লাগাতার মার্কিন হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আমেরিকার ঘাঁটিগুলিতে হামলা চালাচ্ছে ইরান। এই অবস্থায় দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেসকিয়ান জানিয়ে দিলেন, বর্তমানে পুরোদমে যুদ্ধ চলছে। দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে। এইসঙ্গে তিনি আমেরিকাকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তেহরান তার অধিকার, স্বার্থ বা নীতি থেকে সরে আসবে না।
রবিবার একটি জনসভায় পেজেসকিয়ান বলেন, এখন আর কেবল ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্যে আটকে নেই যুদ্ধ। আরও বলেন, এতদিনে স্পষ্ট যে সামরিক অভিযান চালিয়ে ইরানকে নতি স্বীকার করানো যাবে না। ইরানের প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেছেন, ওয়াশিংটনের ক্রমবর্ধমান চাপ সত্ত্বেও ইরান তার জাতীয় অবস্থান থেকে সরবে না। আমেরিকার সঙ্গে লাগাতার যুদ্ধের মধ্যে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার বার্তা দিয়েছেন পেজেসকিয়ান। তিনি বলেন, “আজ আমাদের আগের চেয়েও বেশি ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সংহতি এবং সম্মিলিত প্রজ্ঞার উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।”
এদিকে একাধিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, রবিবার কুয়েতের ‘আল-সুবিয়া’ তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং জলশোধনাগারে হামলা চালায় ইরান। আছড়ে পড়ে একের পর এক ড্রোন। এর জেরেই তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং জলশোধনাগারটিতে ভয়াবহ আগুন লেগে যায়। কালো ধোঁয়ায় ঢাকে গোটা এলাকা। অগ্নিকাণ্ডের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে (যদিও সেই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল)। তবে এই হামলায় তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং জলশোধনাগারটির কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
আরও পড়ুন:
কুয়েতের সেনাবাহিনীর দাবি, রবিবার দিনরাত দেশটির ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় তেহরান। তার মধ্যে অধিকাংশ আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে। কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণকের মুখপাত্র মেজর জেনারেল সাউদ আব্দুল আজিজ আল-ওতাইবি বলেন, “দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলিতে লাগাতার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান, যার ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে।” কুয়েতে তেহরানের হামলার কড়া নিন্দা করেছে ওয়াশিংটন।
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত বিভিন্ন জলপরিশোধনাগার বা ‘ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট’গুলি হল এখানকার ‘জীবনরেখা’। এগুলি সমুদ্রের লবণাক্ত জল পরিশোধন করে পানীয়ের উপযোগী করে তোলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, কুয়েত-সহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে অবস্থিত এই পরিশোধনাগারগুলি এখানকার পানীয় জলের প্রধান উৎস। এই দেশগুলির প্রায় ৭০ থেকে ৯০ শতাংশ জল সরবরাহ এই পরিশোধনাগারগুলির উপরই নির্ভরশীল। ফলে এই পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বড় আকারের জল সংকট তৈরি হতে পারে।
সর্বশেষ খবর
-
২০১১ সালের পর প্রথম! ২১ জুলাই সভামঞ্চে গরহাজির নেতাইয়ের শহিদ পরিবারগুলি
-
বিক্ষোভকারীরা লাঠি খাচ্ছেন, ‘আরশোলা’ মুখপাত্র খাচ্ছেন বার্গার! ভাইরাল ভিডিওয় মুখ পুড়ল ‘ককরোচে’র
-
‘দেশের তরুণরা অমর’, ‘ককরোচ’দের সমর্থনে বড় পদক্ষেপ হানি সিংয়ের, শো বাতিল আরমান মালিকের
-
লাইভে ‘খুনি’ বলে তোপ, মদনকে ১০ কোটির আইনি নোটিস অভিষেকের
-
১০ বছর বড় প্রেমিকা অন্তঃসত্ত্বা হতেই ব্রেকআপ! মেয়ের মুখও দেখতে নারাজ বিশ্বকাপ মাতানো তারকা