Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩
  • সোমবার
  • ৩১ আগস্ট ২০২৬
হিমালয়ে হাহাকার
Nepal Flash Flood

প্রলয়ের আগে ‘ঘেমে’ উঠেছিলেন দেবী ভগবতী! ‘বিপর্যয়ের ইঙ্গিত মিলেছিল’, বলছেন নেপালিরা

স্থানীয়দের বিশ্বাস, বড়সড় কোনও দুর্যোগ বা অমঙ্গল আসার আগে এখানে অধিষ্ঠিত দেবী ভগবতী 'ঘাম'তে শুরু করেন। এটি আসলে দেবীর কান্না বা সতর্কবার্তা। মানুষকে সতর্ক করতে এই লীলা দেখান তিনি।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ৩১, ২০২৬, ২১:২১

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ৩১, ২০২৬, ২১:২১

options
link
প্রলয়ের আগে ‘ঘেমে’ উঠেছিলেন দেবী ভগবতী! ‘বিপর্যয়ের ইঙ্গিত মিলেছিল’, বলছেন নেপালিরা zoom
বিপর্যয়ের আগাম আভাস দিয়েছিলেন দেবী ভগবতী!

নেপালে যে মহাপ্রলয় ধেয়ে আসছে তার আগাম আভাস দিয়েছিলেন দেবী ভগবতী! গত বুধবার হিমালয়ের দেশে ভয়াল বিপর্যয় (Nepal Flash Flood) ও ৯০০-র বেশি মানুষের মৃত্যুর পর সামনে এল এমনই অদ্ভুত দাবি। নেপালের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, বুধবার প্রকৃতির নিষ্ঠুর তাণ্ডবের আগে কাঠমান্ডু উপত্যকার এক প্রাচীন মন্দিরে দেবীর শরীর থেকে ঘাম ঝরতে দেখা গিয়েছিল। সেটাই ছিল বিপদের আগাম ইঙ্গিত।

কাভরেপালানচোক জেলার পঞ্চখাল এলাকায় অবস্থিত নেপালের জনপ্রিয় তীর্থস্থান পালানচক ভগবতী মন্দির। স্থানীয়দের বিশ্বাস, বড়সড় কোনও দুর্যোগ বা অমঙ্গল আসার আগে এখানে অধিষ্ঠিত দেবী ভগবতী ‘ঘাম’তে শুরু করেন। এটি আসলে দেবীর কান্না বা সতর্কবার্তা। মানুষকে সতর্ক করতে এই লীলা দেখান তিনি। ২৬ আগস্ট নেপালে ভয়াবহ হড়পা বান সবকিছু তছনছ করার অনেক আগে ২২ আগস্ট শনিবার দেবী প্রতিমায় অস্বাভাবিকতা নজরে আসে। নেপালের সংবাদসংস্থা রাষ্ট্রীয় সমাচার সমিতি (RSS)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, সন্ধ্যায় প্রার্থনার সময় বিষয়টি প্রথম নজরে আসে পুরোহিতের। দেবীর মুখে ও কপালে বিন্দু বিন্দু জলের মতো জমেছিল, যা দেখে মনে হচ্ছিল দেবী ঘামছেন। কিছু একটা বিপদের আশঙ্কায় সেদিন মন্দিরে ক্ষমা প্রার্থনার আচার পালিত হয়। সেই ঘটনার ৪দিন পর ঘটে বিপর্যয়।

Advertisement

১৯৭৪ এবং ১৯৮৭ সালের ভূমিকম্পের আগেও প্রতিমার শরীরে একই ধরনের লক্ষণ দেখা যায়। এমনকী ২০০১ সালে রাজপ্রাসাদে হত্যাকাণ্ডের আগেও ঘেমে ওঠেন দেবী ভগবতী। এবার তার ব্যতিক্রম হয়নি।

এই ঘটনা অবশ্য প্রথমবার নয়। স্থানীয়দের দাবি, বছরের পর বছর ধরে নেপালে কোনওরকম দুর্যোগ আসার আগে সতর্ক করেছেন দেবী। প্রাচীনকালে রাজপরিবারেও এই বিশ্বাস ছিল। যদি কোনও মন্দিরে দেবী ঘামতেন, তাহলে রাজাকে বিশেষ পুজো ও ক্ষমা প্রার্থনার নির্দেশ দেওয়া হত। ১৯৭৪ এবং ১৯৮৭ সালের ভূমিকম্পের আগেও প্রতিমার শরীরে একই ধরনের লক্ষণ দেখা যায়। এমনকী ২০০১ সালে রাজপ্রাসাদে হত্যাকাণ্ডের আগেও ঘেমে ওঠেন দেবী ভগবতী। এবার তার ব্যতিক্রম হয়নি।

অবশ্য এই ঘটনার এক বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও রয়েছে। দাবি করা হয়, বর্ষাকালে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে মন্দিরের ভিতরে ঠান্ডা পাথরের মূর্তির গায়ে জলিয় বাষ্প জমে। সেটিই ঘাম বলে ভুল করেন ভক্তরা। তাপমাত্রার তারতম্যের জেরেই যত কাণ্ড। তবে বিজ্ঞান যাই বলুক, মানুষের বিশ্বাস, লোকগাথা, বিজ্ঞানকে ছাপিয়ে পাড়ি দেয় বহুদূর। নেপালের এই অলৌকিক ঘটনাও তার ব্যতিক্রম নয়।

উল্লেখ্য, নেপাল বিপর্যয়ের জেরে শেষ পাওয়া খবরে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯০৩। এখনও নিখোঁজ ৪২৪৭ জন। এরমধ্যে স্থানীয় ৩৬৫৫ এবং বিদেশি ৫৯২ জন। পাশাপাশি তিব্বতে মৃত্যু হয়েছে ১৬ জনের। সেখানেও নিখোঁজ ৫৪৩ জন।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.