জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই এখন জুড়ে গিয়েছে এআই। তবে কি বাংলার স্কুলগুলিতেও তা ব্যবহার্য হয়ে উঠতে পারে না? কেবলমাত্র বাহ্যিক কোনও প্রযুক্তি হিসেবে নয়; উন্নততর শিক্ষাদান, গভীরতর শিক্ষাগ্রহণ এবং পড়ুয়াদের উদ্ভাবনী চিন্তার অনুঘটক হিসেবে কি কাজে লাগানো যায় এআইকে? ২২ আগস্ট ২০২৬, হুগলির আদিসপ্তগ্রামের ‘অ্যাকাডেমি অফ টেকনোলজি’ হয়ে উঠেছিল এমনই এক আলোচনার কেন্দ্র। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাদিবস উদযাপনে (AOT Foundation Day 2026) এক বিশেষ অ্যাকাডেমিক কনক্লেভের আয়োজন করা হয়, যার নাম দেওয়া হয় ‘অ্যাকাডেমিক লিডারশিপ কনক্লেভ ফর ফিউচার-রেডি ইন্সটিটিউশন্স’।

আরও পড়ুন:
কনক্লেভটিতে উপস্থিত হয়ে স্কুলের প্রধান কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাবিদ ও ইন্ডাস্ট্রি বিশেষজ্ঞরা NEP 2020-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভবিষ্যৎ শিক্ষাক্ষেত্রে কীভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্ত্বাকে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেন। আলোচনায় উঠে আসে এআই ব্যবহারের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জের দিকগুলিও। এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে যে এক দায়িত্বশীল নাগরিক হওয়ার প্রয়োজন, সে বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
উত্তর হুগলি, কল্যাণী এবং দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন স্বনামধন্য স্কুলের শিক্ষক ও প্রতিনিধিরা এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। ছিল হুগলি কলিজিয়েট স্কুল, বিনোদিনী গার্লস হাই স্কুল, গার্ডেন হাই স্কুল, IISER ক্যাম্পাস এবং স্প্রিংডেল হাইস্কুল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্ট গুণীজনদের মধ্যে ছিলেন আইআইটি খড়গপুরের অধ্যাপক প্রবীর কুমার বিশ্বাস, বিআইটিএস পিলানির অধ্যাপক নবনীত গোয়েল, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৌম্য সেন এবং হাই-পারফরম্যান্স কম্পিউটিং ও কম্পাইলার প্রযুক্তিতে স্পেশালাইজেশন নিয়ে নিউরোমরফিক কম্পিউটিংয়ের ক্ষেত্রে গবেষণারত ড. বর্ণালী বসাক।
এছাড়াও ছিলেন এওটির স্ট্র্যাটেজিক অ্যাডভাইজার ও উইপ্রো টেকনোলজির প্রাক্তন এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট শ্রী সম্বুদ্ধ দেব এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক রঞ্জন গঙ্গোপাধ্যায়।
অনুষ্ঠানের স্বাগত ভাষণ দেন আইআইটি খড়গপুরের ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক এবং বর্তমানে অ্যাকাডেমি অব টেকনোলজির অধিকর্তা অধ্যাপক দিলীপ ভট্টাচার্য। এওটির চেয়ারম্যান-ট্রাস্টি অধ্যাপক অনিন্দিতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। ক্রমশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর হয়ে ওঠা বিশ্বে পড়ুয়াদের ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ ও সুযোগের জন্য প্রস্তুত করে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।
কনক্লেভের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ‘এওটি স্কুল কানেক্ট ইনিশিয়েটিভ’-এর আনুষ্ঠানিক সূচনা। এর মাধ্যমে শিক্ষক ও পড়ুয়াদের পরামর্শদান, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, যৌথ শিক্ষামূলক কর্মসূচি এবং নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিতির সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বর্তমানে এই ধরনের উদ্যোগের গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। কনক্লেভের মূল বার্তা ছিল স্পষ্ট—এআই কখনওই শিক্ষক অথবা সাধারণ মানুষের বুদ্ধিমত্তার বিকল্প নয়। বরং এটি ব্যবহারের উদ্দেশ্য, শিক্ষকদের বলীয়ান করে তোলা, পড়ুয়াদের কৌতূহল মেটানো এবং শিক্ষাকে আরও সৃজনশীল ও ভবিষ্যৎমুখী করে তোলা।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
মাত্র তিনদিনেই শেষ কাজ! এসআইআরের মতোই জনগণনাতেও নজির সাঁইথিয়ার শিক্ষকের
-
রাতের আকাশে বেগুনির খেলা! স্পেস স্টেশন থেকে নবরূপ দেখালেন নভোশ্চর
-
হকি বিশ্বকাপে ডাচেদের বিরুদ্ধে হার, শেষ চারে ওঠার স্বপ্ন প্রায় শেষ ভারতের
-
বুকে পেসমেকার, ধূমপানে না চিকিৎসকদের! অসুস্থ বিমান সিগারেট ছাড়বেন? চিন্তিত কমরেডরা
-
১২ বছর নেকড়েদের পালে বড় হয়েছেন, ৮০ বছর বয়সে প্রয়াত স্পেনের ‘মোগলি’