Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • মঙ্গলবার
  • ৯ জুন ২০২৬
Pakistan

বাবরি মসজিদ হল জৈন মন্দির চক, জাফর বদলে লক্ষ্মী! পাকিস্তানের একগুচ্ছ স্থানের নামে ‘হিন্দু ছোঁয়া’

গত মার্চ মাসে এক বৈঠক ডেকেছিলেন পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মারিয়ম নওয়াজ। সেখানেই তিনি সিদ্ধান্ত নেন লাহোরের পুরনো ইতিহাস সংরক্ষণ করতে হবে। সেই লক্ষ্যেই নেওয়া অভিনব উদ্যোগ।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ১৭, ২০২৬, ২১:০৯

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ১৭, ২০২৬, ২১:০৯

options
link
বাবরি মসজিদ হল জৈন মন্দির চক, জাফর বদলে লক্ষ্মী! পাকিস্তানের একগুচ্ছ স্থানের নামে ‘হিন্দু ছোঁয়া’ zoom
হিন্দু অধ্যুষিত লাহোরের একাধিক জায়গার পুরনো নাম ফিরিয়ে আনল সেখানকার সরকার।

ছিল বাবরি মসজিদ চক হল জৈন মন্দির চক, ইসলামপুর হল কৃষ্ণনগর। কিংবা, সুন্নত নগরের নাম বদলে হল সন্ত নগর। এই ঘটনা উত্তর প্রদেশ বা বিজেপি শাসিত কোনও রাজ্যের নয়, বরং ভারতের প্রতিবেশী মুসলিম শাসিত পাকিস্তানের। একদা হিন্দু অধ্যুষিত লাহোরের একাধিক জায়গার পুরনো নাম ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেখানকার সরকার। স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনা শোরগোল ফেলে দিয়েছে দিয়েছে পাকভূমে।

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের অন্তর্গত লাহোর। দেশভাগের আগে এই অঞ্চল ছিল হিন্দু অধ্যুষিত। ফলে এখানকার কার্যত সমস্ত জায়গার নামে ছিল হিন্দুত্বের ছোঁয়া। তবে জিন্নার নয়া দেশে একে একে বদলে ফেলা হয় সেখানকার নাম। তবে স্বাধীনতার ৭৮ বছর পর লাহোরের ঐতিহাসিক ঐতিহ্য ফেরাতে অভিনব উদ্যোগ নিল পাকিস্তানের পাঞ্জাব সরকার। জানা যাচ্ছে, লাহোরের অতীত নাম ফিরিয়ে আনার এই উদ্যোগের নেপথ্যে রয়েছেন পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মারিয়ম নওয়াজ।

Advertisement

দেশভাগের আগে লাহোর ছিল হিন্দু অধ্যুষিত। এখানকার কার্যত সমস্ত জায়গার নামে ছিল হিন্দুত্বের ছোঁয়া। তবে জিন্নার নয়া দেশে একে একে বদলে ফেলা হয় সেখানকার নাম।

গত মার্চ মাসে এক বৈঠক ডেকেছিলেন মারিয়ম। সেখানেই তিনি সিদ্ধান্ত নেন লাহোরের পুরনো ইতিহাস সংরক্ষণ করতে হবে। সেই লক্ষ্যেই নেওয়া অভিনব উদ্যোগ। তার মাধ্যমেই পাঞ্জাব প্রদেশের একাধিক জায়গার অতীত হিন্দু নাম ফিরিয়ে আনা হয়। যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি নামবদল করা হয় লাহোরের বহু জায়গা ও রাস্তাঘাটের।

মুস্তফাবাদের নাম মুছে নতুন নাম রাখা হয়েছে ধর্মপুরা।

যে সব জায়গার নামবদল করা হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, ইসলামপুরের নাম বদলে রাখা হয়েছে কৃষ্ণনগর, সুন্নতনগর হয়েছে সন্তনগর, মৌলানা জাফর চকের নতুন নাম রাখা হয়েছে লক্ষ্মী চক, বাবরি মসজিদ চকের নাম বদলে হয়েছে জৈন মন্দির চক, মুস্তফাবাদ হয়েছে ধর্মপুরা। এখানেই শেষ নয়, স্যার আগা খান চকের পরিবর্তে নাম রাখা হয়েছে ডেভিস রোড, আল্লামা ইকবাল রোড হয়েছে জেল রোড, ফতিমা জিন্না রোড বদলে হয়েছে কুইন রোড, বাঘ-ই-জিন্না রাস্তার নতুন নাম হয়েছে লরেন্স রোড।

বাবরি মসজিদ চকের নাম বদলে রাখা হয়েছে জৈন মন্দির চক।

ঐতিহাসিকদের মতে দেশভাগের পর ধাপে ধাপে লাহোরের বহু জায়গার নামবদল করা হচ্ছিল। তবে ব্যাপক পরিসরে নামবদল করা হয় বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর। কার্যত সমস্ত হিন্দু জায়গার নাম বদলে মুসলিম নামে রাখা হয়। এই কাজের নেপথ্যে ছিল নওয়াজ শরিফ, বেনজির ভুট্টো এবং পারভেজ মুশারফের সরকার। তবে এবার পুরনো নামের প্রত্যাবর্তনে মৌলবাদীদের তরফে এখনও কোনও কড়া প্রতিক্রিয়া সামনে না এলেও, আশঙ্কা করা হচ্ছে এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হতে পারে সেখানকার কট্টরপন্থীরা।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.