Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ১১ জুন ২০২৬
Security Of Outdoor Shooting

সমুদ্রে শুটিংয়ে কী কী নিরাপত্তা থাকে? রাহুলের মৃত্যুতে অভিজ্ঞতা জানালেন দিব্যজ্যোতি-অণ্বেষারা

সমুদ্রে শুটিংয়ের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন থাকে? সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটালে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ভাগ দিব্যজ্যোতি দত্ত থেকে অন্বেষা হাজরা ও অহনা দত্তর।

Advertisement
কস্তুরী কুণ্ডু
কস্তুরী কুণ্ডু

শেষ আপডেট: মে ১০, ২০২৬, ১৮:০১

link
কস্তুরী কুণ্ডু
কস্তুরী কুণ্ডু

শেষ আপডেট: মে ১০, ২০২৬, ১৮:০১

options
link
সমুদ্রে শুটিংয়ে কী কী নিরাপত্তা থাকে? রাহুলের মৃত্যুতে অভিজ্ঞতা জানালেন দিব্যজ্যোতি-অণ্বেষারা zoom
সমুদ্রে শুটিংয়ে কী কী নিরাপত্তা থাকে? রাহুলের মৃত্যুতে অভিজ্ঞতা জানালেন দিব্যজ্যোতি-অণ্বেষারা

দীঘা সংলগ্ন তালসারিতে ‘ভোলে বাবা পার করেগা’র শুটিংয়ের মাঝে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। ভয়াল ঢেউ কেড়ে নিল তরতাজা রাহুলের প্রাণ। যদিও অভিনেতার মৃত্যু ঘিরে দানা বাঁধছে রহস্য। অনেক প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে। জানা গিয়েছে, তমলুক হাসপাতালে অভিনেতার দেহ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে। একাধারে অভিনেতা, লেখক, নাট্যব্যক্তিত্ব রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকস্মিক মৃত্যুর খবর পেয়ে রাত দুপুরেই তাঁর বাড়িতে ছুটে গিয়েছেন ইন্ডাস্ট্রির সহকর্মীরা। সাগরপাড়ে শুটিংয়ের সময় কীভাবে রাহুল চোরাবালিতে তলিয়ে গেলেন? সেই সময় সেখানে কোনও নিরাপত্তা ছিল না? ইউনিটের সদস্যরা কী ভূমিকা পালন করেছিলেন? মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অনেকেই। শোনা যাচ্ছে, সহ-অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্রকে বাঁচাতে গিয়েই নাকি অকালে অস্তাচলে অরুণোদয়। সমুদ্রে শুটিংয়ের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন থাকে তা জানতে সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল-এর তরফে যোগাযোগ করা হয় ছোটপর্দার অত্যন্ত জনপ্রিয় অভিনেতা দিব্যজ্যোতি দত্তর সঙ্গে।

সৃজিত মুখোপাধ্যায় পরিচালিত ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’ ছবিতে বুক পর্যন্ত জলে নেমে সমুদ্রে শুটিং করেছিলেন। নিরাপত্তা নিয়ে নিশ্চয়তা ছিল বলেই ওই সিক্যোয়েন্সে কাজ করতে রাজি হয়েছিলেন। অভিনেতার মতে, জীবনের আগে কিছু নয়, তাই জীবনের নিরাপত্তা প্রথম প্রাধান্য হওয়া উচিত। দিব্যজ্যোতির কথায়, “লহ গৌরাঙ্গের নাম রে-র শুটিং হয়েছিল পুরীতে। জল যখন আমার বুক পর্যন্ত তখন শটটা কেটেছিল। সন্ধ্যাবেলা শট দেওয়ার সময় বুঝেছিলাম ওই সময় জলে কতটা কারেন্ট থাকে। কত বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ে। দু’হাত তুলে শট দেওয়ার সময় বেশ কয়েকবার ঢেউয়ের উলটো গতিতে পড়ে গিয়েছি। ডুবুরিরা আমাকে সাহায্য করেছিলেন। ওঁরা না থাকলে আমি তো আতঙ্কেই শট দিতে পারতাম না বা পরিচালককে বলে দিতে হত আমার দ্বারা এটা সম্ভব নয়। আমার কাছে জীবনের আগে কিছু নয়। বেঁচে থাকলে তো কাজ করব। নিরাপত্তাটা ছিল বলেই আমার শট দিতে কোনওরকম ভয় করেনি।”

