Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৯ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ২৭ আগস্ট ২০২৬
Venezuela Crisis

‘আসুন না, তুলে নিয়ে যান দেখি’! পাঁচ মাস আগে ট্রাম্পকে চ্যালেঞ্জ ছোড়াই কি কাল হল মাদুরোর?

মাদুরোর ভিডিও প্রকাশ করল হোয়াইট হাউস।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ৪, ২০২৬, ১৭:২৬

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ৪, ২০২৬, ১৭:২৬

options
link
‘আসুন না, তুলে নিয়ে যান দেখি’! পাঁচ মাস আগে ট্রাম্পকে চ্যালেঞ্জ ছোড়াই কি কাল হল মাদুরোর? zoom
Advertisement

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ‘লে লুল্লু, তুই আমার স্ত্রীকে ধরিয়া লইয়া যা!’ এ কথা বলে নিজের স্ত্রীকে ভয় দেখাতেন আমির শেখ। পরিণতিও তা-ই হয়েছিল। আমিরের স্ত্রীকে আকাশপথে উড়িয়ে নিয়ে গিয়েছিল সেই লুল্লু! ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়ের ‘লুল্লু’ গল্পের সেই আমিরের মতোই অবস্থা হল নিকোলাস মাদুরোর!  

পাঁচ মাস আগের ঘটনা। নিকোলাস মাদুরোর গ্রেপ্তারি চেয়ে পুরস্কার বৃদ্ধির ঘোষণা করেছিল আমেরিকা। সেই সময় ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে মাদুরো বলেছিলেন, “আসুন না, তুলে নিয়ে যান দেখি!” শুক্রবার গভীর রাতে (স্থানীয় সময় অনুযায়ী) অভিযান চালিয়ে ঠিক তা-ই করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। শোওয়ার ঘর থেকে মাদুরো এবং স্ত্রীকে অপহরণ এবং বন্দি করে নিয়ে গেলেন আমেরিকায়!

Advertisement

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে বন্দি করার পরেই এক্স হ্যান্ডলে একটি ভিডিও প্রকাশ করে হোয়াইট হাউস। সেই ভিডিওয় মাদুরোর একটি ভাষণের ক্লিপ রয়েছে। আমেরিকার দাবি, গত বছর অগস্ট মাসে এই ভাষণ দিয়েছিলেন মাদুরো। সেই ভাষণে তিনি বলেছিলেন, “আসুন, নিয়ে যান। আমি মিরাফ্লোরেসে ওঁর (ট্রাম্প) জন্য অপেক্ষা করে রয়েছি। দেরি করবেন না!” প্রসঙ্গত, প্রেসিডেন্ট মাদুরো যে বাসভবনে থাকতেন, সেটির নাম মিরাফ্লোরেস।

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলার পর ট্রাম্প যে সাংবাদিক বৈঠক করেছিলেন, সেখানেই হোয়াইট হাউসের প্রকাশ করা ৬১ সেকেন্ডের ভিডিওটি দেখানো হয়েছিল। সেখানে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথকে বলতে শোনা যায়, “ওঁর (মাদুরো) সুযোগ ছিল। কিন্তু কাজে লাগাতে পারল না। উনি বাড়াবাড়ি করছিলেন। তার ফল ভুগতে হল ওঁকে!”

কেন এভাবে হামলা চালিয়ে মাদুরোকে বন্দি করা হল? আমেরিকার অভিযোগ, সর্বশেষ নির্বাচনে বামপন্থী মাদুরো রিগিং করে ক্ষমতায় ফিরেছিলেন। মার্কিন প্রশাসনের তীব্র আপত্তি উপেক্ষা করেই দক্ষিণ আমেরিকার তেল সমৃদ্ধ এই দেশের প্রেসিডেন্টের গদিতে ফের বসেছিলেন মাদুরো। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বরবারই মাদুরো সরকারের বিরুদ্ধে মাদক চক্র চালানোর অভিযোগ তুলেছেন। সেই সঙ্গে আমেরিকার দক্ষিণ সীমান্ত দিয়ে অবৈধ ভাবে অভিবাসীদের ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে।

মূলত আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে মাদুরো সরকারের পতন প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল বলে ঠারেঠোরে গত কয়েক মাস ধরেই বোঝাতে চাইছিল আমেরিকা। গত সেপ্টেম্বর থেকে তাই ক্যারিবীয় এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে ভেনেজুয়েলার একের পর এক জলযানে হামলা চালাতে শুরু করে আমেরিকা। ওই সব নৌকায় মাদক পাচার করা হত বলে দাবি ওয়াশিংটন দাবি করলেও মাদুরো প্রশাসনের বক্তব্য, বেশির ভাগ হামলাতেই প্রাণ গিয়েছে সাধারণ মৎস্যজীবীদের। এর মধ্যেই ভেনেজুয়েলার তেলবাহী দু’টি ট্যাঙ্কারও বাজেয়াপ্ত করে আমেরিকান নৌবাহিনী। ট্রাম্প প্রশাসনের নজর যে আসলে তাঁর দেশের খনিজ তেলের উপরে, তা আগেও বহু বার স্পষ্ট করেছেন মাদুরো। আমেরিকা এর মধ্যেই ভেনেজুয়েলার দু’টি সংগঠনকে সন্ত্রাসবাদী তকমা দেয়। যার একটির মাথায় ছিলেন স্বয়ং প্রেসিডেন্ট মাদুরো। ওই সংগঠনগুলির মাধ্যমে ভেনেজুয়েলা থেকে সমুদ্রপথে আমেরিকায় মাদক ঢুকছে বলে দাবি করেছিলেন ট্রাম্প। নিউ ইয়র্কের ফেডেরাল আদালতে মাদুরোর বিচার হবে বলে জানিয়েছে আমেরিকা। বর্তমানে তাঁকে ব্রুকলিনের ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়েছে।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.