রাম মন্দিরে অনুদান চুরির ঘটনায় প্রশ্নের মুখে খোদ শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট। যদিও যাবতীয় দায় ঝেড়ে ফেললেন ট্রাস্টের কোষাধ্যক্ষ গোবিন্দ দেব গিরি। দীর্ঘ নিরবতা ভেঙে দু’পাতার বিবৃতি দিলেন তিনি। পুঙ্খানুপুঙ্খ ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি গোবিন্দ গিরির দাবি, রাম মন্দিরে অনুদান বা প্রণামী গণনায় তাঁর কোনও ভূমিকা ছিল না। প্রশ্ন উঠছে, রাম মন্দিরের অনুদান গণনায় প্রধান কোষাধ্যক্ষের ভূমিকা না থাকলে কার ভূমিকা থাকবে?
কতকটা সঙ্ঘের সুরে সুর মিলিয়ে গোবিন্দ দেব গিরি বলেছেন, রাম মন্দির চুরি একটি অবিশ্বাস্য ঘটনা। এমন কাণ্ডে আহত হয়েছেন গোটা দেশের অসংখ্য ভক্তেরা। বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী দেবতার উদ্দেশ্যে নিবেদিত সামগ্রী চুরির ঘটনাটি দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসছিল। তিনি বিষয়টিকে ভক্তদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক বলেও অভিহিত করেন।
বিবৃতিতে গোবিন্দ গিরি স্পষ্ট করেছেন যে তিনি ‘শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট’-এর ট্রাস্টি বা কোষাধ্যক্ষ পদের জন্য কখনও কোনও আবেদন বা তদবির করেননি। তিনি বলেন, যে কোনও ভূমিকায় প্রভু রামের সেবা করা অত্যন্ত সৌভাগ্য ও পরিতৃপ্তির বিষয়। কোষাধ্যক্ষ জানিয়েছেন, ট্রাস্ট-সংক্রান্ত কাজের জন্য এক থেকে দেড় মাস অন্তর অযোধ্যা যান। বিমান বা অন্যান্য যাতায়াত বাবদ খরচ কখনওই ট্রাস্টের কাছে চাননি। এই কাজকে প্রভু রামের প্রতি নিঃস্বার্থ সেবা হিসেবেই দেখেন তিনি।
শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের কোষাধ্যক্ষের দাবি, শুরু থেকে এ পর্যন্ত সমস্ত আয়-ব্যয়ের নথিপত্র সংরক্ষণ করা হয়েছে। অনুমোদিত ব্যক্তিবর্গ পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। তাঁর ব্যাখ্যা, হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ তাঁর দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত হলেও ঘনঘন ভ্রমণের কারণে ট্রাস্টের পুনে কার্যালয় থেকে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টরা প্রতি মাসের শেষ চার-পাঁচ দিন অযোধ্যায় আসেন। তাঁরা হিসাবপত্র পরীক্ষা করেন, ট্রাস্টের কর্মীদের সাহায্য করেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন।
রাম মন্দিরের কোষাধ্যক্ষ আরও জানান, ট্রাস্টি হওয়ার পর থেকে কারও কাছ থেকে ব্যক্তিগতভাবে কোনও নগদ অনুদান বা উপহার গ্রহণ করেননি তিনি। দু’টি ব্যতিক্রমী ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর প্রয়াত বোনের দেওয়া ১১,০০০ টাকার অনুদান এবং পুনেতে নীলম গো-হেজির দেওয়া এক কিলোগ্রাম ওজনের একটি রুপোর পাত। আরও জানান, এই দু’টি অনুদানের ক্ষেত্রেই তাৎক্ষণিকভাবে রসিদ দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া কেবল চেকের মাধ্যমেই অনুদান গ্রহণ করেছেন তিনি। যদিও প্রশ্ন উঠছে, ট্রাস্টের সদস্যরা কেউ কিছুই জানেন না, অথচ তিন হাজার কোটির চুরি হয়ে গেল! এমনটা আদৌ সম্ভব?
সর্বশেষ খবর
-
ভুলো বিল তৈরি করে কলকাতা পুলিশের ডিসি অফিসের ৫১ লাখ টাকা তছরূপ! গ্রেপ্তার সরকারি কর্তা
-
টি-২০ বিশ্বকাপ জয়ের রেকর্ড, ইংল্যান্ডকে হেলায় হারিয়ে সাতবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ান অস্ট্রেলিয়া
-
টোটোতে অ্যাম্বুল্যান্সের ধাক্কা, চালকের হাত কেটে পড়ে গেল রাস্তায়! ভয়ংকর কাণ্ড দুর্গাপুরে
-
বদ্রীনাথে অনুদান চুরির তদন্তে চার সদস্যের কমিটি, সাত দিনের মধ্যে রিপোর্ট তলব
-
বাথরুমে লুকিয়ে দাড়ি কাটছেন স্ত্রী! ৩ বছর সংসারের পর এ দৃশ্যে স্তম্ভিত স্বামী, তারপর…