আমেরিকা-ইরানের দু’সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মধ্যেই বুধবার লেবাননে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে ইজরায়েল (Israel)। মৃতের সংখ্যা ২৫০ ছাড়িয়েছে বলেই খবর। বৃহস্পতিবার বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সেনা দাবি করেছে, সাম্প্রতিক হামলায় তারা খতম করেছে হেজবোল্লা (Hezbollah) প্রধান নইম কাসেমের প্রধান সহকারী আলি ইউসুফ হারশিকে। উল্লেখ্য, এই ইউসুফ হেজবোল্লা প্রধানের অধিকাংশ সিদ্ধান্তের পরামর্শদাতা।
এক বিবৃতিতে ইজরায়েলি সেনা আইডিএফ জানিয়েছে, “গতকাল বেইরুটে হামলা চালিয়ে হেজবোল্লা প্রধান নইম কাসেমের অন্যতম সহকারী— ব্যক্তিগত সচিব তথা ভাগ্নে আলি ইউসুফ হারশিকে নিকেশ করা হয়েছে।” আরও বলা হয়েছে, “কাসেমের একজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসাবে তাঁর দপ্তর পরিচালনা ও সুরক্ষার দায়িত্বে ছিলেন নিহত ইউসুফ।” এর আগে ইরান-সমর্থিত জঙ্গি গোষ্ঠী হেজবোল্লা জানিয়েছিল, আমেরিকা-ইরান যুদ্ধবিরতি ‘লঙ্ঘনের’ জবাবে ইজরায়েলে রকেট নিক্ষেপ করেছে তারা। বিদ্রোহী গোষ্ঠীর আরও দাবি, যেভাবে লেবাননজুড়ে ইজরায়েল হামলা চালিয়েছে তার জবাব দেওয়ার ‘অধিকার’ রয়েছে তাদের। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে লেবাননের সীমান্ত সংলগ্ন ইজরায়েলি এলাকায় পালটা হামলা চালিয়েছে হেজবোল্লা। সব মিলিয়ে স্পষ্ট যুদ্ধের অভিমুখ এখন লেবাননের দিকে ঘুরে গিয়েছে।
বৃহস্পতিবার লেবানন জানিয়েছে, ইজরায়েলের একদিনের হামলায় ২৫৪ জন নিহত। আহতের সংখ্যা ১,১৬৫। মৃতদের শ্রদ্ধা জানাতে লেবানন একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। এদিকে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বক্তব্য, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতির অংশ নয় লেবানন। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সেরর মুখেও নেতানিয়াহুর কথার প্রতিধ্বনি। তাঁর বক্তব্য, লেবাননে হামলা হবে না আমরা এই প্রতিশ্রুতি দিইনি।
যদিও লেবাননে হামলাকে গায়ে মাখছে ইরান। ইরানের সংসদে জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদেশ নীতি বিষয়ক কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজাই সোশাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন, ‘লেবাননের বিরুদ্ধে বর্বর আগ্রাসনের জবাবে, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল এখনই বন্ধ করে দিতে হবে। লেবাননের জনগণ আমাদের জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাই এক মুহূর্তের জন্যও আমরা ওঁদের একা ফেলে রাখতে পারি না। যুদ্ধবিরতি যদি হয়, তবে তা হতে হবে সব রণাঙ্গনে। নতুবা কোনও রণাঙ্গনেই তা কার্যকর হবে না।’
উল্লেখ্য, ইরান যুদ্ধের জেরে মাসাধিক কাল যাবৎ অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী। জ্বালানি সংকটে ভুগেছে গোটা পৃথিবী। তবে ‘বন্ধু’ ভারতকে আলাদা ‘ছাড়পত্র’ দিয়েছে তেহরান। এখনও পর্যন্ত ভারতের পতাকাবাহী মোট ৮টি জাহাজ হরমুজ পেরিয়েছে। ফলে পরিস্থিতি কিছুটা হলেও সহজ হয়েছে নয়াদিল্লির জন্য। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছিলেন, হরমুজ পুরোপুরি বন্ধ নেই। ইরানের সঙ্গে যে কয়েকটি দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে তাদের জাহাজগুলিকে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সেই বন্ধু দেশের তালিকায় চিন, রাশিয়া, পাকিস্তানের পাশাপাশি রয়েছে ভারতও। কিন্তু যুদ্ধবিরতির পরে সেই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছিল। যা ফের থমকে গেল ইজরায়েলের লেবাননে হামলার ঘটনায়।
সর্বশেষ খবর
-
লোকসভাতেও ‘আসল তৃণমূল’, দলনেতা হচ্ছেন কাকলি! জল্পনার মাঝে বিস্ফোরক পোস্ট সাংসদের
-
‘সিএবি কর্তা হয়েও সংস্থার গঠনতন্ত্র জানেন না’, কোষাধ্যক্ষকে পাল্টা প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট অভিষেক ডালমিয়ার
-
এনআইএর জালে আরও এক তৃণমূল নেতা, এবার গ্রেপ্তার পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ
-
মদ্যপ স্বামীকে পিটিয়ে মেরে মন্দিরে ক্ষমাপ্রার্থনা, থানায় গিয়ে তরুণী বললেন ‘ওকে খুন করেছি’
-
বিশ্বকাপে নামবেন চার ‘ভারতীয়’, মাঠে দাপানো চারমূর্তির দিকে নজর দেশের ফুটবলপ্রেমীদের