Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩
  • মঙ্গলবার
  • ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হিমালয়ে হাহাকার
Nepal Green House

জলদানবের আগ্রাসনেও অটুট নেপালের সবুজবাড়ি! অলৌকিক কাণ্ড? উত্তর দিলেন বাড়ির মালিক

Nepal Flash Flood: নেপালের ভয়ংকর হড়পা বানের একটি ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা গিয়েছে, চারপাশের বাড়িঘর, গাড়ি সব জল-কাদার তোড়ে খড়কুটোর মতো ভেসে যাচ্ছে, তথাপি দুর্যোগের মাঝে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে একটি সবুজ রঙের চারতলা বাড়ি।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬, ১৭:১৬

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬, ১৭:১৬

options
link
জলদানবের আগ্রাসনেও অটুট নেপালের সবুজবাড়ি! অলৌকিক কাণ্ড? উত্তর দিলেন বাড়ির মালিক zoom
৪০ বছর আগের নির্মাণই কি কারণ? উত্তর দিচ্ছেন প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত।

ছিল সুন্দরী পাহাড়ি নদী, হিমবাহ ভাঙা জলস্রোতে সেই হয়ে ওঠে জলদানব! তখন বিশাল শক্তি নিয়ে সেই ‘রাক্ষস’ ধেয়ে আসছে। মৃত্যু অবধারিত জেনেও ছিল বেঁচে থাকার একমুঠো আকাঙ্ক্ষা। এমন সময় কী ভাবে মানুষ? “আমি ও আমার পরিবার অনুভব করেছি।” বলছেন নেপালের নুয়াকোট জেলার ‘অলৌকিক’ সবুজবাড়ির বাসিন্দা প্রকাশ। কেন অলৌকিক?

ভয়ংকর হড়পা বানের একটি ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা গিয়েছে, চারপাশের বাড়িঘর, গাড়িঘোড়া সব জল-কাদার তোড়ে খড়কুটোর মতো ভেসে যাচ্ছে, তথাপি দুর্যোগের মাঝে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে একটি সবুজ রঙের (Nepal’s Green House) চারতলা বাড়ি! এই ভিডিও দেখে চমকে গিয়েছেন অনেকেই। পরে জানা গিয়েছে, ওই বাড়ির বাসিন্দারা সুস্থ রয়েছেন। তাঁদের উদ্ধার করা হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, এতবড় ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যে কীভাবে অক্ষত রইল বাড়িটি? নেপথ্য কারণ কী? ভাইরাল হওয়ার লোভে বানানো এআই ভিডিও নয় তো?

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

অলৌকিক কাণ্ড বটেই। তবে এআই ভিডও নয়। ইতিমধ্যে একাধিক সংবাদমাধ্যম কথা বলেছে বাড়ির মালিক প্রকাশের সঙ্গে। তিনি জানিয়েছেন, রাক্ষুসে ত্রিশূলী নদী যখন সবকিছুকে তছনছ করে দিচ্ছে, তখন বাড়িতে ছিলেন পরিবারের ছ’জন সদস্য। তিনি বলেন, “আমি কাছেই একটা দোকানে ছিলাম। নদীর জল বাড়ার সতর্কতা কানে আসতেই বাড়ির দিকে ছুটতে থাকি। পৌঁছে সকলকে নিয়ে তড়িঘড়ি বাড়ি ছাড়ার চেষ্টা করি।” কিন্তু পারেননি। কারণ ততক্ষণে ‘অজগর’ নদীর জলস্রোতের ফণা বাড়িটিকে ঘিরে ফেলেছে। প্রকাশ জানিয়েছেন, প্রাণ বাঁচাতে প্রথমে চারতলায় ওঠেন সকলে। যদিও সেখানেও কাদা জলের স্রোত পৌঁছে যাওয়ায় বাড়ির সব থেকে উঁচু চারতলার ছাদে আশ্রয় নেয় গোটা পরিবার।

প্রকাশের দাবি, ৪০ বছর আগে তৈরি বাড়ি। তখন ইট-সিমেন্ট-বালি সবকিছু ছিল আজকের তুলনায় উন্নত গুণমানের।

এরপরেও বাঁচবেন কিনা জানা ছিল না প্রকাশ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের। কারণ আশপাশের অধিকাংশ বাড়িকে ততক্ষণে গিলে খেয়েছে নদী। এইসঙ্গে ছেলের জন্য চিন্তা হচ্ছিল। হড়পা বান ধেয়ে আসার সময় বাড়ির একমাত্র সদস্য প্রকাশের ছেলে স্কুলে গিয়েছিল। সে আদৌ বেঁচে ফিরবে কিনা, নিজেরাও বাঁচবেন কিনা, সাক্ষাৎ মৃত্যুর মুখোমুখি হয়ে ভাবছিলেন প্রকাশ। শেষ পর্যন্ত বেঁচে যায় পরিবারটি। নেপথ্যে একা কুম্ভ সবুজ বাড়ি। কিন্তু জলদানবের সামনে কীভাবে অটুট থাকল বাড়িটি?

প্রকাশের দাবি, ৪০ বছর আগে তৈরি বাড়ি। তখন ইট-সিমেন্ট-বালি সবকিছু ছিল আজকের তুলনায় উন্নত গুণমানের। এছাড়াও নদী সংলগ্ন অঞ্চল হওয়ায় বিশেষভাবে মজবুত করে গড়েছিলেন বাড়িটিকে। প্রকাশ বলেন, “বাড়ির ভিত শক্তপোক্ত করতে নিচে সড়ক নির্মাণের উপাদানের দুই-তিনটি স্তরও বসিয়েছিলাম। হয়তো সেই কারণেই ভয়ংকর জল-কাদার স্রোতের সঙ্গে লড়তে সক্ষম হয়েছে বাড়িটি।” যদিও নিচের তলার বিরাট ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু ভেঙে পড়েনি! আড়াই ঘণ্টা পরে নদী খানিক শান্ত হলে লম্বা পাইপের সাহায্যে সবুজবাড়ির ছয় সদস্যকে উদ্ধার করেন স্থানীয়রাই।

বাড়ি না ভাঙার কারণ হিসাবে এমন হাজারও যুক্তি দেওয়া হলেও মানতে চাইছেন গোটা বিশ্বের বহু মানুষ। যারা ভিডিও মাধ্যমে দেখেছেন নেপালের ভয়ংকর প্রলয়। তাঁদের মতে এই ঘটনা ‘রাখে হরি মারে কে’-র আদর্শ উদাহরণ। সবুজবাড়ির ‘অলৌকিক’ ভাগ্যই আসলে  বাঁচিয়ে দিয়েছে প্রকাশ ও তাঁর পরিবারকে।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.