উত্তর মেরুর সবচেয়ে দর্শনীয় মেরু ভাল্লুকদের দেখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ঘুমন্ত প্রাণীদের দেখে আর কী হবে? তাদের চলাফেরা, শিকার, খাওয়াদাওয়া – এসব দেখতে না পারলে তো মজাই নেই! তাই উত্তেজনার চোটে জোরে হর্ন বাজিয়ে দিয়েছিলেন এক ব্যক্তি, যাতে মেরু ভাল্লুকের ঘুম ভেঙে যায়। কিন্তু বিনোদনের জন্য নিজের কৃতকর্মের ফল যে এভাবে ভুগতে হবে, তা ভাবতেও পারেননি ওই ব্যক্তি। যা ঘটল, তা বোধহয় জীবনেও ভুলবে না তিনি। মেরু ভাল্লুকের ঘুম ভাঙিয়ে বিধিভঙ্গ করে মোটা অঙ্কের জরিমানা দিতে হল, ভারতীয় মুদ্রায় তা ৫ লক্ষেরও বেশি! বার্তা একটাই, কাউকে তার নিজের জীবন যাপনে বিরক্ত করাটা অপরাধ। তা মনে রেখেই যেন ভবিষ্যতে কাজ করা হয়।
ঘটনাটি ঘটেছে নরওয়ের স্ভালবাদে। জাহাজে যাওয়ার সময়ে কুয়াশায় কিছু দেখতে পাচ্ছিলেন না এক ব্যক্তি। এসব এলাকায় সতর্কতার জন্য ব্যবহৃত হয় ফগহর্ন, যার শব্দের তীব্রতা অনেক বেশি। আওয়াজ অনেক দূর পর্যন্ত শোনা যায়। উত্তর মেরু থেকে প্রায় হাজার কিলোমিটার দূরে উত্তর-পশ্চিম নরওয়ের দিকে সেই ফগহর্ন বাজিয়ে দেন ওই ব্যক্তি। তাতে একটি মেরু ভাল্লুকের ঘুম ভেঙে যায়। ব্যস! আর যান কোথায়? সঙ্গে সঙ্গে শব্দ চলে যায় স্থানীয় প্রশাসনের কানে। মেরু ভাল্লুকের ঘুম ভাঙার খবরও পায় তারা। তারপরই ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কড়া ‘অ্যাকশন’। স্ভালবাদ প্রশাসন ওই ব্যক্তির থেকে জরিমানা বাবদ গুনে গুনে আদায় করেছে ৫০ হাজার ক্রোনার, ভারতীয় মুদ্রায় যা ৫ লক্ষ ৩ হাজার ৩৯৭ টাকা! অঙ্কটা দেখে মাথা ঘুরছে তো? স্বাভাবিক। প্রাণীর ঘুম ভাঙানোয় এত কঠিন শাস্তি! এ যে প্রায় ভাবনার বাইরে।
আরও পড়ুন:
খবরটা শুনে আমার-আপনার চরম বিস্ময়ের উদ্রেগ হতেই পারে। কিন্তু নরওয়ের মতো উন্নত দেশে নিয়মশৃঙ্খলার বিষয়টি অত্যন্ত কঠোর। এখানে নিয়ম মানে নিয়মই। তার সামান্য বিচ্যুতিতে কড়া শাস্তি হবেই। স্ভালবাদে ১৯৭২ সাল থেকে নিয়ম আছে, ‘কোনওরকমভাবে মেরু ভাল্লুকদের আকর্ষণ করার জন্য তাদের বিরক্ত করা যাবে না।’ উত্তর মেরুতে এই মুহূর্তে ২৫০ মেরু ভাল্লুক আছে। উষ্ণায়নের যুগে তাদের বাঁচিয়ে রাখাটা রীতিমতো চ্যালেঞ্জের। ফলে এখন নিয়মবিধি আরও কড়া। স্ভালবাদের গভর্নর লার্স ফস এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ওই জাহাজটি মেরু অঞ্চলের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় একটি ঘুমন্ত মেরু ভাল্লুককে দেখে। তারা হর্ন বাজিয়ে সেখান থেকে চলে যায়। কিন্তু এটি গর্হিত অপরাধ। তাই জাহাজটি ট্র্যাক করে ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তাঁকে জানানো হয় কী অপরাধ করেছেন তিনি। সব শুনে নিজের দোষ স্বীকার করে মোটা অঙ্কের জরিমানা দেন ওই ব্যক্তি।
এ এক শিক্ষা বটে! আজকের জেট যুগে জীবন যখন ‘আমি’ কেন্দ্রিক, স্বার্থপরতার ঘেরাটোপে ক্রমশ ঢুকে যাওয়া, তখন প্রকৃতি আর প্রকৃতির অন্যান্য সৃষ্টির প্রতি নরওয়ের এই দায়বদ্ধতা শিক্ষণীয়। নইলে মানুষের অত্যাচার থেকে মেরু ভাল্লুককে বাঁচাতে এমন কঠোর পদক্ষেপের কথা ক’দেশের প্রশাসনই বা ভেবেছে? আরও এক বার্তাও আছে অবশ্য। জীবনযাপন আঁকড়ে থাকার অধিকার যতটা মানুষের, ততটাই অন্য প্রাণীদেরও। তাদের সেই রোজকার জীবনে ব্যাঘাত ঘটানো অপরাধ হিসেবেই গণ্য হয়।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ভরা মঞ্চে মোদির বাচনভঙ্গি নকল, কমেডিয়ানকে সমর্থন করতেই রাহুলকে তোপ ‘লক্ষ্মণ’ সুনীলের
-
রাজ্যে হবে ‘বনতারা’! শিল্প সম্ভাবনা উসকে মুম্বইয়ে আম্বানির সঙ্গে বৈঠক করলেন শুভেন্দু
-
বদলে যাবে উত্তরের পর্যটন, উদ্বোধনের আগেই ভাইরাল মূর্তি নদীর উপর তৈরি নয়া ব্রিজ
-
ইস্ট-মোহন ভক্তদের জন্য সুখবর, এবার খুব সহজেই বিনামূল্যে দেখা যাবে আইএসএল
-
দিল্লিতে পুলিশ সেজে নাবালিকাকে গণধর্ষণ! ইসকনের মন্দিরে পুজো দিয়ে বেরতেই বন্ধুকে আটকে রেখে চলল নির্যাতন