দীর্ঘ সংঘাতের পর অবশেষে যুদ্ধের মেঘ কাটছে মধ্যপ্রাচ্যে। শনিবার রাতে ট্রাম্পের বার্তার পর দাবি করা হচ্ছে, অবশেষে চুক্তির বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছেছে দুই দেশ। পারমাণবিক চুক্তি, বাজেয়াপ্ত সম্পদে ছাড় এমনকী ইরানের উপর এত বছর ধরে যে নিষেধাজ্ঞা জারি করে রাখা হয়েছিল তা প্রত্যাহার করে নেবে আমেরিকা।
ইরানের এক সরকারি আধিকারিকের উদ্ধৃতি তুলে ধরে রয়টর্সের তরফে জানানো হয়েছে, আমেরিকার সঙ্গে সমঝোতার খসড়া প্রায় প্রস্তুত। এই চুক্তির মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ চালাবে আমেরিকা। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ হরমুজ পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে। পাশাপাশি এতদিন ধরে ইরানের উপর আমেরিকা যে নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছিল তা শিথিল করা হচ্ছে। আপাতত একটি চুক্তি সই করার পর, বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে উভয়পক্ষ ৬০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তি সই করবে। ইরানি আধিকারিকের মতে, খসড়া চুক্তিতে মূলত তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তা হল, হরমুজ উন্মুক্ত করা, ইরানের বাজেয়াপ্ত সম্পদ ফেরত দেওয়া এবং পারমাণবিক কর্মসূচি।
আরও পড়ুন:
আপাতত একটি চুক্তি সই করার পর, বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে উভয়পক্ষ ৬০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তি সই করবে।
দাবি করা হয়েছে, চুক্তির ভিত্তিতে হরমুজকে পুরোপুরি মুক্ত করা হবে। ইরান এই প্রণালী খুলে দেবে, অন্যদিকে আমেরিকাও অবরোধ তুলবে। এই পথে স্বাধীন নৌচলাচলে একমত হয়েছে দুই দেশ। দ্বিতীয় শর্তে আমেরিকা ইরানের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে। নতুন করে কোনও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে না ইরানের উপর। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল বিক্রি করতে পারবে ইরান। একইসঙ্গে আমেরিকা ইরানের যে ২৫ বিলিয়ন ডলার বাজেয়াপ্ত করেছে তা ফেরত দেবে। বিনিময়ে ইরানকে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে তারা পরমাণু অস্ত্র তৈরি করবে না। কোনওভবেই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ করবে না। নতুন করে সেন্ট্রিফিউজ স্থাপন করা যাবে না। তবে আমেরিকা ইরানকে শান্তিপূর্ণ অসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচিকে স্বীকৃতি দেবে। এবং পরমাণু নজরদারি সংস্থা আইএইএ-র সঙ্গে মিলে ইরানকে সাহায্য করবে।
প্রাথমিক খসড়ায় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নতির বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, চুক্তির পর ইরান ভিনদেশে ছড়িয়ে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে সাহায্য করা থেকে বিরত থাকবে। ভবিষ্যতে উভয় দেশ বাণিজ্য, জ্বালানি এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়টিও বিবেচনা করবে। এই ঘটনায় বিশেষজ্ঞদের দাবি, চুক্তি সম্পন্ন হলে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনা শান্ত হবে। রবিবার চুক্তি সই হবে বলে ট্রাম্প দাবি করলেও শোনা যাচ্ছে, আমেরিকার তার মিত্রশক্তিদের (সৌদি আরব, ইজরায়েল) সঙ্গে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেবে। আমেরিকা ও ইরান এখনও সরকারিভাবে এই খসড়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ক্রিকেটের পর এবার ফুটবলেও স্নিকো, ৮ বছর বিশ্বকাপে নেমে ‘পাঁচতারা’ পারফরম্যান্স সুইডেনের
-
তিন বছরের শিশুকন্যাকে যৌন নির্যাতন, মৃত্যু খুদের! নারকীয় কাণ্ড তামিলনাড়ুতে
-
দুর্নীতি-কলঙ্ক ঘুচিয়ে সরকারি পরীক্ষায় স্বচ্ছতা আনতে পদক্ষেপ, ওএমআর নিয়ে বড় ঘোষণা শুভেন্দুর
-
বেআইনিভাবে বাংলার বাড়ির সুবিধা, অর্থ ফেরাবেন ১০ হাজার উপভোক্তা
-
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরতেই শেয়ার বাজারে জোয়ার, ১২০০ পয়েন্টের লম্বা লাফ সেনসেক্সের