প্যালেস্টাইনের বন্দিদের জন্য ইজরায়েলের জেলখানা ছিল নরকের সমান। অকথ্য নির্যাতনের পাশাপাশি জেলে বন্দিদের যৌন নির্যাতন এমনকী ধর্ষণ করত ইজরায়েলের সেনা আধিকারিক ও মহিলা নিরাপত্তারক্ষীরা! সম্প্রতি জেল থেকে মুক্তি পাওয়া বেশ কয়েকজন বন্দির ভয়ংকর সেই অভিজ্ঞতার তথ্যচিত্র প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। ‘বডিজ অফ এভিডেন্স: ইসরায়েল’স ডার্কেস্ট ওয়েপন’ নামের সেই তথ্যচিত্র সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে গোটা বিশ্বে।
ইজরায়েলের জেলে দীর্ঘদিন বন্দি থাকা প্যালেস্টাইনের দুই যুবক আল-বাকরি ও জব (নাম পরিবর্তিত) সংবাদমাধ্যমের সামনে ভয়ংকর সেই অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছে। ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসের ভয়ংকর সেই অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে আল-বাকরি বলেন, ইদের দিনে তাঁকে এবং আরও ৭ বন্দিকে নগ্ন করে চোখ, হাত-পা বেঁধে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করানো হয়। এরপর শুরু হয় যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণ। সেই নৃশংসতায় যোগ দিত ইজরায়েলের মহিলা কারারক্ষীরাও। আল-বাকরির কথায়, “তীব্র যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে আমরা তখন ঈশ্বরকে ডাকছিলাম। আর ওরা সেই দৃশ্য দেখে অট্টহাসি হাসছিল ও ভিডিও করছিল।” এখানেই শেষ নয় অভিযোগ, “জেলে বন্দিদের নগ্ন করে শুইয়ে দেওয়া হত। এরপর কুকুর লেলিয়ে দিত আধিকারিকরা। বন্দিদের যৌনাঙ্গ কামড়ে ক্ষতবিক্ষত করত হিংস্র কুকুর। সেই দৃশ্য উপভোগ করত ইজরায়েলের সেনা।”
আরও পড়ুন:
আল-বাকরি বলেন, ইদের দিনে তাঁকে এবং আরও ৭ বন্দিকে নগ্ন করে চোখ, হাত-পা বেঁধে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করানো হয়। এরপর শুরু হয় যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণ। সেই নৃশংসতায় যোগ দিত ইজরায়েলের মহিলা কারারক্ষীরাও।
গাজার এক নাগরিক জব বলেন, “ইজরায়েলের জেলে বন্দি থাকাকালীন একদিন এক মহিলা সেনা আধিকারিক আমার ঘরে ঢোকেন। এরপর আমার হাত-পা বেঁধে কৃত্রিম অঙ্গ দিয়ে দীর্ঘক্ষণ ধরে যৌন নির্যাতন চালানো হয়। পাশে দাঁড়িয়ে অন্যান্য সেনা আধিকারিকরা এই দৃশ্য দেখে হাততালি দিতে থাকেন এবং গোটা ঘটনার ভিডিও রেকর্ড করেন। অসহ্য যন্ত্রণায় চিৎকার করছিলাম আমি।” মানবিক সংস্থাগুলির মতে, ইজরায়েলের জেলবন্দিদের সঙ্গে এই ধরনের নৃশংসতা নতুন নয়, তবে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে তা বহুগুণ বেড়ে যায়। বহু তথ্য প্রমাণ সামনে আসার পর ২০২৫ সালের মার্চে রাষ্ট্রসংঘ যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে যৌন হিংসার জন্য ইজরায়েলকে কালো তালিকাভুক্ত করে।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে নেগেভ মরুভূমির একটি ক্যাম্পে প্যালেস্তিনীয় বন্দিকে ইজরায়েল সেনার গণধর্ষণের একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আসে। এরপর মুখরক্ষায় ১০ নিরাপত্তারক্ষীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে ইজরায়েলের ডানপন্থী সংগঠন ও আইন প্রণেতারা জেলে হামলা চালিয়ে তাঁদের মুক্ত করে। পরে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, ভিডিও ফাঁস করার ‘অপরাধে’ ইজরায়েলের মেজর জেনারেল ইয়েফাত তোমের ইয়েরুশালমিকে গ্রেপ্তার করা হয়। খোদ প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এই ভিডিও ফাঁসকে ইজরায়েলের ইতিহাসের গুরুতর অপরাধ বলে উল্লেখ করেন।
শুধু তাই নয়, ইজরায়েলের এই নারকীয়তায় সেখানকার রাজনৈতিক নেতাদেরও পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ইজরায়েলের সংসদে প্রশ্ন উঠেছিল বন্দিদের ধর্ষণ করা কি আইনত বৈধ? উত্তরে নেতানিয়াহুর দলের সদস্য হানোখ মিলভিদস্কি চিৎকার করে বলেছিলেন, “হ্যাঁ, যদি সে হামাস যোদ্ধা হয়, তাহলে তার সঙ্গে যা খুশি করা আইনসম্মত, সবকিছুই।” রাষ্ট্রসংঘের দূত ফ্রান্সেসকা আলবানিজের মতে, “যেকোনও গণহত্যা বা নিপীড়নকে ন্যায্যতা দিতে এই ধরনের অমানবিক ভাষা ব্যবহার করা হয়। যাতে এটা দেখানো যায় যে ভুক্তভোগীরা আসলে পশুর সমতুল্য।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘না চাইলেও অভিষেককে সেনাপতির সম্মান দিয়েছি’, শুভেন্দুর প্রশংসা করে বিজেপি যোগের ইচ্ছাপ্রকাশ সৌমেনের
-
ওমানের কাছে বাণিজ্যতরীতে হামলায় এখনও নিখোঁজ তিন ভারতীয়, জানাল কেন্দ্র
-
আলিপুরে সরকারি অফিসে ভয়ংকর অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে ষড়যন্ত্র! দায়ের এফআইআর
-
এক যাত্রায় পৃথক ফল! তথ্যগোপনে কংগ্রেসের রাজ্যসভার প্রার্থীপদ খারিজ, বহাল রইলেন এনডিএ প্রার্থী
-
দিঘা জগন্নাথ মন্দির থেকে সরল ‘ধাম’, ‘আগেই বলেছিলাম, শোনা হয়নি’, শুভেন্দুর পাশে রাজেশ দৈতাপতি