সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: কথাতেই আছে, ‘শান্তির ঘুম’। নিশ্চিন্ত নিদ্রা সকলের দৈনন্দিন জীবনের পরম কাঙ্ক্ষিত এক পর্ব। দিনের একটা নির্দিষ্ট সময় যাঁরা ঘুমোতে পারেন, তাঁরা সত্যিই পৃথিবীর অন্যতম সুখী মানুষ। কারণ, নিদ্রাহীনতায় ভুগতে থাকা মানুষের সংখ্যা তো কম নয়। তবে এসব সমস্যা এই প্রতিবেদনের মূল বিষয় নয় মোটেও। কথা হচ্ছে, পৃথিবীর বৃহত্তম স্তন্যপায়ী প্রাণী তিমিদের নিয়ে। তাদের জীবনে ঘুমের বিষয়টি একেবারে ভিন্ন। নিশ্চিত ঘুম তিমিদের জীবনে নিয়ে আসে মৃত্যু! হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন। তিমিরা কখনও বিশ্রামের সময় পুরোপুরি ঘুমিয়ে পড়তে পারে না। তাহলেই জীবন শেষ।
কিন্তু কেন সমুদ্রের বাসিন্দা বিপুলাকার তিমির জীবনে এমন বিপাক? বিজ্ঞানীরা এর ব্যাখ্যা করেছেন। জানা যাচ্ছে, তিমি ঘুমোলেও মস্তিষ্কের পুরো অংশ বিশ্রাম পায় না। জাগ্রত থাকে মস্তিষ্কের অর্ধেক অংশ। সেই অর্ধজাগরিত অবস্থায় তারা সাঁতার কাটে, আশপাশের পরিবেশ ও আসন্ন বিপদ সম্পর্কে সজাগ থাকে। বলা ভালো থাকতে হয়। এই পদ্ধতিকে বলে ইউনিহেমিস্ফেরিক স্লিপ(Unihemisperic Sleep)। এর নিয়ম হলো, যখন মস্তিষ্কের একটি অংশ বিশ্রামে ঢলে পড়ে, ঠিক সেই মুহূর্তেই অন্য অংশ সক্রিয় হয়ে ওঠে। সাধারণত দিনের বেলায় ঘুমন্ত অবস্থাতেই তারা ভেসে ভেসে অন্যত্র চলে যায়। গবেষণা বলছেন, শাবক তিমিদের এই বিশ্রামচক্র মায়েদের উপর নির্ভর করে। সাধারণত মায়ের সময়মতো ঘুমোয় তারা। পরবর্তীতে বড় হলে তাদের আলাদা রুটিন তৈরি হয়।

শুধু তিমি নয়, আরেক সামুদ্রিক প্রাণী ডলফিনের বিশ্রাম এই ইউনিহেমিস্ফেরিক স্লিপ পদ্ধতিতেই হয়ে থাকে। বটলনোস ডলফিনরা নাকি সাঁতার কাটা বা জলে ভেসে বেড়ানোর সময়ই বিশ্রাম নিয়ে নেয়। গোটা জীবন জলে কাটানোর সুবাদে তাদের নিজস্ব ভারসাম্য তৈরি হয়ে যায়। বলা হচ্ছে, তিমি বা ডলফিনদের এই ঘুমের পদ্ধতি জলে বেঁচে থাকার একটা গুরুত্বপূর্ণ ও কঠিন পদ্ধতি। কারণ, তাদের মস্তিষ্ক পুরোপুরি বিশ্রামে চলে যাওয়ার অর্থ সাক্ষাৎ মৃত্যু। সত্যি! কী বিচিত্র প্রকৃতির সৃষ্টি।
সর্বশেষ খবর
-
আসল নকল অদল-বদল! উত্তরপ্রদেশে পিএনবি ব্যাঙ্কের লকারে ১৭ কোটির জাল নোট, তদন্তে পুলিশ
-
কলকাতা লিগের ডার্বিতে নামার আগে সামনে ইউনাইটেড, কোন চিন্তা ভাবাচ্ছে ইস্টবেঙ্গলকে?
-
নিম্নচাপ সরছে ঝাড়খণ্ডে, পাহাড়ে ফের ভারী বৃষ্টির সর্তকতা, কেমন থাকবে কলকাতার আবহাওয়া?
-
এড়িয়েছিলেন প্রথম তলব! ক্যামাক স্ট্রিট কাণ্ডে অবশেষে থানায় ডেরেক, আজই হাজিরা দেবেন সুমিতও
-
‘ককরোচ’ আন্দোলনের পর প্রথমবার, জেন জির ‘মন কি বাত’ শুনতে কলেজ ক্যাম্পাসে মোদি