হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের জন্য নয়া পথ তৈরির লক্ষ্য চুক্তিবদ্ধ হচ্ছে ইরান ও ওমান। জানা যাচ্ছে, চুক্তির পথে অনেকখানি এগিয়ে গিয়েছে দুই দেশ। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে শীঘ্রই সম্পন্ন হবে বহু প্রতিক্ষিত এই চুক্তি। শনিবার এই ইস্যুতে ওমানের তরফে জানানো হয়েছে, দুই দেশের আলোচনা যথেষ্ট ইতিবাচক। তবে চুক্তি সম্পন্ন হলেও এখনই হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে ইরানের তরফে।
২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই কার্যত বন্ধ হরমুজ প্রণালী। ইরানকে না জানিয়ে জাহাজ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে ওমান উপসাগরে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এই যুদ্ধ পরিস্থিতি পেরিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ বেছেছিল দুই দেশ। জানা যাচ্ছে, সেই আলোচনা অবশেষে গতি পেয়েছে, ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘাচি বলেন, হরমুজ প্রণালীতে নতুন একটি নৌপথ চালুর বিষয়ে তেহরান ও মাসকাটের মধ্যে চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত। তবে চুক্তি হলেও আমেরিকা শর্ত না মানলে এখনই হরমুজ খুলবে না।
আরও পড়ুন:
প্রাথমিকভাবে ৬০ দিনের জন্য এই রুটের চালু করার চিন্তাভাবনা হয়েছে। যার প্রথম ৩০ দিন জলপথে থাকা মাইন পরিষ্কারের কাজে ব্যবহৃত হবে।
জানা যাচ্ছে সম্ভাব্য এই চুক্তিতে সিদ্ধান্ত হয়েছে, স্থায়ী ব্যবস্থার আইনি বিষয়গুলির সমাধান না হওয়া পর্যন্ত দুই দেশ সাময়িকভাবে জাহাজ চলাচলের একটি বিকল্প রুট নিয়ে কাজ করবে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী হরমুজ দিয়ে পারস্য উপসাগরে যে জাহাজ প্রবেশ করবে তা ইরানের উপকূল ঘেঁষে যাবে। এবং উপসাগর দিয়ে যে জাহাজগুলি আরব সাগরে যাবে সেগুলি ওমান উপকূল ধরে যাবে। প্রাথমিকভাবে ৬০ দিনের জন্য এই রুটের চালু করার চিন্তাভাবনা হয়েছে। যার প্রথম ৩০ দিন জলপথে থাকা মাইন পরিষ্কারের কাজে ব্যবহৃত হবে।
তবে চুক্তি হলেও এখনই হরমুজ খোলার প্রশ্ন নেই বলে জানিয়েছে ইরান। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, আমেরিকা যতক্ষণ না তাদের আচরণ সংশোধন করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত হরমুজ খোলা হবে না। জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব তথা ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের কমান্ডার মহম্মদ বাঘের জোলঘাদর একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছেন। সেখানে বলা হয়েছে, আমেরিকা যদি ইরানের শর্তগুলি মানে তবেই হরমুজ খোলা হবে। শর্তগুলি হল – আমেরিকাকে দ্রুত মধ্যপ্রাচ্যে হামলা বন্ধ করতে হবে, তেহরানকে কোনও হুমকি দেওয়া যাবে না, ইরানের সহযোগীদের বিরুদ্ধেও যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। এছাড়াও ইরানের বন্দরগুলির উপর থেকে নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে, সরাতে হবে সেনাও। পাশাপাশি, ইরানকে ক্ষতিপূরণ ও তেহরানের উপর চাপানো সমস্ত নিষেধাজ্ঞা আমেরিকাকে প্রত্যাহার করতে হবে এবং মুক্ত করতে হবে বাজেয়াপ্ত সম্পদও।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
বন্যায় কাঁদছে অসম! এখনও ক্ষতিগ্রস্ত লক্ষাধিক মানুষ, ১১ হাজার হেক্টর কৃষিজমি জলমগ্ন, মৃত ১০০
-
পরমাণু চুক্তি নিয়ে সুর নরম, ইরান হরমুজে খুলে দিলেই নিষ্ফলা যুদ্ধে ইতি টানবেন ট্রাম্প!
-
মোটা মাইনের চাকরির টোপ দিয়ে কলকাতার যুবকদের উজবেকিস্তানে ‘পাচার’, তারপর…
-
রাজারহাটের অভিজাত আবাসনে পানীয় জলদূষণ! অসুস্থ বহু বাসিন্দা, তুমুল উত্তেজনা এলাকায়
-
অটো চালিয়ে অসুস্থকে বিনামূল্যে পৌঁছে দেন হাসপাতালে, ভাইরাল গভীর রাতের ‘শেরনি’