আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ। হাত ছুঁয়ে মেঘেদের লুটোপুটি। দু’ধারে গভীর খাদ। চারপাশে চোখজোড়ানো দৃশ্য। গন্তব্য সিকিম। হিমালয়ের কোলে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে তার রাজধানী গ্যাংটক। তিব্বতি বৌদ্ধ সংস্কৃতির সুবাস। আধুনিক জীবনযাত্রার এক অদ্ভুত মেলবন্ধন এই শহর। বহুবার যেতে চাইলেও কোনও না কোনও কারণে অধুরা থেকে গিয়েছে সফর? চিন্তা নেই। এবার মধ্যবিত্তের পকেটের কথা মাথায় রেখে আইআরসিটিসি (IRCTC) নিয়ে এল এক দুর্দান্ত সুযোগ। মাত্র ৯,৫১০ টাকায় ঘুরে আসুন কুয়াশামোড়া গ্যাংটক। ‘বিউটিফুল গ্যাংটক’ নামের এই ট্যুর প্যাকেজে রয়েছে ৩ রাত ও ৪ দিনের রোমাঞ্চ। সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, এর জন্য কোনও নির্দিষ্ট দিনক্ষণের অপেক্ষা করতে হবে না। যখন ইচ্ছে, ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়া যাবে। কারণ এই সফরে রয়েছে ‘ডেইলি ডিপারচার’-এর সুবিধা।

আরও পড়ুন:
রূপকথার দেশে ৪ দিন
যাত্রার সূচনা হবে নিউ জলপাইগুড়ি (NJP) স্টেশন অথবা বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে। সেখান থেকে নন-এসি গাড়িতে সোজা গ্যাংটকের হোটেল। প্রথম দিনটি ক্লান্তি কাটিয়ে পাহাড়ি বাতাস গায়ে মাখুন।
আসল রোমাঞ্চ শুরু হবে দ্বিতীয় দিনে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১২,৪০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত নীল জলের ছাঙ্গু লেক এবং ১৩,২০০ ফুটের বাবা হরভজন সিং মেমোরিয়াল দেখতে যাওয়ার পালা। শীতের মরশুমে এই ছাঙ্গু লেক বরফে জমে যেন এক সাদা ক্যানভাস হয়ে ওঠে। কেউ যদি ভারত-চীন সীমান্তের নাথু লা পাস ছুঁয়ে আসতে চান, তবে সেনার অনুমতি নিয়ে নিজস্ব খরচে তা ঘুরে দেখতে পারেন।
তৃতীয় দিনটি বরাদ্দ গ্যাংটক শহরের অলিতে-গলিতে ঘোরার জন্য। এনচে মনেস্ট্রি, গণেশ টোক, হনুমান টোক, তাশি ভিউ পয়েন্ট, বকথাং জলপ্রপাত, তিব্বতোলজি রিসার্চ ইনস্টিটিউট এবং হ্যান্ডিক্রাফট ডিরেক্টরেটের মতো দর্শনীয় স্থানগুলি ছুঁয়ে যাবে এই সফর। চাইলে নিজের খরচে রোপওয়েতে চেপে মেঘের ওপর ভেসে বেড়ানোর অভিজ্ঞতাও নেওয়া যেতে পারে। চতুর্থ দিনে সকালের জলখাবার খেয়ে পাহাড়কে বিদায় জানিয়ে আবার সমতলে ফেরার পালা।

খরচ ও প্যাকেজের খুঁটিনাটি
ঋতুভেদে এই সফরের খরচে কিছুটা তারতম্য রয়েছে। ১ জুলাই থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর, নভেম্বর মাস এবং জানুয়ারি থেকে মার্চ— এই ‘অফ সিজন’-এ কমফোর্ট ক্লাসে ডাবল শেয়ারিংয়ে খরচ শুরু মাত্র ৯,৫১০ টাকা থেকে। আর ‘ডিলাক্স ক্লাসে’ খরচ ১২,৯৫০ টাকা। তবে এপ্রিল থেকে জুন এবং উৎসবের ‘পিক সিজন’-এ এই খরচ কিছুটা বেড়ে দাঁড়ায় যথাক্রমে ১২,৬৫০ টাকা এবং ১৮,৩৫০ টাকা।
প্যাকেজের মধ্যেই থাকছে নামী হোটেলে থাকা, প্রতিদিনের সকালের জলখাবার ও রাতের মহার্ঘ নৈশভোজ। সঙ্গে যাতায়াতের গাড়ি এবং ভ্রমণ বিমার সুবিধাও মিলবে। তবে মূল ট্রেন বা বিমানের টিকিট এবং ব্যক্তিগত গাইড বা রোপওয়ের খরচ পর্যটকদের নিজেদেরই বহন করতে হবে।

জরুরি সতর্কতা
পাহাড় ভ্রমণের রোমাঞ্চের মাঝে কিছু নিয়ম মাথায় রাখা জরুরি। সিকিমে কিন্তু পরিচয়পত্র হিসেবে আধার কার্ড গ্রাহ্য নয়। তাই ভোটার আইডি, পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্স সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক। ছাঙ্গু লেকের পারমিটের জন্য অন্তত ৪ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি লাগবে। সঙ্গে ৫ থেকে ১১ বছরের শিশু থাকলে তাদের বয়সের শংসাপত্র সঙ্গে রাখতে ভুলবেন না। বিস্তারিত জানতে আইআরসিটিসি-র অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে (irctctourism.com) নজর রাখুন।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
জুন মাসে ‘এপ্রিল ফুল’! সরকারি কর্মচারীদের ডিএ বিজ্ঞপ্তি নিয়ে বিভ্রান্তি সোশাল মিডিয়ায়
-
সব বিদ্রোহী এক ছাতার তলায়? ২১ জুলাইয়ের আগেই মমতাকে বিরাট ধাক্কার পরিকল্পনা, ইঙ্গিত সুদীপের
-
মরুভূমিতে ঘুরতে এসেও শান্তি নেই, ল্যাপটপ খুলে ‘ওয়ার্ক ফ্রম উট’ করলেন তরুণ! ভাইরাল ভিডিও
-
তৃণমূলের কোন শিবির বিধানসভায় ‘বিরোধী’! ‘ফ্লোর টেস্ট’ না করে সিদ্ধান্ত কীভাবে, প্রশ্ন আদালতের
-
অভিষেকের আপ্ত সহায়ক বিরুদ্ধে জারি লুক আউট নোটিস! আরও বিপাকে সুমিত