ভারতের সৌন্দর্য দেখে শেষ হওয়ার মতো নয়। পাহাড়, সমুদ্র থেকে শুরু করে তুষারাবৃত হিমালয়, কী নেই এই দেশে! বিশেষ করে বিবিধ কারুকাজ করা মন্দির। সঙ্গে রাজকীয় প্রাসাদের হাতছানি। আর এসবই রয়েছে দক্ষিণে। ভারতের মানচিত্রে দক্ষিণ মানেই এক অন্য মায়া। নীল সমুদ্রের কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা কারুকার্যময় প্রাচীন স্থাপত্য। এগুলো না দেখলে যেন জীবনের অনেকটাই বাকি থেকে যায়। অথচ সাধ থাকলেও সাধ্যি সকলের থাকে না। যাতায়াতের ঝক্কি হোক বা বিপুল খরচের ভয়। ভ্রমণের পথে এগুলো বাধা হয়ে দাঁড়ায় বইকি! অথচ, সাধারণ মানুষের সেই স্বপ্নপূরণ করতে এবার বিশেষ উদ্যোগ নিল ইন্ডিয়ান রেলওয়ে কেটারিং অ্যান্ড ট্যুরিজম কর্পোরেশন (IRCTC)। দক্ষিণ সফরে চালু হচ্ছে বিশেষ ‘ভারত গৌরব ট্যুরিস্ট ট্রেন’।

আরও পড়ুন:
১১ রাত ও ১২ দিনের এই দীর্ঘ সফর। দক্ষিণ ভারতের একগুচ্ছ তীর্থক্ষেত্র ও দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখার সুযোগ পাবেন যাত্রীরা। আগামী ১১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে শুরু হবে এই সফর। চলবে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত। উত্তর ভারতের গোরক্ষপুর থেকে এই বিশেষ ট্রেন যাত্রা শুরু করলেও, বাংলার পর্যটকদের জন্যও থাকছে বিশেষ সুযোগ। রেল সূত্রে খবর, যাত্রাপথের বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রীদের ওঠা-নামার সুবিধা থাকবে।
কোথায় কোথায় ঘোরানো হবে?
দক্ষিণ ভারতের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্য ও তীর্থক্ষেত্র ঘুরিয়ে দেখানোর জন্য এই প্যাকেজটি বিশেষ ভাবে সাজানো হয়েছে। দেখে নিন কী কী রয়েছে প্যাকেজে?

১) তিরুপতি বালাজি মন্দির
২) রামেশ্বরমের রামনাথস্বামী মন্দির
৩) মাদুরাইয়ের মীনাক্ষী মন্দির
৪) কন্যাকুমারীর বিবেকানন্দ রক মেমোরিয়াল
৫) মল্লিকার্জুন জ্যোতির্লিঙ্গ

প্যাকেজের খরচ ও সুবিধা
যাত্রীদের সাধ্যের কথা মাথায় রেখে তিনটি বিভাগে ভাগ করা হয়েছে এই সফরকে। প্রতিটি প্যাকেজেই ট্রেন ভাড়া, নিরামিষ আহার (প্রাতরাশ, মধ্যাহ্নভোজ ও নৈশভোজ), থাকার ব্যবস্থা এবং স্থানীয় সাইটসিয়িং অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কোন প্যাকেজের কেমন খরচ?
১. ইকোনমি ক্লাস (স্লিপার): মাথাপিছু খরচ ২৪,৭৯০ টাকা। শিশুদের জন্য (৫-১১ বছর) ২৩,৪০০ টাকা। এতে থাকবে নন-এসি হোটেল ও যাতায়াতের সুবিধা।
২. স্ট্যান্ডার্ড ক্লাস (থ্রি-টায়ার এসি): মাথাপিছু খরচ ৪২,৫৩০ টাকা। শিশুদের জন্য ৪০,৯০০ টাকা। এসি হোটেলে থাকার সুবিধা পাওয়া যাবে।
৩. কমফোর্ট ক্লাস (টু-টায়ার এসি): মাথাপিছু খরচ ৫৬,৭১০ টাকা। শিশুদের জন্য ৫৪,৭৫০ টাকা। এসি হোটেল ও এসি গাড়িতে ঘোরার সুযোগ থাকবে।
কীভাবে বুকিং করবেন?
আইআরসিটিসি-র অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে সরাসরি টিকিট বুক করা যাবে। এ ছাড়াও লখনউয়ের গোমতী নগরে সংস্থার অফিসে যোগাযোগ করে টিকিট বুকিং করতে পারেন। মধ্যবিত্তের সুবিধার্থে এই প্যাকেজে ইএমআই (EMI) এবং এলটিসি (LTC) সুবিধাও রাখা হয়েছে। আগে আসার ভিত্তিতে টিকিট সংরক্ষণের সু্যোগ রয়েছে।
ছুটির মরশুমে দক্ষিণ ভারতের মন্দিরে আরতি দেখা বা কন্যাকুমারীর সূর্যাস্ত উপভোগ করতে চাইলে এই সুযোগ মিস করবেন না। শুধু নিজের পিঠের ব্যাগ গুছিয়ে নিলেই হবে। বাকি দায়িত্ব রেলের।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
রেজিনগরে ঋত শিবিরের প্রার্থী সফিউজ্জামান আবু তাহেরের ভাগ্নে? কী বলছেন এনসিপি সাংসদ?
-
গণেশ পুজোয় দেশি লুকে টিফানি, ট্রাম্পকন্যার সঙ্গে ছবি পোস্ট করে ‘সুন্দরী’ সম্বোধন সঞ্জয়ের
-
রোগী পিছু ফি ৮০০ টাকা, আটটি চেম্বার! সোনারপুরে গ্রেপ্তার ভুয়ো চিকিৎসক
-
‘তুঝে দেখা তো ইয়ে জানা সনম’, মোদিকে বলিউডি বার্তা মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর, কী বললেন পুতিনকে?
-
নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানিই! শুভেন্দুর সঙ্গে জমা দেবেন মনোনয়ন