Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৪ ভাদ্র ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ২২ আগস্ট ২০২৬
Pheasant Island

৬ মাস স্পেন, ৬ মাস ফ্রান্সের অধীনে! ৩৫০ বছরের দ্বীপে কেন পা রাখতে পারেন না পর্যটকরা?

নেই নীল জলরাশির হাতছানি, নেই বিলাসবহুল ভিলা কিংবা অলস দুপুরে বসার মতো কোনও ক্যাফে। অথচ, সাড়ে তিনশো বছরেরও বেশি সময় ধরে এক অদ্ভুত কূটনৈতিক ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে এই দ্বীপ।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ১৪, ২০২৬, ১৭:২২

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ১৪, ২০২৬, ১৭:২২

options
link
৬ মাস স্পেন, ৬ মাস ফ্রান্সের অধীনে! ৩৫০ বছরের দ্বীপে কেন পা রাখতে পারেন না পর্যটকরা? zoom
পৃথিবীর সবচেয়ে অদ্ভুতুড়ে এক টুকরো জমি! ছবি: সংগৃহীত
Advertisement

ফ্রান্স ও স্পেনের সীমানা দিয়ে বয়ে চলা বিদাসোয়া নদী। সেই নদীর বুকেই জেগে রয়েছে এক টুকরো ভূখণ্ড। আপাতদৃষ্টিতে তাকে অতি সাধারণ এক দ্বীপ বলে ভ্রম হতে পারে। নেই নীল জলরাশির হাতছানি, নেই বিলাসবহুল ভিলা কিংবা অলস দুপুরে বসার মতো কোনও ক্যাফে। অথচ, সাড়ে তিনশো বছরেরও বেশি সময় ধরে এক অদ্ভুত কূটনৈতিক ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে এই ফিজ্যান্ট আইল্যান্ড। বছরের ছ’মাস এই দ্বীপের মালিকানা থাকে স্পেনের হাতে, আর বাকি ছ’মাস ফ্রান্সের। পৃথিবীর বুকে এমন আশ্চর্য সীমান্ত ভাগাভাগির নজির মেলা ভার।

ছবি: সংগৃহীত

কেন এমন অদ্ভুত নিয়ম?
এই অদ্ভুত নিয়মের সূচনা হয়েছিল ১৬৫৯ সালে। দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ঘটাতে ফ্রান্স ও স্পেন পিয়েরেনিজ চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। আলোচনার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল বিদাসোয়া নদীর এই নিরপেক্ষ দ্বীপটিকে। এখানেই ফরাসি সম্রাট চতুর্দশ লুইয়ের সঙ্গে স্পেনের রাজকুমারী মারিয়া থেরেসার রাজকীয় বিয়ের বন্দোবস্ত হয়। উদ্দেশ্য ছিল একটাই— দুই দেশের মধ্যে শান্তির বার্তা সুপ্রতিষ্ঠিত করা। কিন্তু চুক্তি শেষে দ্বীপের মালিকানা কার হবে, তা নিয়ে তৈরি হয় জটিলতা। কোনও দেশই এই ভূখণ্ডের দাবি ছাড়তে রাজি ছিল না। শেষমেশ এক অভিনব সমঝোতায় পৌঁছায় দুই পক্ষ। ঠিক হয়, বছরের প্রতি ছ’মাস অন্তর এই দ্বীপের সার্বভৌমত্ব আবর্তিত হবে দুই দেশের মধ্যে। সাড়ে তিন শতাব্দী পেরিয়ে আজও সেই নিয়ম চলছে নিয়ম মেনেই।

Advertisement

সাধারণের জন্য রুদ্ধদ্বার?
ইতিহাসের গন্ধমাখা এই দ্বীপে পা রাখার উপায় অবশ্য নেই। পর্যটকদের জন্য ফিজ্যান্ট আইল্যান্ডের দরজা সম্পূর্ণ বন্ধ। সেখানে যাওয়ার জন্য কোনও ফেরি সার্ভিস বা হাঁটার পথ নেই। কেবল দুই দেশের পদস্থ আধিকারিকরাই সেখানে যাওয়ার অনুমতি পান। ছ’মাস অন্তর আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব হস্তান্তর এবং রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনে তাঁরা দ্বীপে যান। ফ্রান্সের ‘হঁদাই’ কিংবা স্পেনের ‘ইরুন’ শহরের নদীপাড়ে দাঁড়ালে এই সবুজ ভূখণ্ড চোখে পড়বে। তবে দূর থেকে দেখেই মন ভরাতে হয় ভ্রমণপিপাসুদের।

ছবি: সংগৃহীত

সমঝোতার সবুজ প্রতীক
আজকের ফিজ্যান্ট আইল্যান্ড সম্পূর্ণ জনমানবহীন। কোনও বাসিন্দা নেই, নেই কোনও কেয়ারটেকার। একদা ইউরোপীয় কূটনীতির ভরকেন্দ্র আজ যেন এক নিঝুম অরণ্যখণ্ড। সাম্রাজ্যের উত্থান-পতন, রাজবংশের বদল কিংবা যুদ্ধের কোলাহল— কোনও কিছুই এই রীতির পরিবর্তন করতে পারেনি। যেখানে সীমান্ত মানেই সাধারণত বিভাজন আর কাঁটাতার, সেখানে এই চিলতে দ্বীপটি পারস্পরিক সহযোগিতার এক অনন্য প্রতীক। নদীর দুই পারের শহর দুটির নিজস্ব এক মায়াবী পরিবেশ রয়েছে। হঁদাই শহরের বাস্ক স্থাপত্য আর বালুকাবেলা, কিংবা ইরুন শহরের ঐতিহাসিক পুরোনো মহল্লা আর জমজমাট বাজার পর্যটকদের টানে। আর দুই শহরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে এই শান্ত দ্বীপটি মনে করিয়ে দেয়, ইতিহাস আর ভূগোল কীভাবে এক আশ্চর্য সমঝোতায় মিলেমিশে যেতে পারে।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.