Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ১৩ জুন ২০২৬
Purulia

আগুন ঝরানো লাল পলাশের হাতছানি, পুরুলিয়ায় পর্যটকের ঢল সামলাতে সতর্ক বনদপ্তর

মার্চ ও এপ্রিলে  পুরুলিয়ায় বিপুল সংখ্যক পর্যটকের কথা মাথায় রেখে ৬টি দপ্তরকে নিয়ে সমন্বয় বৈঠক করেছে বনদপ্তর।

Advertisement
সুমিত বিশ্বাস
সুমিত বিশ্বাস

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬, ২১:০৫

link
সুমিত বিশ্বাস
সুমিত বিশ্বাস

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬, ২১:০৫

options
link
আগুন ঝরানো লাল পলাশের হাতছানি, পুরুলিয়ায় পর্যটকের ঢল সামলাতে সতর্ক বনদপ্তর zoom
পুরুলিয়ায় পর্যটকের ঢল সামলাতে সতর্ক বনদপ্তর। নিজস্ব চিত্র

দোল-হোলি থেকে পলাশের মরশুম। সেই সঙ্গে বুদ্ধ পূর্ণিমায় সেন্দ্রা। মার্চ ও এপ্রিলে  পুরুলিয়ায় বিপুল সংখ্যক পর্যটকের কথা মাথায় রেখে ৬টি দপ্তরকে নিয়ে সমন্বয় বৈঠক করেছে বনদপ্তর। গত মঙ্গলবার পুরুলিয়া বনবিভাগ কার্যালয়ের বৈঠকে ১০ টি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আপাতত ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৬ মার্চ পর্যন্ত দোল-হোলির কথা মাথায় রেখে পুরুলিয়ার তিনটি বনবিভাগেই সমস্ত কর্মী-আধিকারিকের ছুটি বাতিলের নির্দেশ জারি হয়েছে।

তাছাড়া এবার জেলা জুড়ে রায়তি জমি মিলিয়ে পুরুলিয়ার বনাঞ্চলে আগুন লাগার সংখ্যা সেঞ্চুরির কাছাকাছি। তাছাড়া লা নিনার প্রভাবে এবার তুলনামূলক গরম পড়বে বেশি। সেই কথা মাথায় রেখে যাতে আগুন না লাগে, পর্যটকরা জঙ্গলের মধ্যে যত্রতত্র দাহ্য পদার্থ ফেলে না দেন। তাই জঙ্গল ও বন্যপ্রাণ রক্ষায় স্পেশাল পেট্রোলিং-র ব্যবস্থা করছে বনদপ্তর। আর এই কাজের আওতাতেই কোনরকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বনদপ্তর ও পুলিশ যৌথভাবে আচমকা অভিযান চালাবে। এমন কি হবে নৈশ অভিযান। এছাড়া যে জায়গা গুলিতে পুলিশ, আবগারি ও বনদপ্তর এই তিনটি বিভাগেরই স্পর্শকাতর এলাকা। সেখানে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে অভিযান চলবে। অর্থাৎ ‘স্পেশাল রেস্পন্সিপ ডেপ্লয়মেন্ট’ হবে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

পুরুলিয়ায় বনবিভাগের ১০ দফা
দোল-হোলিতে ছুটি বাতিল
স্পেশাল পেট্রোলিং
বন-পুলিশ নৈশ অভিযান
ভালনারেবেল এরিয়া ম্যাপিং
যত্রতত্র বিদ্যুতের তার সরানো
রেঞ্জ কার্যালয়ে হসপিটাল ইউনিট
ট্যুরিস্ট স্পটে মাদকদ্রব্য সেবনকারী যন্ত্র ব্যবহার
পর্যটনেও ড্রোন নজরদারি
১৯ রেঞ্জে কন্ট্রোল রুম
বন্যপ্রাণ রক্ষায় স্টেশনে প্রচার

সুষ্ঠু পর্যটনেও ব্যবহার হবে ড্রোনের। বন্দোবস্ত থাকবে নাইট ভিশন ক্যামেরার। প্রত্যেকটি রেঞ্জেই থাকবে কন্ট্রোলরুম। পুরুলিয়া বনবিভাগের ডিএফও অঞ্জন গুহ বলেন,
” দোল-হোলি, পলাশের মরশুম সেইসঙ্গে বুদ্ধ পূর্ণিমায় সেন্দ্রার কথা মাথায় রেখে আমরা একাধিক দপ্তরকে নিয়ে একটি সমন্বয় বৈঠক করেছি। সেই বৈঠক থেকে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” বনদপ্তরের ডাকা বৈঠকে তিনটি বন বিভাগ পুরুলিয়া, কংসাবতী উত্তর, কংসাবতী দক্ষিণ সহ দমকল, আবগারি, বিদ্যুৎ, পুলিশ, সাধারণ প্রশাসন, আরপিএফ হাজির ছিলো। ওই বৈঠকে রাখা হয়েছিল যৌথ বন পরিচালন কমিটিগুলিকেও। তিনটি বনবিভাগের সমস্ত রেঞ্জ আধিকারিক-সহ এডিএফওরা ছিলেন।