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

বিগ বাজেটের সিনেমার ক্ষেত্রেই শুধু এই নিরাপত্তা? এই ধারণার বিরোধীতা করে দিব্যজ্যোতির দাবি, “সিরিয়ালের ক্ষেত্রেও যথেষ্ঠ নিরাপত্তা থাকে। আমি নিজেই অনুরাগের ছোঁয়ায় কাজ করার সময় জলের মধ্যে নৌকায় কত শট দিয়েছি। তখনও সেখানে কড়া নিরাপত্তাবলয় ছিল। সেটাই তো হওয়া উচিত। ইউনিটের দায়িত্ব প্রতিটি কলাকুশলীদের খেয়াল রাখা। আমার মতে, আজ থেকে দশ হাজার বছর পিছনে ফিরে তাকালেও দেখা যায় প্রতিটি প্রাণী নিজেদের মতো করে জীবনে বেঁচে থাকার লড়াইয়ে সামিল হত। খাবারের জোগান নিশ্চিত করাই তো জীবনে বেঁচে থাকার মূল রসদ। আমরাও তো কাজ করি খেয়ে-পরে বেঁচে থাকার জন্যই। ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে গিয়ে যদি জীবনই শেষ হয়ে যায় তাহলে তো কাজটাই বৃথা হয়ে যাবে”। 

মেগার শুটিংয়ের সমুদ্রে, পাহাড়ে যেতে হয় অভিনেত্রী অণ্বেষা হাজরাকে। অভিনেতা রাহুলের এই ঘটনায় ভবিষ্যৎ-এ আউটডোর শুটিংয়ে আতঙ্কে তৈরি হবে? নিরাপত্তার অভাব কখনও বোধ করেছেন? অণ্বেষার বক্তব্য, “ঝুঁকি শুধু আউটডোরেই থাকে এমনটা নয়, স্টুডিওতে শুটিংয়ের সময়ও অনেক অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটে। বিপদ তো কখনও দরজায় কড়া নেড়ে আসে না। রাহুলদার ঘটনাটা অত্যন্ত দুঃখজনক। ওখানে ঠিক কী ঘটেছে সেটা একমাত্র তাঁরাই জানে ঘটনার সময় যাঁরা উপস্থিত ছিলেন। তবে ভবিষ্যতে আউটডোর শুটিং নিয়ে ভয় পেয়ে তো লাভ নেই, চরিত্রের প্রয়োজনে যেতে হবেই। আর নিরাপত্তার কথা যদি বলতে হয়, আমি কখনও অভাববোধ করিনি। যদি সঠিক নিরাপত্তা না থাকত তাহলে তো আমার উপস্থিতিটাই থাকত না।”

ছোটপর্দার আরও এক জনপ্রিয় অভিনেত্রী অহনা দত্তের কাছেও সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল-এর তরফে এই একই প্রশ্ন ছিল। প্রথমেই তিনি বলেন, “এই ঘটনাটা যে সত্যি হতে পারে সেটা এখনও বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে। সহজ কত ছোট, ওর মনের উপর কী সাঙ্ঘাতিক প্রভাব পড়ছে! আর আউটডোর শুটিং, আজ তো সারাদিন আমাদের বাইরেই কাজ। আমার একটা প্রোজেক্ট চার বছর চলেছে আর এখন নতুন আর একটা মেগায় কাজ করছি। সেই দিক থেকে বিচার করলে আমাকে নবাগতা বলাই যায়। এখনও পর্যন্ত কখনও নিরাপত্তার অভাববোধ করিনি। তবে দীঘা-মন্দারমণি আমার খুব প্রিয় জায়গা। প্রায়ই আমরা ঘুরতে যাই। এবার থেকে আমি আর কখনও সমুদ্রের গভীরে যাব না। এটা নিয়ে আমার সত্যিই একটা আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।”

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.