বারুদের গন্ধ পেরিয়ে অবশেষে শান্তি ফিরল মধ্যপ্রাচ্যে? গত সাড়ে তিন মাস ধরে বন্ধ থাকার পর অবশেষে খুলতে চলেছে বিশ্বের তৈল ধমনী হরমুজ। রবিবার রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনান্ড ট্রাম্প জানালেন, ইরানের সঙ্গে তাদের শান্তি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। আনুষ্ঠানিক সই-সাবুদ হবে আগামী শুক্রবার অর্থাৎ ১৯জুন। এরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে জাহাজ চলাচল শুরু হবে হরমুজের পথ ধরে।
বিশ্বকে স্বস্তির বার্তা দিয়ে সোশাল মিডিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, ‘সকলকে অভিনন্দন। ইরানের সঙ্গে চুক্তি (US Iran Peace Deal) সম্পন্ন হয়েছে। এই ঐতিহাসিক চুক্তি সমগ্র অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা বয়ে আনবে। আমার আগে অনেক রাষ্ট্রপতি ইরানের সঙ্গে শান্তি স্থাপনের চেষ্টা করেছেন, কিন্তু তাঁরা সবাই ব্যর্থ হয়েছেন। এই প্রথমবার, এই অঞ্চলের নেতারা এমন একজন প্রেসিডেন্টকে পেয়েছেন যিনি তাঁদের প্রকৃত শান্তি অর্জনে সাহায্য করতে পারেন। আগামী শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হবে। পাশাপাশি আমি হরমুজ থেকে মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছি। এ বার সারা পৃথিবীর জাহাজ তাদের ইঞ্জিন চালু করে দিক। তেল পরিবাহিত হোক।’
আরও পড়ুন:
আমেরিকা ইরানের যে ২৫ বিলিয়ন ডলার বাজেয়াপ্ত করেছে তা ফেরত দেবে। বিনিময়ে ইরানকে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে তারা পরমাণু অস্ত্র তৈরি করবে না। কোনওভবেই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ করবে না।
জানা যাচ্ছে, শান্তিচুক্তি সই করার লক্ষ্যে কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা রবিবার তেহরানে পৌঁছবেন। এরপর ১৯ জুন সুইৎজারল্যান্ডের জেনেভায় আনুষ্ঠানিকভাবে সবে সই-সাবুদ পর্ব। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানের সরকারি শীর্ষ কর্তাদের তরফে সংবাদমাধ্যমকে জানানো হয়েছে, আমেরিকা ও ইরান অবশেষে চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে। এই চুক্তি হাজার হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়া মারণ যুদ্ধ থামাবে। এবং বন্ধ হরমুজ পুনরায় খুলে দেবে। অবশেষে বাণিজ্যপথ খুলে যাওয়ায় স্বস্তি ফিরবে গোটা দেশে।
ইরানের এক সরকারি আধিকারিকের উদ্ধৃতি তুলে ধরে রয়টর্সের তরফে জানানো হয়েছে, চুক্তির ভিত্তিতে হরমুজকে পুরোপুরি মুক্ত করা হবে। ইরান এই প্রণালী খুলে দেবে, অন্যদিকে আমেরিকাও অবরোধ তুলবে। এই পথে স্বাধীন নৌচলাচলে একমত হয়েছে দুই দেশ। দ্বিতীয় শর্তে আমেরিকা ইরানের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে। নতুন করে কোনও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে না ইরানের উপর। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল বিক্রি করতে পারবে ইরান। একইসঙ্গে আমেরিকা ইরানের যে ২৫ বিলিয়ন ডলার বাজেয়াপ্ত করেছে তা ফেরত দেবে। বিনিময়ে ইরানকে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে তারা পরমাণু অস্ত্র তৈরি করবে না। কোনওভবেই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ করবে না। নতুন করে সেন্ট্রিফিউজ স্থাপন করা যাবে না। তবে আমেরিকা ইরানকে শান্তিপূর্ণ অসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচিকে স্বীকৃতি দেবে। এবং পরমাণু নজরদারি সংস্থা আইএইএ-র সঙ্গে মিলে ইরানকে সাহায্য করবে।
প্রাথমিক খসড়ায় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নতির বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, চুক্তির পর ইরান ভিনদেশে ছড়িয়ে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে সাহায্য করা থেকে বিরত থাকবে। ভবিষ্যতে উভয় দেশ বাণিজ্য, জ্বালানি এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়টিও বিবেচনা করবে। এই ঘটনায় বিশেষজ্ঞদের দাবি, চুক্তি সম্পন্ন হলে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনা শান্ত হবে। রবিবার চুক্তি সই হবে বলে ট্রাম্প দাবি করলেও শোনা যাচ্ছে, আমেরিকার তার মিত্রশক্তিদের (সৌদি আরব, ইজরায়েল) সঙ্গে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেবে। আমেরিকা ও ইরান এখনও সরকারিভাবে এই খসড়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
কর্তব্যরত অবস্থায় হেডফোন কিংবা ইয়ারফোন ব্যবহার নয়, কড়া নির্দেশ লালবাজারের
-
৭৮ শিশু-সহ অন্তত ২০০ জন HIV আক্রান্ত! হাসপাতালের গাফিলতিতে ভয়াবহ বিপর্যয় পাকিস্তানে
-
জাতীয় স্বীকৃতি পেল বাংলার চিত্তরঞ্জন সেবাসদন, ‘বিরাট সাফল্য’, বলছেন অধিকর্তা
-
উদ্ধবসেনার ৬ সাংসদের দলবদলকে ‘স্বীকৃতি’, স্পিকার ওম বিড়লার সিদ্ধান্তে চাপ বাড়ছে মমতার
-
ক্যারাটেতে ব্ল্যাক বেল্ট, পারদর্শী রাশিয়ান ব্যালেতেও, সোনমের ‘অক্সিজেন’ কে এই গীতাঞ্জলি?