গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বিশ্বকে স্তম্ভিত করে ইরানে (Iran War) হামলা চালিয়েছিল ইজরায়েল। সেই হামলায় তাদের সঙ্গ দিয়েছিল ট্রাম্পের আমেরিকা। সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা খামেনেইকে হত্যা করার পাশাপাশি কার্যত ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে গোটা ইরানে। তবে ২৮ ফেব্রুয়ারি এই হামলা চললেও রিপোর্ট বলছে, দীর্ঘ বছর ধরে ইরানে এই হামলার পরিকল্পনা করে আসছিল ইজরায়েল। সেই জর্জ বুশের আমল থেকে। তবে বুশের পাশাপাশি বারাক ওবামা এবং জো বাইডেন ইজরায়েলের প্রস্তাব খারিজ করে। শেষ পর্যন্ত নেতানিয়াহুর ফাঁদে পড়েন ট্রাম্প।
সম্প্রতি এক টিভি শোতে এসে চাঞ্চল্যকর এই দাবি করেছেন আমেরিকার প্রাক্তন বিদেশ সচিব জন কেরি। তিনি বলেন, “ইরানের মাটিতে হামলা চালানোর দাবি ইজরায়েলের দীর্ঘদিনের। এর আগে বহুবার আমেরিকাকে এই প্রস্তাব দিয়েছে ওরা। আমি নিজেও এই আলোচনার অংশ ছিলাম। তবে জর্জ বুশ, ওবামা, প্রেসিডেন্ট বাইডেনও এই প্রস্তাব খারিজ করেছিলেন। কারণ আমেরিকার প্রশাসন এই যুদ্ধের পক্ষে কখনই ছিল না। বরাবর তাঁরা অন্য কোনও বিকল্প পথ খুঁজেছেন।” ভিয়েতনাম যুদ্ধের উদাহরণ টেনে তিনি আরও বলেন, “ভিয়েতনাম যুদ্ধে আমাদের মিথ্যে বলা হয়েছিল। ইরাক যুদ্ধেও আমাদের যথেষ্ট শিক্ষা হয়েছিল।”
আরও পড়ুন:
কেরি বলেন, ‘১১ ফেব্রুয়ারি হোয়াইট হাউসের এক বৈঠকে নেতানিয়াহু বলেছিলেন, ইরানে সরকার বদলের এটাই সঠিক সময়। আমেরিকা ও ইজরায়েল একসঙ্গে এই সাফল্য পেতে পারে।”
তবে ট্রাম্প সে পথে না হেঁটে যুদ্ধ বেছে নিয়েছেন। এপ্রসঙ্গে কেরি বলেন, ‘১১ ফেব্রুয়ারি হোয়াইট হাউসের এক বৈঠকে নেতানিয়াহু বলেছিলেন, ইরানে সরকার বদলের এটাই সঠিক সময়। আমেরিকা ও ইজরায়েল একসঙ্গে এই সাফল্য পেতে পারে। এরপরই ট্রাম্প হামলায় সম্মত হন।” যদিও এই বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের অন্দরে মতপার্থক্য ছিল। নেতানিয়াহু এটিকে সহজ বলে দাবি করলেও বাস্তবে তা সহজ হয়নি। ট্রাম্পের যুদ্ধ কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলে কেরি বলেন, “এই যুদ্ধ ইরানের সঙ্গে চুক্তির যাবতীয় সম্ভাবনাকে দুর্বল করে দিয়েছে। এই সময় ইরানের বিরুদ্ধে কোনওরকম হামলা না হলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হবে।”
উল্লেখ্য যে, নেতানিয়াহু গত তিন দশক ধরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বারবার সতর্ক করে আসছেন। ১৯৯০-এর দশকে তিনি বলেছিলেন যে, ইরান তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারে। গত কয়েক বছরে তিনি দাবি করেন, ইরান কয়েক সপ্তাহ বা মাসের মধ্যেই বোমা তৈরি করবে। তবে, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএএইএ) এবং রাষ্ট্রসংঘের পরিদর্শকরা এখনও এমন কোনও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ খুঁজে পাননি যে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কাছাকাছি।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘কুণাল বললে প্রোমোশন, মানুষ বললেই দোষ!’, হালিশহরে ডাকাতরানি প্রসঙ্গে কী বললেন দিলীপ ঘোষ?
-
হালিশহরের নিহত তৃণমূল কর্মীর বাড়ি যাচ্ছেন শুভেন্দু, বদলের বাংলায় সৌজন্যের নজির
-
মেঘ সরিয়ে রোদের ঝিলিক দক্ষিণবঙ্গে, কেমন থাকবে উত্তরের আবহাওয়া?
-
দেশের স্বার্থে ফেডারেশনের প্রস্তাব গ্রহণ, একসঙ্গে কাজ করবেন বিবিয়ানো-বাজাজ
-
সৌদির তেল শোধনাগারে ভয়ংকর হামলা, চুক্তির পরই ‘মুসলিম ন্যাটো’র গালে সপাটে চড় হাউথির