ট্রেনের ভিতরেই সুবিশাল পালঙ্ক, খাওয়ার এলাহি ব্যবস্থা। ট্রেনে বসেই ঘোরা যাবে সমগ্র ভারতবর্ষ। এ দেশে যে এমনও ট্রেন রয়েছে, সে কথাই জানেন না বেশিরভাগ মানুষ। ভারতের ‘লাক্সারি ট্রেন’ (most expensive rail journey) যদি বলতে হয়, তবে রাজধানী, শতাব্দী, এমনকী হালের বন্দে ভারতও হেরে যাবে এই ট্রেনের কাছে। এই ট্রেনে চড়ার সুযোগ পান কেবলমাত্র সবচাইতে ধনী ব্যক্তিরাই। কারণ এক একটি টিকিটের দাম শুনলে চক্ষু চড়কগাছ হতে পারে।

আরও পড়ুন:
গল্প নয়, এক্কেবারে সত্যি! ট্রেনের নাম ‘মহারাজাস এক্সপ্রেস’। তবে বেশিরভাগ মানুষ একে ‘প্যালেস অন হুইলস’ নামে চেনে। মিথ্যে তো নয়, সত্যিই যেন এক চলতা-ফিরতা রাজপ্রাসাদ! ভারতের সবচাইতে দামি ট্রেন যাত্রার সুযোগ পাওয়া যায় এখানে। রাজকীয় বন্দোবস্তের আমেজ নিতে নিতে ঘুরতে পারা যায় ভারতের নানান রাজ্য। তবে এই ট্রেনে ভ্রমণের দামে বুঝি কলকাতায় ফ্ল্যাট কিনে ফেলা যাবে! এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নিয়ে যাবে এই ট্রেন। সেখানে নেমে ঘুরে দেখে, আবার ট্রেনেই ফিরে আসতে পারবেন পর্যটকরা।
বিশদে বলা যাক। ‘প্যালেস অন হুইলস’-এর ভিতরের সবকটি দেওয়ালই যেন ভারতীয় প্রাসাদের দেওয়ালের অনুকরণে বানানো। রীতিমতো চোখ ধাঁধিয়ে যায় সেদিকে তাকালে। ‘মহারাজা’স এক্সপ্রেস’-এ রয়েছে একটি প্রেসিডেনশিয়াল স্যুইট। দুইজন ব্যক্তি শেয়ারে থাকতে পারবেন এখানে। আর তার জন্য ভাড়া লাগবে জনপ্রতি ২০ লক্ষ টাকা! বছরের পিক সিজনে সেই দাম ২১ লক্ষ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। ৪৪৮ স্কোয়্যার ফিট বিস্তৃত এই স্যুইট। রয়েছে দুটো বেডরুম, একটি লিভিং রুম, একাধিক বাথরুম, মিনিবার। ব্যক্তিগত লেখার টেবিল রয়েছে, এমনকী পাওয়া যাবে একজন ব্যক্তিগত বাটলার, যিনি কেবল এই স্যুইটে ভ্রমণকারীদেরই ফাইফরমাশ খাটবে।

এছাড়া রয়েছে ডিলাক্স কেবিন, জুনিয়র স্যুইট ও স্যুইট। ডিলাক্স কেবিনের দাম সবচাইতে কম, মাত্র ৪ লক্ষ টাকায় ৪ দিন থাকা যাবে সেইখানে। ৪ দিনব্যাপী এই ট্যুর প্যাকেজটির নাম ‘ট্রেজার্স অফ ইন্ডিয়া’। সেই যাত্রা ৭ দিন পর্যন্ত টানতে চাইলে, জনপ্রতি ৭ লক্ষ টাকা মতো খরচ পড়তে পারে। এছাড়াও দিনসংখ্যা ও কোন কোন জায়গা ঘুরে দেখানো হবে তার ভিত্তিতে আরও বিভিন্ন প্যাকেজ রয়েছে। যেমন ‘ইন্ডিয়ান স্প্লেন্ডার’, ‘হেরিটেজ অফ ইন্ডিয়া’, ‘ইন্ডিয়ান প্যানোরামা প্রভৃতি। জয়পুর, আগ্রা, বারাণসী, উদয়পুর, রণথম্বোড়, খাজুরাহো প্রভৃতি জায়গা ঘুরে দেখার সুযোগ পাবেন যাত্রীরা।
তবে ট্রেনের টিকিটের দামের মধ্যেই ধরা থাকবে খাবারের দাম, বিভিন্ন সৌধের প্রবেশমূল্য এবং গাইডের সাম্মানিক। কেবল খাওয়ার জায়গা বললে ভুলে হবে, দু’খানা লাক্সারি রেস্তরাঁই রয়েছে এই ট্রেনের ভিতর, যার নাম রঙমহল ও ময়ূরমহল।
এতকাল পর্যন্ত কেবল সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসেই চলত এই ট্রেন। তবে এই বছরই প্রথম মে মাসে যাত্রা করছে ‘প্যালেস অন হুইলস’। ট্রেনটির লঞ্চের পর থেকে দীর্ঘ ৪৫ বছরে এই প্রথমবার ঘটতে চলেছে এমনটা। রাজস্থানের বুকে মে মাসের প্রবল গরমে ঘুরে বেড়ান নেহাত ছেলেখেলা নয়। তবে যে কোনও ভ্রমণপ্রেমীর কাছে যে এক অনন্য অভিজ্ঞতা হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানিই! শুভেন্দুর সঙ্গে জমা দেবেন মনোনয়ন
-
পুজো মিটলেই বাড়বে বাসের ভাড়া! বড় ইঙ্গিত অর্জুনের, কত হতে পারে ন্যূনতম ভাড়া?
-
গণেশ পুজোতেও উন্মুক্ত ক্লিভেজ! কৃতী শ্যাননের পোশাক বিতর্ক উসকে সমালোচিত দিশা
-
ওয়ার্ডে মাত্র ১ ভোট পেলেন বিজেপি প্রার্থী, রাজস্থানে চমকে দেওয়া কামব্যাকে বোর্ড গড়ছে সিপিএম
-
‘বিশ্বকর্মা পুজোয় নবান্নে আমার সঙ্গে অঞ্জলি দিন’, বামেদের চ্যালেঞ্জ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর