রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধে এবার রাশিয়ার পক্ষ নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প! ইউক্রেনের মারে রাশিয়া এখন বেশ কিছুটা ব্যাকফুটে। নিজেদের তেল শোধনাগারগুলি ধ্বংস হওয়ায় বাইরের দেশ থেকে পেট্রল-ডিজেল কিনতে হচ্ছে মস্কোকে। এহেন পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিকে ট্রাম্প জানিয়ে দিলেন, রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলিতে হামলা না করার জন্য। ট্রাম্পের এহেন আচরণে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে ইউরোপের অন্দরে।
আয়ারল্যান্ড সফরে গিয়ে রবিবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলিতে হামলা না করে, ওরা (ইউক্রেন) নির্দিষ্ট লক্ষ্যে হামলা করুক, কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু কোনওভাবেই জ্বালানির উপর নয়। হামলার জেরে ডিজেলের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।” তবে ট্রাম্পের এই জ্বালানি ঘাটতির দাবি মধ্যপ্রাচ্যের জন্য প্রযোজ্য নয় কেন? সেখানে তো আমেরিকা হামলা চালাচ্ছে ইরানের উপর। হরমুজে অবরোধের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি হচ্ছে। এই অভিযোগ উঠলে, তা পুরোপুরি খারিজ করে ট্রাম্প (Donald Trump) বলেন, “জ্বালানি সংকটের সমস্যা মধ্যপ্রাচ্যের জন্য হচ্ছে না। বরং রাশিয়া ও ইউক্রেনে যা ঘটছে, সেটাই এর কারণ”
আরও পড়ুন:
ট্রাম্প বলেন, “জ্বালানি সংকটের সমস্যা মধ্যপ্রাচ্যের জন্য হচ্ছে না। বরং রাশিয়া ও ইউক্রেনে যা ঘটছে, সেটাই এর কারণ”
উল্লেখ্য, গত চার বছর ধরে চলতে থাকা রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে আরও ভয়াবহ আকার নিয়েছে। রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলিকে লক্ষ্য করে বেলাগাম হামলা চালাচ্ছে ইউক্রেন। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে জ্বলানি সংকট দেখা দিয়েছে মস্কোতে। ভারত থেকে পেট্রল-ডিজেল কিনছে পুতিনের দেশ। রিপোর্ট বলছে, গত আগস্ট মাসে গোটা বিশ্ব থেকে রাশিয়া যে পরিমাণ জ্বালানি আমদানি করেছে তার ৭০ শতাংশ এসেছে ভারত থেকে। রাশিয়ার পাঠানো ১ লক্ষ ২০ হাজার লিটার পেট্রলের বাজার মূল্য ছিল ৭.৮ কোটি ইউরো। রিপোর্ট আরও বলা হয়েছে, জুলাই মাসে রাশিয়া যত পরিমান পেট্রল আমদানি করেছিল আগস্ট মাসে তা ৭ গুণ বেড়েছে। এবং গত বছরের তুলনায় এই আমদানির পরিমাণ ৩ গুণ বেশি। রাশিয়ার নিজের তেল শোধনাগারগুলি ধ্বংস হওয়ায় বাধ্য হয়েই অন্য দেশ থেকে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে মস্কোকে।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, যুদ্ধে ইউক্রেনের পায়ে বেড়ি পরানোর পিছনে যথেষ্ট কারণ রয়েছে আমেরিকার। ট্রাম্প ভালো করে জানেন, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য ফের উত্তপ্ত। হরমুজে তালা পড়ায় জ্বালানি সংকট চরমে উঠেছে। এর মাঝে ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার উৎপাদিত জ্বালানি বন্ধ হলে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে উঠবে। যা সামাল দেওয়া কঠিন হবে। আমেরিকাকে ইরান থেকে সরে যাওয়ার জন্য চাপ আরও বাড়াবে গোটা বিশ্ব। পাশাপাশি রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে সম্প্রতি নতুন করে কোমর বেঁধেছে ওয়াশিংটন। সেখানে ইউক্রেনকে সমঝে দিয়ে রাশিয়ার বেপরোয়া মানসিকতায় কিছুটা লাগাম টানা যাবে বলে মনে করছে হোয়াইট হাউস।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
তিন বছরে তৃতীয়বার, উত্তরপ্রদেশে আম্বেদকরের মূর্তি ভাঙচুর!
-
‘কুঁড়ে’ প্রতিযোগীদের উপর রেগে কাঁই ‘বিগ বস’, সবাইকে ছাঁটাই! ব্রহ্মাস্ত্রে কাকে বাঁচাবেন জীতু?
-
পুজো উদ্যোক্তাদের ঐক্যবদ্ধ করতে রুদ্রনীলের নেতৃত্বে সমিতি বিজেপির! ‘ফোরাম ফর দুর্গোৎসবে’র ভবিষ্যৎ?
-
একঘণ্টা অপেক্ষার পরও আসেননি অধ্যক্ষ, কলেজের পরিচালন কমিটির সভাপতি দায়িত্ব নিজেই নিলেন কৌস্তভ!
-
মানতের মেহেন্দি পরলেই বিয়ে! জয়পুরের মন্দিরে উপচে পড়ল ভিড়, তিন ঘণ্টায় শেষ ৩৫০০ কেজি