বিশ্বকাপ সেমির লড়াইয়ের আগে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ (ইসলাস মালভিনাস) নিয়ে ফের ‘সম্মুখ সমরে’ আর্জেন্টিনা-ব্রিটেন। চার দশকেরও বেশি সময় আগে এই দ্বীপকে কেন্দ্র করেই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে জড়িয়েছিল দুই দেশ। এত বছর পর বিশ্বকাপ আবহে ফের ফকল্যান্ড নিয়ে ব্রিটেনকে ‘রক্তচক্ষু’ আর্জেন্টিনার। আর্জেন্টিনার বিদেশমন্ত্রী পাবলো কুইর্নো দাবি করেছেন, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার এলাকা। অবৈধভাবে তা দখল করে রেখেছে ব্রিটেন। তাঁর এহেন দাবির পরই ফুঁসে উঠেছে লন্ডন।
সম্প্রতি পাবলো বলেন, “ফকল্যান্ডের জনবিন্যাস পালটাতে সেখানে কৃত্রিমভাবে জনবসতি স্থাপন করা হচ্ছে। ফকল্যান্ড বরাবরই অর্জেন্টিনার এলাকা। বেআইনিভাবে তা দখল করেছে রেখেছে ব্রিটেন। সেই কারণেই ব্রিটেনের দ্বারা একতরফাভাবে আয়োজিত কোনও গণভোটের আইনি কার্যকারিতা থাকতে পারে না। একমাত্র দু’দেশের আলোচনা এবং চুক্তির মাধ্যমেই এর সমাধান সম্ভব।” তার এই মন্তব্যের পরই পালটা দেয় ব্রিটেন। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর জানিয়ে দিয়েছে, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব নিয়ে ব্রিটেনের অবস্থানে কোনও পরিবর্তন হয়নি। এটি ব্রিটেনের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। ফকল্যান্ড সংক্রান্ত নীতিতে কোনও পরিবর্তন হবে না। তারা স্পষ্ট করেছে, ২০১৩ সালে গণভোটে ফকল্যান্ডের বাসিন্দারা ব্রিটেনের সঙ্গে থাকারই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আরও পড়ুন:
দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে আর্জেন্টিনার উপকূল থেকে প্রায় ৫০০-৬০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ স্বশাসিত এলাকা হলেও ১৮৩৩ সাল থেকে ব্রিটেনের নিয়ন্ত্রণে। তবে আর্জেন্টিনা দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে, দ্বীপগুলি তাদের ভূখণ্ডের অংশ। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে ১৯৮২ সালে কড়া পদক্ষেপ করে বুয়েনস এয়ার্স। আর্জেন্টিনার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট লিওপোল্ড গালতিয়েরির নির্দেশে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ দখল করে আর্জেন্টাইন সেনা। এর জবাবে তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার দক্ষিণ আটলান্টিকে যুদ্ধজাহাজ, বিমান ও সেনা পাঠান। টানা ৭৪ দিনের যুদ্ধের পর অবশেষে আত্মসমর্পণ করে আর্জেন্টিনা। এরপর ফকল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ পুনরায় ব্রিটেনের হাতে ফিরে যায়। ভয়াবহ এই যুদ্ধে প্রায় ৬৫০ জন আর্জেন্টাইন এবং ২৫৫ জন ব্রিটিশ সৈন্যর মৃত্যু হয়।

বলে রাখা ভালো, এই ফকল্যান্ড যুদ্ধের আচঁ এসে পড়ে ১৯৮৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপেও।যুদ্ধক্ষেত্রে হয়তো রাইফেল হাতে ছুটে যাননি। কিন্তু যুদ্ধের চার বছর পর ‘ফুটবল রাজপুত্র’ দিয়াগো মারাদোনা বাঁ পা দিয়ে শাসন করেছিলেন ইংল্যান্ডের মিথ্যে অহংকার আর ঐতিহ্যকে। প্রথমটায় সেই বিতর্কিত, ‘হ্যান্ড অফ গড।’ দ্বিতীয়টি ৬ জনকে কাটিয়ে শতাব্দীর সেরা গোলে। সেই ইংল্যান্ডকেই শিক্ষা দেওয়ার সুযোগ ফের একবার তৈরি হয়েছে। চলতি বিশ্বকাপের সেমি ফাইনালে আবারও মুখোমুখি ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা। আবারও কি সেই প্রতিশোধের আগুনে জ্বলে উঠতে পারবে আর্জেন্টিনা?
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
বেআইনি মদ-মাদক চক্র নির্মূলে বিশেষ অভিযানে কলকাতা পুলিশ, তৈরি পাচারকারীদের তালিকাও
-
‘ধর্ষণে’ অভিযুক্তকে কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরাল পুলিশ! চাঞ্চল্য কালচিনিতে
-
এবার হরমুজ পারে দিতে হবে মোটা কর! ঘোষণা ‘অভিভাবক’ ট্রাম্পের, ছাড় নয় ভারতকেও?
-
প্রবল বর্ষণ, হড়পা বানে বিপর্যস্ত পাহাড়, ধসে অবরুদ্ধ একাধিক সড়ক
-
সম্পত্তির লোভে শাশুড়িকে খুন, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড জামাইয়ের