পাক সেনা ও তাদের মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠনগুলির অত্যাচারে অতিষ্ঠ অধিকৃত কাশ্মীরের জনতা। জনগণের বিদ্রোহ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে গোটা এলাকায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে অন্তত ৬০০ জন সমাজকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আটক হয়েছেন শীর্ষ নেতা সওকত নওয়াজ মীর। এই ঘটনায় ইসলামাবাদকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়েছে জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির (JAAC)। শুধু তাই নয়, পাকিস্তানকে শিক্ষা দিতে ভারতের সাহায্য চেয়েছে সেখানকার জনতা।
জেএএসি-র শীর্ষ নেতা সর্দার আমান খানের একটি ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল হতে শুরু করেছে। যেখানে বিশাল জনতার মাঝে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি, পাক সরকারের দমনপীড়ন, খাদ্যাভাব এবং দুর্দশার কথা তুলে ধরে জম্মু ও কাশ্মীরের মানুষের সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি মেন্ধার, পুঞ্চ, রাজৌরি ওবং ডোডার জনগণের কাছে আবেদন জানাচ্ছি। আমাদের এখানে রেশন ও ওষুধের সংকট চরম আকার নিয়েছে। আপনাদের সাহায্য প্রয়োজন। দয়া করে আমাদের সাহায্যে এগিয়ে আসুন।” কাশ্মীর ও অধিকৃত কাশ্মীরের মধ্যকার সীমান্ত চিরতরে মুছে ফেলার আর্জি জানিয়ে তিনি বলেন, “আসুন আমরা এক হয়ে যাই। পাকিস্তানের শাসক আমাদের দুর্বল ভাবলে ভুল করবে। ওরা যদি মনে করে আমরা এখানে আটকে পড়েছি তবে এটা ওদের ভুল ধারনা।” এরপরই হাজার হাজার জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, “তাহলে আমরা কি এবার নিয়ন্ত্রণরেখার দিকে এগোব?” পালটা উত্তেজিত জনতা স্লোগান দেয়, ‘হ্যাঁ’।
আরও পড়ুন:
কাশ্মীর ও অধিকৃত কাশ্মীরের মধ্যকার সীমান্ত চিরতরে মুছে ফেলার আর্জি জানিয়ে জেএএসি নেতা বলেন, ‘আসুন আমরা এক হয়ে যাই।’
এছাড়াও অধিকৃত কাশ্মীরের মানুষের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে পাকিস্তানের পুলিশের দমনপীড়নের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়ে ওই জেএএসি নেতা বলেন, “যদি আমাদের রাজনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে গুলি চালানো হয়, তবে আমাদের সামনে অন্য পথও খোলা রয়েছে। তার পরিণতি যা হবে তার জন্য ভবিষ্যতে পাকিস্তানকে অনুশোচনা করতে হবে।” অর্থাৎ বার্তা স্পষ্ট, পরিস্থিতি যে পথে যাচ্ছে তাতে স্বাধীন রাষ্ট্র বা ভারতের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার দাবিতে আন্দোলন আরও তীব্র হতে চলেছে অধিকৃত কাশ্মীরে।
উল্লেখ্য, অস্বাভাবিক হারে কর বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি তো ছিলই, তার উপর পাক সরকারের দমনপীড়নে অতিষ্ঠ পাক অধিকৃত কাশ্মীরের জনতা। পাক সরকারের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ নিয়ে টানা প্রতিবাদ মিছিল করছে জম্মু ও কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি। প্রতিবাদ রুখতে বিভিন্ন জায়গায় পাক রেঞ্জার্স ও পুলিশবাহিনী মোতায়েন করেছে সরকার। লস্কর-সহ একাধিক জঙ্গি সংগঠনকে ব্যবহার করা হচ্ছে বিক্ষোভ থামাতে। চলছে নৃশংস অত্যাচার, গুম খুন। এরই প্রতিবাদে আন্দোলন তীব্র করার হুঁশিয়ারির পাশাপাশি এবার ভারতের সাহায্য চাইল অধিকৃত কাশ্মীরের জনতা।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
টোটোতে অ্যাম্বুল্যান্সের ধাক্কা, চালকের হাত কেটে পড়ে গেল রাস্তায়! ভয়ংকর কাণ্ড দুর্গাপুরে
-
বদ্রীনাথে অনুদান চুরির তদন্তে চার সদস্যের কমিটি, সাত দিনের মধ্যে রিপোর্ট তলব
-
বাথরুমে লুকিয়ে দাড়ি কাটছেন স্ত্রী! ৩ বছর সংসারের পর এ দৃশ্যে স্তম্ভিত স্বামী, তারপর…
-
বারুইপুরের নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা মমতার, বাড়ির সামনে পুলিশ মোতায়েন নিয়ে ক্ষোভ
-
কেন বাতিল হল অন্নপূর্ণার আবেদন? খতিয়ে দেখতে বাড়ি বাড়ি যাবেন সরকারি কর্মীরা, আশ্বাস মন্ত্রীর