রবিবাসরীয় সকাল, ছুটির আমেজ মুহূর্তে বদলে বদলে বিষাদে। পুকুর থেকে নাবালিকার মৃতদেহ উদ্ধার ঘিরে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে ধপধপি এলাকা। নাবালিকাকে ধর্ষণের পর খুনের অভিযোগে একেবারে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে বারুইপুর। স্থানীয় বাসিন্দারা মৃতদেহ রাস্তায় রেখে অবরোধ করেন, চলে রেল অবরোধও। বদলের বাংলায় ধর্ষণ-খুনের মতো ঘটনার কিনারা করতে একেবারে রকেট গতিতে অ্যাকশন চলছে পুলিশের। বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের উদ্যোগে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশের জালে মূল অভিযুক্ত। এই ঘটনা ঘিরে যখন সোশালপাড়ায় প্রতিবাদের ঝড়, তখন স্রোতের বিপরীতে হেঁটে বারুইপুরকাণ্ডে প্রতিবাদী পৌষমিতা গোস্বামী (Poushmita Goswami )।
বাংলা টেলিভিশনের অত্যন্ত পরিচিত মুখ। নাবালিকাকে ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় যেন শৈশবের কিছু সংবেদনশীল মুহূর্ত চোখের সামনে জীবন্ত হয়ে উঠল! দশ বছর বয়সে যখন রজস্বলা হওয়া, মা-বাবার হাত ধরে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পর প্রথমবার অপরিচিত পুরুষের স্পর্শে যৌন অস্বস্তি অনুভব করার আতঙ্ক যেন আরও একবার গ্রাস করল তাঁকে!
আরও পড়ুন:
বারুইপুরের নাবালিকার ক্ষেত্রেও হয়ত সেটাই হয়েছে, এই ভাবনা থেকেই পৌষমিতার ব্যক্তিগতজীবনের উদাহরণ টেনে বলেছেন, ‘আমার বছর দশেক বয়স, রজস্বলা হলাম। তাও আমি কিছু বুঝতেই পারিনি। আমার পরনের পোশাক দেখে মা, বাবাকে জানিয়েছিলাম। বাড়িতে কান্নাকাটি শুরু হল আমার, হঠাৎ আমার পোশাকের অনেক কিছু বদলে গেল কেন? আমি বাধ্য হলাম স্যানিটারি প্যাড ব্যবহার করতে, কেন? কেন আমার জীবনের স্বাধীনতা একদিনের মধ্যে অর্ধেক হয়ে গেল? পরেরদিন বাবা, ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলেন, মাও গেলেন সঙ্গে। ডাক্তার ভালো করে দেখলেন। জীবনের প্রথমবার অপরিচিত মানুষের সামনে যৌন অস্বস্তি অনুভব করলাম। ডুকরে কান্না পেল। মনে হল, এই শরীরটা নিয়ে সবাই কাটাছেঁড়া করছে, ডিক্টেট করছে আমায় কী কী করতে হবে।’
একটা মেয়ের যখন পেলভিক বোনের মধ্যে থাকা যৌনাঙ্গের মূল্য বোঝার বোধশক্তিই তৈরি হয় না তখনই তাঁর শরীরের উপর অকথ্য অত্যাচার! বারুইপুরকাণ্ডের এই নৃশংসতার প্রেক্ষিতে আরও লেখেন, ‘সর্বশেষ, যখন মায়ের কাছ থেকে জানতে পারলাম, এরপর থেকে প্রতি মাসের পাঁচটি নির্দিষ্ট দিনে আমি এই পিরিয়ড সাইকেলের মধ্যে দিয়ে যাব আমার মরে যেতে ইচ্ছে হয়েছিল। কারন, এই পুরো ঘটনাটার জন্যে আমার থেকে কেউ অনুমতি নেয়নি। সবটা হল আমার ইচ্ছের বিরুদ্ধে। অনুমতি, শরীর স্পর্শ, যৌনতা, কাম এগুলো সব আলাদা শব্দ হলেও, একটা ইকো সিস্টেমের মধ্যেই পরে। আমি যখন ১০ বছর বয়সে রজস্বলা হলাম আমার যৌন চাহিদাই তৈরি হয়নি। শরীরকে আলাদা করে চিনিই না। আমি জানিই না মেয়েদের পেলভিক বোনের মধ্যে থাকা যৌনাঙ্গের দাম সারাজীবন ধরে মেয়েদের বিভিন্নভাবে দিতে হয়।’

চারপাশেই হয়ত ধর্ষকরা ঘুরছে, মানুষ তাঁদের চিনতে পারে না। এই বিষয়টিকে সামনে রেখে পৌষমিতার সংযোজন, ‘যে মেয়েটি ১৩ বছর বয়সে কাল ধর্ষিতা হল সে কী নিজের শরীরটাকে নিজেই চিনে ওঠার সময় পেয়েছিল? হয়তো রজস্বলা হয়েছিল। কত প্রতিকূল পরিস্থিতি সামলেছে ওইটুকু বয়সে। এই সময় বাচ্চাদের বেড়ে ওঠার বয়স। শারিরীকভাবে, মানসিকভাবে। গনধর্ষন করে খুন। একটা পেলব শরীর যে সবে মুগ্ধতার ভাষা শিখছে। শরীর টের পাচ্ছে কিন্তু মন টের পাচ্ছে না। সেই শরীরটাকে ছিঁড়ে, খুবলে, টেনে হিঁচড়ে শেষ করে দিল কিছু ধর্ষক। তারা আমাদের মতোই কেউ, আমাদের আশেপাশেই গা ঢাকা দিয়ে থাকে। আমরা বুঝতেই পারি না। নাকি বুঝতে চাই না!’
পোস্টের শেষে রাজ্য সরকারের কাছে বিশেষ আর্জি অভিনেত্রীর। তাঁর অনুরোধ, ‘ধর্ষকদের চিহ্নিত করে কন্যা সন্তানদের মায়েদের হাতে, আমাদের হাতে তুলে দিন রাজ্য সরকার। ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট কাকে বলে সারা পৃথিবীকে নিদর্শন দিয়ে যাব। অনুরোধ আপনারা ধর্ষকদের ধরার পর জনতার থেকে লুকিয়ে শাস্তি দেবেন না। ময়দানে ধরে নিয়ে আসুন। আমরা টিকিট কেটে দেখতে যাবো ওদের একের পর এক অঙ্গহানি। কথা দিলাম।’

বারুইপুরকাণ্ডে সোশালপাড়ায় সরব অভিনেতা ঋদ্ধি সেন থেকে শ্রীলেখা মিত্র, রূপাঞ্জনা মিত্র, ইউটিউবার ননসেন্স সহ আরও অনেকে। এক নজরে দেখে নিন তাঁদের বক্তব্য।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
মুক্তির আগেই বিতর্কে কঙ্গনার ‘ক্যুইন ২’! ২৫০ কোটির মামলা প্রযোজনা সংস্থার
-
সিআইএ এজেন্ট সেজে প্রতিরক্ষা চুক্তি! ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টকে বোকা বানিয়ে লুট ভারতীয় বংশোদ্ভূতর
-
লক্ষ্য কর্মসংস্থান, ঘাটতি পূরণে ডিম উৎপাদন নিয়ে বিপ্লবের পথে বাংলা
-
মাত্র ৩৮ বছরেই প্রয়াত আফগান পেসার, ‘জঙ্গি হানা’য় বাঁচলেও হার বিরল রোগের কাছে
-
দেশে প্রথম, নয়া আইন মেনে ওয়াকফ বোর্ডে নির্বাচিত হলেন দুই হিন্দু সদস্য