লাদাখ থেকে শুরু করে অরুণাচল প্রদেশ পর্যন্ত ভারতীয় ভূখণ্ডে চিনের দু’পা এগিয়ে এক পা পিছিয়ে যাওয়ার ‘সালামি স্লাইসিং’ নীতি অত্যন্ত পরিচিত। কড়া হাতে এর মোকাবিলা করেছে ভারতীয় সেনা। কিন্তু এবার লালফৌজের নজর পড়েছে প্রশান্ত মহাসাগরে। একাধিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এবার সাগরেও ‘সালামি স্লাইসিং’ নীতি অনুসরণ করছে বেজিং। যার জেরে শঙ্কিত আমেরিকা।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘সিএনএন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি কয়েকটি চিনা জাহাজ চিনের মূল ভূখণ্ড থেকে অনেক দূর পর্যন্ত টহল দিয়েছে। তাইওয়ানের পূর্বে সমুদ্রের বেশ কিছু সংবেদনশীল এলকা নাকি ‘গিলে খেতে’ চাইছে বেজিং। শুধু তাই নয়, বিতর্কিত শোল লেগুনেও চিন গবেষণা চালাচ্ছে বলে খবর। বিশেষজ্ঞদের মতে, বেজিংয়ের এই পদক্ষেপগুলি ‘সালামি স্লাইসিং’ কৌশলেরই প্রতিফলন। এই কৌশলে সামরিক সংঘাত বা উত্তেজনা সৃষ্টি না করে ছোট ছোট কিন্তু ধারাবাহিক পদক্ষেপের মাধ্যমে সাগরে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করছে।
আরও পড়ুন:
বিশ্লেষকরা বলছেন, পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের একাধিক এলাকা যেগুলি চিন এবং আমেরিকা উভয় দেশের কাছেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ, সেগুলিতে এবার নিজেদের প্রভাব বাড়াচ্ছে বেজিং। চিনের এই পদক্ষেপ তাইওয়ানের জন্য বিশেষভাবে উদ্বেগজনক হতে পারে। কারণ, বেজিং বারবারই দাবি করে এসেছে তাইওয়ান চিনের অংশ। প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে ‘ড্রাগন’। চলতি মাসের শুরুতে চিনের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থার তিনটি জাহাজ তাইওয়ান ও ফিলিপিন্সের মধ্যবর্তী বাশি প্রণালী দিয়ে চলাচল করেছে। জাহাজগুলি তাইওয়ানের পূর্বাঞ্চলে সাগরে মানচিত্র নির্মানেরও কাজ শুরু করেছে। প্রশ্ন উঠছে, চিনের এই কৌশল আগ্রাসন কি রুখতে পারবে আমেরিকা?
সমুদ্রে মানচিত্র নির্মাণের সামরিক ও কৌশলগত তাৎপর্যও রয়েছে। এক বিশেষজ্ঞের কথায়, “এই তথ্য চিনা নৌবাহিনীকে তাইওয়ানের পূর্ব দিকের জলসীমায় সাবমেরিন ও নৌবহর আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে সাহায্য করবে।” শুধু তাই নয়, এর মাধ্যমে বেজিং সমুদ্রের তলদেশে বিছিয়ে থাকা তার, প্রাকৃতিক সম্পদ এবং অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেতে পারে। যা ভবিষ্যতের জন্য উপযোগী হয়ে উঠতে পারে। তাইওয়ানের পূর্বদিকের জলরাশি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এটি দ্বীপটিকে বৃহত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করে এবং সংকটকালে তাইওয়ানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সুতরাং, চিন যদি সেখানে তার উপস্থিতি শক্তিশালী করে তাহলে তাইওয়ানের জন্য সমস্যা বাড়বে।
বলে রাখা ভালো, বহুদিন ধরেই ড্রাগনের আগ্রাসনে কোণঠাসা তাইওয়ান। বরাবরই তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ হিসেবে দাবি করে এসেছে চিন। বেজিংয়ে ক্ষমতার রাশ শি জিনপিংয়ের হাতে আসার পর থেকেই আরও আগ্রাসী হয়ে উঠেছে কমিউনিস্ট দেশটি। একাধিকবার জোর করে তাইওয়ান দখলের কথাও বলেছেন প্রেসিডেন্ট শি। তারপর থেকেই আরও সতর্ক হয়ে গিয়েছে তাইওয়ান। লালফৌজের হামলা ঠেকাতে সামরিক বাহিনীকে অত্যাধুনিক হাতিয়ারে সাজিয়ে তুলছে তাইওয়ানও।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সাল নাগাদ ভারত-ভূটান-চিন সংযোগে ডোকলাম নিয়ে ভারত ও চিনের মধ্যে একপ্রস্থ উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ওই এলাকায় সড়ক বানাতে চাইছিল চিনা সেনা। এরপর একটি স্যাটেলাইট সূত্রে পাওয়া ছবিতে দেখা যায় যে, ডোকলামের ৯ কিলোমিটার পূর্বে একটি আস্ত গ্রাম তৈরি করেছে চিন! অন্যদিকে, ২০২১ সালে এক সর্বভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেল দাবি করেছিল, উত্তর-পূর্বে অরুণাচল প্রদেশে ধীরে ধীরে থাবা বসাচ্ছে লালফৌজ। ওই টেলিভিশন চ্যানেল তাদের রিপোর্টে দাবি করেছিল, ভারতীয় ভূখণ্ডের চার কিলোমিটার ভিতরে ঢুকে এসে তাসরি চু নদীর তীরে গ্রাম তৈরি করেছে চিন। যা নিয়ে দু’দেশের মধ্যে সংঘাত বাড়ে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
লেনিন নয়, হৃদয় সম্রাট শিবাজি! ‘লাল’ যাদবপুরে পালিত ‘হিন্দু সাম্রাজ্য দিবস’
-
লিঙ্কডিনে ফুটবলার খুঁজে বিশ্বকাপের নকআউটে! কেপ ভার্দের স্বপ্নের সওদাগর যে মানুষটা
-
জীবিকা হারানো হকারদের এককাট্টা করে আন্দোলনের প্রস্তুতি ‘কালীঘাট তৃণমূলের’, ফের পথে মমতা!
-
প্রতীক কার! ঋতব্রতদের বিরুদ্ধে থানায় নালিশ ‘কালীঘাট তৃণমূলের’
-
গেরুয়া উত্তরীয় বনাম বোরখা, পোশাক নিয়ে বারাসত কলেজে সম্মুখ সমরে এবিভিপি-বজরং দল!