প্রথম বিশ্বের দেশে বৈষম্যের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ! ‘ভারতীয় তাড়াও’ রব উঠল আয়ারল্যান্ডে। সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল একটিমাত্র ছবিতে ভারতীয় বিদ্বেষের আগুন ছড়াল সে দেশে। যা নিয়ে চলছে তীব্র সমালোচনা। আয়ারল্যান্ডে পড়াশোনা করতে যাওয়া ভারতীয় পড়ুয়াদের বেশিরভাগ নির্ভরশীল বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ফুডব্যাঙ্কের উপর। আর সেখানে দীর্ঘ লাইন দেখেই কার্যত তেতে উঠেছেন আইরিশরা। ভারচুয়াল মাধ্যমে তা নিয়ে কটাক্ষের শেষ তো নেইই। স্পষ্ট দাবি তোলা হচ্ছে, ভারতীয়দের ঘাড়ধাক্কা দিয়ে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হোক। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেন তাঁদের সুযোগ না দেয়।

আরও পড়ুন:
অশান্তির সূত্রপাত একটিমাত্র ছবি ঘিরে। তাতে দেখা যাচ্ছে, গালওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্যান্ট্রি অর্থাৎ খাবার সরবরাহের কাউন্টারের সামনে দীর্ঘ লাইন পড়ুয়াদের। তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগ এশিয়ার। আরও ভালোভাবে দেখলে বোঝা যায়, বেশিরভাগ ভারতীয় পড়ুয়া। পড়াশোনা শেষে তাঁরা খাবারের লাইনে দাঁড়িয়েছেন। এখানকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে তুলনায় সস্তায় খাবার মেলে। আয়ারল্যান্ডের মতো ধনী দেশে উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি নিজেদের খাবার জোটাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপরই নির্ভর করেন পড়ুয়ারা। বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ছাত্র সংগঠনের উদ্যোগে খাবার বিলি করা হয় পড়ুয়াদের মধ্যেই। আর তা নিতে লাইনে দাঁড়ানোর ওই ছবিও স্বাভাবিক।
কিন্তু ওই ছবি ঘিরেই দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ল বৈষম্যের স্ফুলিঙ্গ। আইরিশদের একেকজনের একেক রকম বক্তব্য। কেউ লিখছেন, ‘লটারির মাধ্যমে এই সুযোগ পাওয়া উচিত’। কারও মন্তব্য, ‘ভারতীয়দের উচিত ছিল এদেশে পড়তে আসার আগে দৈনিক জীবনযাপনে স্বনির্ভর হওয়ার ব্যবস্থা করা।’ জনৈক নেটিজেন বিস্ময়প্রকাশ করে এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘এ তো শুধুই ভারতীয়দের লাইন! আর কোনও বিদেশি পড়ুয়াকে দেখা যাচ্ছে না তো!’ আরও একধাপ এগিয়ে আরেকজনের বাঁকা মন্তব্য, ‘অভিবাসীরা স্বভাবজাত চোর। অর্থ হোক বা খাবার, নিজেদের কাছে প্রচুর থাকা সত্ত্বেও হাতিয়ে নেয়।’

সময় যত গড়িয়েছে, তত ভারতীয় বিদ্বেষ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। সোশাল মিডিয়ার ওই ছবিতে কেউ কেউ সরাসরি দাবি তুলেছেন, ‘এবার ভারতীয়দের তাড়ান। যারা আমাদের নিজেদের লোক নয়, তাদের চাই না। এটা আমাদের সন্তানদের জন্য উদ্বেগের।’ আরেকজন লিখেছেন, ‘এদেশের সমস্ত পরিষেবা লুটছে অভিবাসীরা। এভাবে আমাদের বিশ্বাসভঙ্গ করছে।’ আয়ারল্যান্ডের মতো ধনী দেশে নাকি এই মুহূর্তে কিছুটা টানাটানির মধ্যে রয়েছে। নিজেদেরই জীবনধারণের খরচ জোগাতে হিমশিম দশা। তার উপর পড়াশোনা করতে আসা বিদেশি পডুয়ারা যদি রাষ্ট্রীয় পরিষেবার সুযোগ পায়, তাহলে দেশবাসীর প্রাপ্তি কোপ পড়ছে বলে মনে করছেন তাঁরা। আর সেটাই বিদেশি বিতাড়নের মূল কারণ।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
বন্ধ ‘থ্রেট কালচার’, অভয়া কাণ্ডে যুক্তদের সাজা, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসে আর কী অঙ্গীকার শারদ্বতের?
-
ঋতব্রতর শিবিরে ফিরহাদ? তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের শক্তি বাড়াতে চর্চায় প্রাক্তন মেয়রের ভূমিকা
-
বাদশার কাঁধে মাথা পাক অভিনেত্রীর! নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও জোট বাঁধছেন র্যাপার?
-
‘না চাইলেও অভিষেককে সেনাপতির সম্মান দিয়েছি’, শুভেন্দুর প্রশংসা করে বিজেপি যোগের ইচ্ছাপ্রকাশ সৌমেনের
-
ওমানের কাছে বাণিজ্যতরীতে হামলায় এখনও নিখোঁজ তিন ভারতীয়, জানাল কেন্দ্র