাভজনক, সেখান থেকেই তেল কেনা হবে। একাধিক আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই কথা বারবার বলেছেন জয়শংকর থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। মনে করিয়ে দিয়েছেন, ভারতকে সতর্ক করার আগে পশ্চিমি দেশগুলি নিজেরা যেন রুশ পণ্য পুরোপুরি বয়কট করে।
আরও পড়ুন:
নাম না করে জয়শংকরের খোঁচা, রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য ট্রাম্প যেভাবে নৈতিকতাকে ব্যবহার করছেন, সেটা না করাই উচিত। তিনি আরও বলেছেন, যখন আমেরিকার প্রয়োজন, তখন রুশ তেল কিনতে বারণ করা হয়। কিন্তু পরিস্থিতি পালটালে রুশ তেল কিনতে বলা হয়। পুরোটাই নির্ভর করছে মার্কিন সুবিধা-অসুবিধার উপর।
সেই ছবিটা পালটাতে শুরু করে ট্রাম্প প্রেসিডেন্টের কুর্সিতে বসার পর। গতবছর আগস্ট মাসে ভারতীয় পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপান ট্রাম্প, রুশ তেল কেনার ‘অপরাধে’। তারপর স্পষ্ট জানান, তেল বিক্রির অর্থ দিয়ে ইউক্রেনে হত্যালীলা চালাচ্ছে রাশিয়া। সেকারণেই রুশ তেল আমদানিকারী দেশগুলিকে ‘শাস্তি’ দেওয়া হবে। ভারতকে ‘নির্দেশ’ দেন ট্রাম্প, রুশ তেল কেনা বন্ধ করতে হবে। কিন্তু ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয় ইরানের সঙ্গে আমেরিকার যুদ্ধ। তেলের বাজার একেবারে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। সেসময়ে ভারতকে রুশ তেল কেনার ‘অনুমতি’ও দেয় আমেরিকা।
এই গোটা বিষয়ে ট্রাম্পের খামখেয়ালিপনাই প্রমাণ হয় বলে ইঙ্গিতবাহী মন্তব্য করেছেন জয়শংকর। তিনি বলেন, “প্রথমে রুশ তেল কেনার জন্য শুল্ক চাপানো হল। তারপর সেই নিষেধাজ্ঞা তুলেও নেওয়া হল। তাই তেল কেনাবেচার সঙ্গে নৈতিকতা বা মানবাধিকারের মতো বিষয়গুলি অহেতুক জড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়।” নাম না করে জয়শংকরের খোঁচা, রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য ট্রাম্প যেভাবে নৈতিকতাকে ব্যবহার করছেন, সেটা না করাই উচিত। তিনি আরও বলেছেন, যখন আমেরিকার প্রয়োজন, তখন রুশ তেল কিনতে বারণ করা হয়। কিন্তু পরিস্থিতি পালটালে রুশ তেল কিনতে বলা হয়। পুরোটাই নির্ভর করছে মার্কিন সুবিধা-অসুবিধার উপর।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘ইউরোপের তৈরি অস্ত্রে যখন ভারতে হামলা হয়’, রুশ তেল প্রসঙ্গে মুখের উপর জবাব জয়শংকরের
-
বিশ্বকাপ শুরু হতেই ফেসবুকজুড়ে প্রিয় দেশের জার্সি পরা ছবির ঝড়, কীভাবে বানাবেন?
-
বিজেপি কর্মী খুনে অভিযুক্ত, নাম এনআইয়ের মামলাতেও! নন্দীগ্রামে গ্রেপ্তার পলাতক তৃণমূল নেতা
-
গা ছমছমে পরিবেশ! উত্তরাখণ্ডের এই ৪ জায়গা থেকে হাড়হিম অভিজ্ঞতা নিয়ে ফেরেন পর্যটকরা
-
এবার বিমানেই ক্রিকেট শচীনের, ‘আউট করতে পারবে না’, মাঝ আকাশে কাদের চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন?