Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ২০ আগস্ট ২০২৬
Jatinga

সন্ধ্যা নামলেই পাখিদের গণ-আত্মহত্যা! অসমের রহস্যে ঘেরা এই গ্রাম হোক আপনার আগামী ডেস্টিনেশন

অসমের পাহাড়ি কোলে লুকিয়ে থাকা একচিলতে গ্রাম, নাম তার জাটিঙ্গা। উত্তর-পূর্ব ভারতের এই ছোট্ট জনপদ বছরের নির্দিষ্ট সময়ে হয়ে ওঠে অপার্থিব।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ২, ২০২৬, ২০:৫৫

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ২, ২০২৬, ২০:৫৫

options
link
সন্ধ্যা নামলেই পাখিদের গণ-আত্মহত্যা! অসমের রহস্যে ঘেরা এই গ্রাম হোক আপনার আগামী ডেস্টিনেশন zoom
রহস্যে ঘেরা এই গ্রামে আগে গিয়েছেন কখনও?
Advertisement

কুয়াশার চাদর সরালেই যেন এক রূপকথার দেশ! তবে সেই রূপকথা আনন্দের নয়, বিষাদ্গাথার। অসমের পাহাড়ি কোলে লুকিয়ে থাকা একচিলতে গ্রাম, নাম তার জাটিঙ্গা। উত্তর-পূর্ব ভারতের এই ছোট্ট জনপদ বছরের নির্দিষ্ট সময়ে হয়ে ওঠে অপার্থিব। মেঘেদের দেশে ডানা মেলতে মেলতে হঠাৎই এই সময় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি। পাখিদের এহেন আত্মহত্যা দেখে অবাক হোন সকলে। রহস্য ও রোমাঞ্চের এই অদ্ভুত ঘটনা দেখতেই প্রতি বছর জাটিঙ্গায় ভিড় জমান দেশ-বিদেশের পর্যটকরা।

ছবি: সংগৃহীত

ডিমা হাসাও জেলার এই গ্রামে মূলত সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাস নাগাদ দেখা যায় এক আশ্চর্য দৃশ্য। সূর্যাস্ত হলেই উত্তর দিক থেকে উড়ে আসে বক, মাছরাঙা, কালি বকের মতো প্রায় ৪৪ প্রজাতির স্থানীয় পাখি। তারপরই তারা কোনও এক অজানা আকর্ষণে দ্রুত গতিতে বাড়ি বা গাছের গায়ে আছড়ে পড়ে। বিজ্ঞান ও বিশ্বাসের এক অদ্ভুত টানাপোড়েন চলে এই উপত্যকায়। স্থানীয়দের একাংশ মনে করেন, কোনও অশুভ আত্মার অভিশাপেই নাকি এই কাণ্ড ঘটে। তবে পক্ষীবিদদের মতে, বর্ষার শেষে বন্যার কারণে বাসা হারিয়ে পরিযায়ী নয়, বরং স্থানীয় পাখিরা দিশেহারা হয়ে পড়ে। রাতের অন্ধকারে গ্রামের জোরালো আলো দেখে বিভ্রান্ত হয়ে তারা ছুটে আসে ঠিকই। কিন্তু গাছে বা দেওয়ালে ধাক্কা খেয়ে মারা যায়। অনেকে আবার এর পিছনে পাহাড়ি অঞ্চলের ভূ-চুম্বকীয় বা বায়ুমণ্ডলীয় পরিবর্তনের তত্ত্বও খাড়া করেছেন। কারণ যাই হোক না কেন, এই মরশুমে জাটিঙ্গা জুড়েই যেন চলে মৃত্যুর উৎসব।

Advertisement
ছবি: সংগৃহীত

কীভাবে যাবেন এই রহস্যের দেশে?
রাজধানী গুয়াহাটি থেকে জাটিঙ্গার দূরত্ব প্রায় ৩৩০ কিলোমিটার। তবে সবচেয়ে সুবিধা হয় অসমের একমাত্র শৈল শহর হাফলং থেকে গেলে। হাফলং থেকে জাটিঙ্গা মাত্র ৯ কিলোমিটারের পথ। সেখান থেকে সহজেই অটো রিকশা চেপে পৌঁছে যাওয়া যায় এই পাখি মরণ-মেলা দেখতে। আবার শিলচরগামী বাসে চেপেও সরাসরি জাটিঙ্গা পৌঁছনো সম্ভব।

ছবি: সংগৃহীত

কোথায় থাকবেন তা নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। জাটিঙ্গার ঠিক পাশেই অবস্থিত মনোরম পাহাড়ি শহর হাফলং। পর্যটকদের থাকার জন্য হাফলং-এ বিভিন্ন বাজেটের সুন্দর সুন্দর হোটেল পেয়ে যাবেন। এছাড়া জাটিঙ্গা গ্রামেই রয়েছে একটি সরকারি বার্ড ওয়াচিং সেন্টার। জেলা বন দফতরের আগাম অনুমতি নিয়ে আপনি সেখানেও থাকার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা গায়ে মাখতে পারেন। মেঘ-পাহাড়ের লুকোচুরি আর ডানার স্পন্দনে লুকিয়ে থাকা এক চিরন্তন রহস্যের সাক্ষী হতে এই পুজোয় আপনার ট্রাভেল ডায়েরিতে রাখতেই পারেন জাটিঙ্গাকে।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.