তিব্বত থেকে ধেয়ে আসা হড়পা বানে তছনছ নেপাল। বুধবার সকাল ৯টা নাগাদ ভোটেকোশী নদীর জলস্তর ভয়ংকরভাবে বেড়ে গিয়ে ভেসে গেল রসুয়া জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা। জলের নিচে চলে গেল গ্রামের পর গ্রাম। ভেসে গিয়েছে বহু বাড়ি-ঘর, সেতু, যানবাহন। তিব্বত সিমান্তবর্তী তিমুরে দায়িত্বে থাকা ৯ পুলিশকর্মী নিখোঁজ হয়েছেন। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে উদ্ধারকাজে নামানো হয়েছে হেলিকপ্টার। বিপর্যয়ে বহু মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত ৮ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে বলে খবর।
জানা যাচ্ছে, এই বিপর্যয়ের সূত্রপাত তিব্বতে। আকস্মিক বন্যার জেরে রীতিমতো ধ্বংসযজ্ঞ চলে রসুয়া জেলায়। ঘটনার সময় তিমুর সীমান্তে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বহু পুলিশকর্মী এই হড়পা বানের কবলে পড়েন। আধিকারিকদের মতে, ঘটনার পর সীমান্ত চৌকি থেকে ২৫-৩০ জনকে উদ্ধার করা হলেও ৯ জনের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। তারা কী অবস্থায় রয়েছে তা এখনও স্পষ্ট অন্য। ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে উদ্ধারকাজ। এদিকে প্রবল জলের তোড়ে তিমুর ও স্যাফ্রুবেসি এলাকায় বহু ঘরবাড়ি, যানবাহন ভেসে গিয়েছে। একটি সেতুও ভেসে গিয়েছে জলের তোড়ে।
আরও পড়ুন:
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ রসুয়ার বন্যা কবলিত এলাকায় উদ্ধারকাজ শুরু করতে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও উদ্ধারকারী দলকে নির্দেশ দিয়েছেন।
গুরুতর এই পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধারকাজে নেমেছে প্রশাসন। নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুগলিন এলাকা-সহ ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ রসুয়ার বন্যা কবলিত এলাকায় উদ্ধারকাজ শুরু করতে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও উদ্ধারকারী দলকে নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যান্য জেলা থেকেও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা কর্মী পাঠানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসক দল, স্কাউট, রেড ক্রস এই বিপর্যয় মোকাবিলায় নেমে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে অতিরিক্ত অ্যাম্বুল্যান্স ও চিকিৎসাকর্মীদের পাঠানো হচ্ছে।
VIDEO | Nepal: Devastating flash flood causes major damage to markets and hydropower projects in Rasuwa region. More details are awaited.#NepalNews #NepalFlashFlood
(Source: Third Party)
(Full video available on PTI Videos – https://t.co/d8jp61yd2p) pic.twitter.com/QQmU1advuw
— Press Trust of India (@PTI_News) August 26, 2026
উল্লেখ্য, ভোটেকোশী নদী তিব্বত থেকে উৎপন্ন হয়ে নেপালে প্রবেশ করেছে। এখানে সুনকোশী নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। পরে এই নদী সপ্তকোশী নদীতে পরিণত হয়ে ভারতের বিহারে প্রবেশ করেছে। গত বছর এই ভোটেকোশী নদীতে বন্যার জেরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল নেপালে। যার জেরে ৯ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি নিখোঁজ হন ২৪ জন। নেপাল ও চিনের সংযোগকারী মৈত্রী সেতু ভেসে যায় বন্যায়।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
বিধ্বস্ত নেপালে নিখোঁজ ১০৫ ভারতীয়-সহ ৪০০ কৈলাসযাত্রী! উত্তরপ্রদেশ-বিহার সীমান্তে সতর্কতা
-
বীরভূমে ট্রেন্ডিং ‘কাজল মডেল’, অনাস্থার আগেই রাজনগরে পঞ্চায়েত সভাপতির পদত্যাগ অনুব্রত ঘনিষ্ঠর!
-
ফের বিতর্কে সিএবি, স্বার্থের সংঘাতের ‘ফাঁসে’ বাংলার বোর্ড আম্পায়ার
-
‘পুরো বন্দে মাতরম গাওয়া হবে না কর্নাটকে’, কেন্দ্রের নির্দেশ উড়িয়ে ঘোষণা শিবকুমারের
-
সিআইএ-র সতর্কবার্তা শোনেননি, নেতানিয়াহুর টোপ গিলেই ইরানে জোর ফেঁসেছেন ট্রাম্প!