‘মহাশক্তিধর’ রাষ্ট্র হিসাবে শক্তিপ্রদর্শন নয়, বরং বিশ্বের সেবা করে ‘বিশ্বগুরু’ হয়েছে ভারত। কানাডায় ‘হিন্দু বিশ্ব বন্ধু’ সভায় সোমবার এই দাবি করলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রধান মোহন ভাগবত। তাঁর এদিনের বক্তব্য ছিল ভারতীয় সংস্কৃতির গোড়ার কথা— বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের জয়গান। তিনি বলেন, বিশ্বমঞ্চে ভারতের উত্থানের অর্থ “আরও ঐক্যবদ্ধ ও মুক্ত এক মানবসমাজ”।
সংঘপ্রধান বলেন, “যখন ভারত শক্তিধর হয়েছে, তখন ‘মহাশক্তি’ হয়ে ওঠেনি। বরং একটি মহিমান্বিত দেশে পরিণত হয়েছে। ভারতকে ‘মহাশক্তি’ বলা যেতেই পারে, কিন্তু ভারত তা নয়। ভারত বিশ্বের সেবা করেছে এবং সেই কাজের জোরে বিশ্বগুরু হয়েছে, মহাশক্তি নয়।’’ তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, আধিপত্য বিস্তার নয়, মৈত্রীর বন্ধনে মুক্ত সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলাই ভারতের চিরকালীন ঐতিহ্য।
ভারতীয়রা বা হিন্দুরা যে শান্তিকামী সম্প্রদায়, টরেন্টোর সভায় সেকথাও বলেন ভাগবত। তিনি বলেন, ভারতীয় সভ্যতার ঐতিহ্য হল জ্ঞান বিতরণ করা, দেশ আক্রমণ বা “জয়” কিংবা “ধর্মান্তরিত” করা নয়। মেক্সিকো থেকে সাইবেরিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া পর্যন্ত বিভিন্ন অঞ্চলে গিয়েছেন ভারতীয়রা। তাঁরা যেখানেই গিয়েছেন, সেখানেই জ্ঞান, গণিত, আয়ুর্বেদ ও সভ্যতার মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিয়েছেন।
আরএসএস প্রধান বলেন, সেবা ও গ্রহণের পরম্পরায় বৈচিত্র্যের মাঝে নিহিত ঐক্যেই হিন্দু ধারণা প্রতিষ্ঠিত। তিনি বলেন, “জড় ও জীব—উভয়ই আমাদের আপন। একজন হিন্দু এমনই অনুভব করেন। বৈচিত্র্যের মাঝে নিহিত সেই ঐক্যকে দেখার শিক্ষাই তাঁদের দেওয়া হয়েছে।”
ভারতের সেবাব্রতের কথা বলতে গিয়ে সাম্প্রতিক ইতিহাসের উদাহরণ টেনেছেন মোহন ভাগবত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় পোল্যান্ডের শরণার্থীদের আশ্রয় দান থেকে হালফিলে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ভারতীয়দের পাশাপাশি অন্যান্য দেশের নাগরিকদের উদ্ধারের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন তিনি।
সংঘপ্রধান বলেন, “বিশ্বের কোথাও যখনই কোনও সংকট দেখা দিয়েছে, সাহায্যের আবেদন জানানো হয়েছে, ভারত তখনই সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে। এমনকী নিজে থেকেই সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে ভারত। এটাই ভারতের ডিএনএ।” আরও বলেন, ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ বা ‘বিশ্ব পরিবার’—ভারতবর্ষের এই প্রাচীন ধারণার ভিত্তি হল সবাইকে ভাই হিসেবে দেখা, মালিক বা অধিকারী হিসেবে নয়। তিনি বলেন, “এটা আমার আর ওটা তার—এমন ভাবা সংকীর্ণতা। যারা উদারমনা, তারাই ‘বসুধৈব কুটুম্বকমে’ বিশ্বাসী।”
প্রসঙ্গত, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের শতবর্ষ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সভা করছেন ভাগবত। নিউ ইয়র্কের মাটিতে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, কোনও হিন্দু যদি ভাবেন মুসলিমদের ভারতে থাকা উচিত নয়, তবে সেই ব্যক্তি হিন্দুই নন। সংঘপ্রধানের এই বক্তব্য নিয়ে কটাক্ষ করেছে কংগ্রেস-সহ একাধিক বিরোধী দল। তাদের বক্তব্য, দেশে ও বিদেশে বচন বদলে ফেলছেন সংঘপ্রধান।
সর্বশেষ খবর
-
কলকাতা-হাওড়া পুরভোটে রণকৌশল কী হবে? বৈঠকে তৃণমূলের ঋতব্রত শিবির
-
চিংড়ি-পাস্তা নয়, তিহারে ওটস খেয়েই কাটছে দিন! দেশে ফিরতে আমেরিকার দ্বারস্থ মার্কিন ‘ভাড়াটে’ সৈনিক
-
বেহালা বিমানবন্দর ফের চালু করতে উদ্যোগী রাজ্য, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে চিঠি শুভেন্দুর
-
গুরুতর অসুস্থ আন্না হাজারে, ভর্তি করানো হল মুম্বইয়ের হাসপাতালে
-
একজনকে পিষে দিল গাড়ি, একজনের মৃত্যু ছুরির কোপে! আমেরিকায় মৃত্যু কেরলের ২ তরুণীর