Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • সোমবার
  • ৮ জুন ২০২৬
Faroe Islands

সমুদ্রতটে ৭০০ ডলফিন ও তিমির লাশ! উৎসবের নামে নৃশংস হত্যালীলা, নিন্দায় সরব বিশ্ব

গত ২৭ মে ফারো দ্বীপে পালিত হয়েছিল মৃত্যুর এই নারকীয় উৎসব। 'দ্য গ্রাইন্ড' চলাকালীন সমুদ্র থেকে প্রায় ৭০০ তিমি ও ডলফিন ধরে সেগুলিকে জালের মাধ্যমে নৌকোয় তীরে টেনে আনা হয়। হত্যাকাণ্ড চাক্ষুষ করতে বিপুল সংখ্যায় মানুষ জড়ো হন সমুদ্রতটে।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ৭, ২০২৬, ২১:১৫

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ৭, ২০২৬, ২১:১৫

options
link
সমুদ্রতটে ৭০০ ডলফিন ও তিমির লাশ! উৎসবের নামে নৃশংস হত্যালীলা, নিন্দায় সরব বিশ্ব zoom

সমুদ্রতটে বিছিয়ে রয়েছে শয়ে শয়ে ডলফিন ও তিমির মৃতদেহ। রক্তে লাল হয়ে রয়েছে সমুদ্র। নারকীয় সেই দৃশ্য দেখতে বড়দের পাশাপাশি ভিড় জমিয়েছে কচিকাচার দলও। ছুরির কোপে অসহায় প্রাণীগুলিকে ছটফট করতে দেখে বিকৃত উল্লাস করছে একদল মানুষ। হাজার বছরের রীতি পালনের নামে সীমাহীন নৃশংসতার এই দৃশ্য ফের দেখা গেল ডেনমার্কের ফারো দ্বীপে। ভাইকিং জমানার ‘দ্য গ্রাইন্ড’ উৎসবের সেই ছবি প্রকাশ্যে আসতেই নিন্দায় মুখর হয়েছে বিশ্ব। অবিলম্বে এই গণহত্যা বন্ধের আর্জি জানানো হয়েছে সেখানকার সরকারের কাছে।

জানা যাচ্ছে, গত ২৭ মে ফারো দ্বীপে পালিত হয়েছিল মৃত্যুর এই নারকীয় উৎসব। ‘দ্য গ্রাইন্ড’ চলাকালীন সমুদ্র থেকে প্রায় ৭০০ তিমি ও ডলফিন ধরে সেগুলিকে জালের মাধ্যমে নৌকোয় তীরে টেনে আনা হয়। হত্যাকাণ্ড চাক্ষুষ করতে বিপুল সংখ্যায় মানুষ জড়ো হন সমুদ্রতটে। এরপর একদল মানুষ ছুরি হাতে নেমে পড়েন অগভীর জলে। জীবন্ত অবস্থায় ছুরির কোপে খণ্ড খণ্ড করা হয় প্রাণীগুলিকে। নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জেরে রক্তে লাল হয়ে ওঠে সমুদ্র। এরপর সমুদ্রতটে বিছিয়ে রাখা হয় মৃত প্রাণীদের দেহগুলি। ভয়ংকর এই দৃশ্য সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই নিন্দার ঝড় উঠেছে বিশ্বজুড়ে।

Advertisement

একদল মানুষ ছুরি হাতে নেমে পড়েন অগভীর জলে। জীবন্ত অবস্থায় ছুরির কোপে খণ্ড খণ্ড করা হয় প্রাণীগুলিকে। নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জেরে রক্তে লাল হয়ে ওঠে সমুদ্র।

স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘সি শেফার্ড ফর গ্লোবাল মেরিন কনজারভেশন’-এর পরিচালক ভ্যালেন্টিনা ক্রাস্ট বলেন, তিনি বহুবার ইউরোপীয় সরকারগুলির কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন এই নারকীয় অনুষ্ঠান বন্ধ করার জন্য। যদিও চিরাচরিত এই প্রথা বন্ধের কোনও উদ্যোগ নেয়নি। একাধিক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ‘দ্য গ্রাইন্ড’ চলাকালীন অন্তত ৪০২টি তিমি ও ৩০০ ডলফিনকে হত্যা করা হয়েছে। পশুপ্রেমী সংস্থা ‘পেটা’র প্রেসিডেন্ট অ্যালিসা অ্যালেন বলেন, “এটা ভয়ংকর নিষ্ঠুরতার উৎসব। এই প্রাণীগুলি তাদের পরিবারের সঙ্গে সমুদ্রে ঘুরে বেড়ায়। এদের পুরো পরিবারকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।” ফারো দ্বীপপুঞ্জের প্রশাসনের অবশ্য দাবি, ”এই উৎসব চলাকালীন পরিবেশগত বিষয়গুলিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাদের দাবি, উত্তর আটলান্টিকে ডলফিন ও তিমির সংখ্যা যথেষ্ট বেশি।”

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, উৎসব চলাকালীন স্কটল্যান্ড থেকে ২০০ মাইল উত্তরে টরসভনে হত্যা করা হয়েছে ৪০২টি পাইলট তিমিকে। ১৬৮টি হোয়াইট সিডেড ডলফিন মারা হয়েছে স্কালাবোটনুরে। হাভালভিকে মারা হয়েছে আরও ১৩২টি একই প্রজাতির ডলফিন। সবমিলিয়ে এই হত্যাযজ্ঞে প্রাণ গিয়েছে ৭০৬টি প্রাণীর। উল্লেখ্য, ফারো দ্বীপপুঞ্জের এই মৃত্যু উৎসব পালিত হচ্ছে হাজার বছর আগে ভাইকিং জমানা থেকে। স্বেচ্ছাসেবীদের দাবি, আজকের পৃথিবীতে এর উৎসব পালনের কোনও প্রয়োজন নেই। অন্যদিকে ফারো দ্বীপপুঞ্জের সংসদও তাদের প্রাণী সুরক্ষা আইন সংশোধন করে ডলফিনদের সংরক্ষনের আইন বাতিল করেছে। যার জেরে প্রতিবছর মরতে হচ্ছে হাজার হাজার ডলফিন ও তিমিকে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.