প্রকৃতির কোলে বেড়াতে যাওয়ার কথা ভাবলে এখন আনন্দের চাইতে চিন্তাই বেশি হয় ভ্রমণপিপাসু মানুষের। কেন? কারণ প্রত্যেকটি ভিউপয়েন্টে গিজগিজ করছে মানুষ। অরণ্য ঘেঁষা পারকিং স্পটটি উপচে পড়ছে মানুষে। এন্ট্রি গেটের টিকিট কাউন্টারে দীর্ঘ লাইন। আর পাহাড়ি রাস্তায় ট্র্যাফিক জ্যামের ছবি তো কিছুদিন আগেই সোশাল মিডিয়ায় তুমুল ভাইরাল হয়েছে।

আরও পড়ুন:
নৈসর্গিক শোভায় সজ্জিত এই জায়গার নাম ভালপারাই(Valparai)। অবস্থিত তামিল নাড়ুতে। সমুদ্রতল থেকে ৩৫০০ ফিট উচ্চতায় রয়েছে ভালপারাই। আদতে তা পশ্চিমঘাট পর্বতমালার আনামালাই পাহাড়ের অংশ।
মানুষ তাহলে শহরের ধুলো-ধোঁয়া থেকে মুক্তি পেতে গরমের ছুটি কিংবা বর্ষাভেজা সপ্তাহান্তে কোথায় যাবে বেড়াতে? এ প্রসঙ্গটিই শিল্পপতি আনন্দ মহিন্দ্রা তুলে ধরেছেন তাঁর সাম্প্রতিক সোশাল মিডিয়া পোস্টে। তাঁর এক্স হ্যান্ডেল-এ পোস্ট করে জানান যে ভারতে এখনও এমন বহু জায়গা রয়েছে, যেখানে প্রকৃতিকে ধরা যায় স্বমহিমায়। অসামান্য প্রাকৃতিক শোভা পর্যটকের মন কাড়তে বাধ্য সেখানে। বরং যে সমস্ত বেড়ানোর জায়গার নাম লোকের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছে, সেসব জায়গা ধ্বংস করেছে মানুষই।
এরই সঙ্গে তিনি খোঁজ দিয়েছেন এমন এক জায়গার, যা এখনও প্রকৃত অর্থেই ‘হিডেন জেম’। নৈসর্গিক শোভায় সজ্জিত এই জায়গার নাম ভালপারাই (Valparai)। অবস্থিত তামিলনাড়ুতে। সমুদ্রতল থেকে ৩৫০০ ফিট উচ্চতায় রয়েছে ভালপারাই। আদতে তা পশ্চিমঘাট পর্বতমালার আনামালাই পাহাড়ের অংশ। সময় এখানে এখনও থেমে থাকে। বাইরের শোরগোলে যখন শ্রবণক্ষমতা রুদ্ধ হওয়ার জোগাড়, চোখও খানিক ক্লান্ত লাগে পর্যটকের, তখন চাইলে দু’দণ্ডের শান্তি সে খুঁজে নিতে পারে এই পাহাড় জঙ্গলের বুকে।
পোল্লাচি থেকে ভালপারাই পৌঁছতে পেঁচানো পাহাড়ি রাস্তাই একমাত্র ভরসা। হাতে গুণে মোট ৪০টা হেয়ারপিন বেন্ড পেরোতে হয় এই জায়গায় আসতে গেলে। তবে প্রত্যেকবার বাঁক নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যেন বদলে যায় দৃশ্যপট। কখনও ঘন জঙ্গল, কখনও নদী বাঁধ, কখনও বিস্তৃত চা-বাগান, কখনও বা আকাশচুম্বী পর্বত।
ভালপারাইয়ের জঙ্গলে রয়েছে বিবিধ পশুপাখি। যেমন এশিয়ান হাতি, গউড়, সম্বর হরিণ প্রভৃতি। এছাড়াও ভাগ্য ভালো থাকলে দেখা মিলতে পারে এক বিশেষ জাতের বাঁদরের, যার নাম ‘লায়ন-টেইলড ম্যাকেক’। কেবলমাত্র পশ্চিমঘাট পর্বতমালার জঙ্গলেই এই বাঁদর দেখতে পাওয়া যায়। পক্ষীপ্রেমীরা দেখতে পেতে পারেন মালাবার পায়েড হর্নবিল-এর।

আলিয়ার ড্যাম, শোলায়ার ড্যাম, নল্লামুড়ি পুনজোলাই-এর মতো নদীবাঁধ রয়েছে ভালপারাইতে। এখান থেকে যাওয়া যেতে পারে কাছের ইন্দিরা গান্ধী ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি এবং ন্যাশনাল পার্কে। জায়গাটির ভূয়সী প্রশংসা করেন আনন্দ মহিন্দ্রা। তবে মানুষের জানাজানি হয়ে গেলেই কি এ জায়গাটির ভবিষ্যৎও অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রের মতোই হয়ে উঠবে না? প্রশ্ন থেকে যায়।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘বিদ্রোহী’ শিবিরে যেতেই পদ খোয়ালেন মালা রায়, মহিলা তৃণমূলের নতুন সভানেত্রী কে?
-
সড়কপথে ৩৫০ কিমি পাড়ি, বাংলাদেশ পৌঁছলেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী
-
আকাশছোঁয়া খরচে রোষানলে জি৫, এবার বিনামূল্যে বিশ্বকাপ দেখাবে জিও, জানুন কীভাবে?
-
কতটা জমল ‘বিবি বক্সী’ ইশার ছকভাঙা গোয়েন্দা সিরিজ? পড়ুন রিভিউ
-
এবারের ষষ্ঠীতে স্পেশাল মিষ্টিমুখ, জামাইকে খাওয়ান আমের পায়েস, রেসিপি জানেন?