পুরুলিয়ার পলাশকে ঘিরে একটি বিশাল পর্যটন রয়েছে। তাই কোনভাবেই যাতে পলাশ নিধন না হয় সেই কারণে যেমন স্পেশাল পেট্রোলিং। তেমনই এই উৎসবের মরশুমে জঙ্গলে যাতে কোনোভাবে আগুন না লাগে। অনেক ক্ষেত্রেই এই সময়ই কৃত্রিমভাবে জঙ্গলে আগুন লাগিয়ে নিজেদের নানা স্বার্থ চরিতার্থ করার চেষ্টা করে। সেই কারণেই বনদপ্তর ও পুলিশ যৌথভাবে আচমকা অভিযান চালাবে। সারপ্রাইজ অপারেশন কিভাবে চলবে তা ডিএসপি পদমর্যাদার আধিকারিকের তত্ত্বাবধানে রূপরেখা তৈরি হচ্ছে। জঙ্গলের মধ্যে যাতে কেউ কোনো রকম নেশা না করে। মধ্যরাত পর্যন্ত জঙ্গলের ভেতর বসে না থাকে। সেই কথা মাথায় রেখেই বনদপ্তর ও আবগারির যৌথ অভিযানের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

Palash
আগুন ঝরানো লাল পলাশে ভরেছে পুরুলিয়া

অতীতে দেখা গিয়েছে, পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড এলাকায় বামনি ফলসের মতো ‘কোর এরিয়া’-য় পর্যটকরা হুল্লোড় করছেন। সেই কথা মাথায় রেখেই আবগারির সঙ্গে অভিযান চালাবে বনদপ্তর। দোল থেকে একেবারে সেন্দ্রা পর্যন্ত উৎসব যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয় তাই স্পর্শকাতর এলাকার কথা মাথায় রেখে ‘ভালনারেবল এরিয়া ম্যাপিং’ করে তিন দপ্তরের তত্ত্বাবধানে সাধারণ জায়গাগুলি খুঁজে সেখানে বিশেষ ভাবে বনকর্মী, পুলিশ ও আবগারি দপ্তরের কর্মীদেরকে মোতায়ন করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে একেবারে সেন্দ্রা পর্যন্ত জেলার সমস্ত রেঞ্জ কার্যালয়গুলিকে হসপিটাল ইউনিটের রূপ দেওয়া হবে। অর্থাৎ কোন বন্যপ্রাণ কোনভাবে জখম হলে তৎক্ষণাৎ যাতে ব্যবস্থা নেওয়া যায় সেই কথা মাথায় রেখেই এই পদক্ষেপ। তাছাড়া জঙ্গলে আগুন নেভাতে গিয়ে কোন বনকর্মী জখম হলে তাকে যাতে দ্রুত স্যালাইন, অক্সিজেন ওষুধ দেওয়া যায়। এছাড়া এই পর্যটনের মরশুমে হসপিটাল ইউনিট গুলিতে কমপক্ষে একটি শয্যার ব্যবস্থা থাকবে। যাতে কোন পর্যটক বা বন কর্মী অসুস্থ হলে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করা যায়। বনাঞ্চল এলাকায় যত্রতত্র বিদ্যুতের তার যাতে ছড়িয়ে না পড়ে সে বিষয়টি বিদ্যুৎ দপ্তরকে দেখতে বলা হয়েছে।

এই কাজে বনকর্মীরা ওই দপ্তরকে সহায়তা করবে বলে জানিয়েছে। মদ্যপ অবস্থায় কোন পর্যটক যাতে অশালীন মন্তব্য বা আচরণ না করেন সেই জন্য জেলা জুড়ে পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে মাদক দ্রব্য সেবনকারী যন্ত্র নিয়ে পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে অভিযান চালাবে। বিভিন্ন রেঞ্জ এলাকায় কুইক রেসপন্স টিম মোতায়েন থেকে বনদপ্তর ও পুলিশ বিভিন্ন পর্যটক আবাস, হোটেল, কটেজ, রিসর্টে গিয়ে বনাঞ্চল এলাকায় কোনটা করণীয় সে বিষয়েও প্রচার চালাবে বনদপ্তর। বন্যপ্রাণ রক্ষায় একেবারে দোল-হোলি থেকেই একেবারে সেন্দ্রা পর্যন্ত মাইকিংয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন স্টেশনে বনদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় সাধনে প্রচার চালাবে আরপিএফ।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.