বৃহস্পতিবার, বাংলা মেগার ভাগ্য নির্ধারণের দিন। প্রতি সপ্তাহের লক্ষ্মীবারে হাতে আসে সিরিয়ালের স্কোর কার্ড। কোন ধারাবাহিক এগিয়ে গেল বা পিছিয়ে গেল কিংবা কে কাকে টেক্কা দিল সেই অঙ্কই কষা হয় টেলিভিশন রেটিং পয়েন্টে তথা টিআরপিতে। বাংলা সিরিয়ালের দর্শক এই লিস্ট নিয়ে বিন্দুমাত্র ভাবিত নয়, কিন্তু কলাকুশলীদের কাছে টিআরপি তালিকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সে কথা বলাই বাহুল্য। ২ জুলাই বৃহস্পতিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে টিআরপি। সপ্তাহজুড়ে বাংলা মেগার পর্যালোচনা আপাতত স্থগিত থাকবে তা বললে অত্যুক্তি হবে না।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের নির্দেশনায় ‘ব্রডকাস্ট অডিয়েন্স রিসার্চ কাউন্সিল’বা বার্ককে অনির্দিষ্টকালের জন্য টিআরপি প্রকাশ না করার নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। যতক্ষণ না বার্কের লাইসেন্স নবীকরণ হচ্ছে বা টিআরপি প্রকাশের সকল নীতি মানা হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত টিআরপি বন্ধ। এই সিদ্ধান্ত স্টুডিওপাড়াকে কতটা প্রভাবিত করল? টিআরপি বন্ধের নির্দেশে কর্মক্ষেত্রে কোনও ক্ষতি হবে? প্রতিযোগীতা বন্ধ হওয়ায় নিজের সেরাটুকু দেওয়ার ক্ষেত্রে আলসেমি আসবে?
আরও পড়ুন:
এধরনের একগুচ্ছ প্রশ্ন নিয়ে সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল যোগাযোগ করেছিল সৌম্যদীপ মুখোপাধ্যায়, শ্রুতি দাস ও অহনা দত্তর সঙ্গে। প্রত্যেকের মতামতেই কম-বেশি সাদৃশ্য রয়েছে। ‘জগদ্ধাত্রী’ শেষের পর ‘অন্নপূর্ণার লক্ষ্মীরা’ ধারাবাহিকে কামব্যাক করেছেন সৌম্যদীপ। টিআরপি বন্ধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমার মতে, টিআরপি অবশ্যই জরুরি। তবে টিআরপি আপাতত বন্ধ রয়েছে বলে কাজে ঢিলেমি দেওয়ার প্রশ্নই আসছে না। প্রত্যেকেই নিজের সেরাটুকু দিয়ে কাজ করবে। দর্শক টিভির পর্দায় গল্প উপভোগ করেন। তাঁদের ভরসা তো আমরা নষ্ট করতে পারি না। তাই যেভাবে গল্প বানানো হচ্ছিস, আমরা কাজ করছিলাম ঠিক সেভাবেই করব। টিআরপি এখন না এলেও দর্শকের কিন্তু, সিরিয়াল নিয়ে উত্তেজনা কমবে না।”

টিআরপি তালিকায় বেঙ্গল টপার হিসেবে ‘হ্যাটট্রিক’ করেছে ‘জোয়ার ভাঁটা’। এই ধারাবাহিকের কেন্দ্রীয় চরিত্র শ্রুতির বক্তব্য, “টিআরপি আসুক বা না আসুক আমাদের চোদ্দ ঘণ্টা কাজ করতেই হবে। প্রতিযোগীতা না থাকলেও আমরা কাজ করব। সাময়িক সময়ের জন্য টিআরপি বন্ধ ঠিকই, তার জন্য কাজের প্রতি ডেডিকেশন বা শুটিংয়ের সময়ের কোনও পরিবর্তন হবে না। যে ছন্দে এগচ্ছিল সেই ছন্দেই এগবে। হার্ড ওয়ার্কের সঙ্গে কোনও কম্প্রোমাইজই করব না। নতুনভাবে যখন আবার টিআরপি আসবে তখন সেটা আরও উন্নত হবে। আমাদের ইন্ডাস্ট্রির জন্য ভালো হবে। প্রতিযোগীতা ছাড়া তো আজকের দিনে কিছুই হয় না। তাই টিআরপির নেই বলে প্রতিযোগীতা থাকবে না এটা ভাবা ভুল।”

অভিনেত্রী অহনা দত্ত নতুনরূপে টিআরপির জন্য মুখিয়ে রয়েছেন। তাঁর কথায়, “আমি এটাকে খুবই পজেটিভভাবে দেখছি। যেটা আসবে সেটা আরও বেটার হবে। তাছড়া সত্যি বলতে আমরা যাঁরা অভিনেতা অভিনেত্রী তাঁদের একমাত্র কাজ অভিনয় করা। আমরা আমাদের সেরাটুকু দিয়ে কাজ করতে চাই। সিরিয়ালের ব্যবসায়িক দিকের ক্ষেত্রে টিআরপিটা গুরুতবপূর্ণ। এই বিষয়টা সম্পূর্ণ তাঁদের ভাবনা। তবে টিআরপিতে ভালো ফল করলে মানসিক শান্তি পাওয়া যায়।”

অন্যদিকে বাংলা ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে প্রায় পনেরো থেকে ষোলো বছর যুক্ত পল্লবী শর্মা। তাঁর মতে, “এই ইন্ডাস্ট্রিতে আমার কেরিয়ারের বয়স প্রায় পনেরো ষোলো বছর। আগে কিন্তু, টিআরপির এই বিষয়টাই ছিল না। এখন প্রতি সপ্তাহে টিআরপি আসে। আমরা ইমোশন দিয়ে কাজ করি। তবে একটা কথা ঠিক, টিআরপি কাজের ক্ষেত্রে একটা মোটিভেশন তৈরি করে।”

আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
মিড ডে মিলের মাংস দিয়ে স্যারের বিবাহ বার্ষিকীর ভোজ! শান্তিপুরের স্কুলে তুমুল শোরগোল
-
অফিসের ২৫ জনকে পুলিশি হেনস্তা! ভয় দেখিয়ে মিথ্যা বয়ান রেকর্ড, দাবি অভিষেকের
-
হোয়াটসঅ্যাপের পরে টেলিগ্রাম, সিগন্যাল! ‘ইউজারনেম’ ফিচার নিয়ে নোটিস কেন্দ্রের
-
ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে কেন্দ্র ও রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মতান্তর! বৈঠকে প্রশ্ন একাধিক সাংসদের
-
অ্যাসিড হামলায় কড়া আইনের দাবি, সরব মহিলাদের ক্ষমতায়ন বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি