নব্যেন্দু হাজরা: পর্যটন শিল্পের প্রসারে গঙ্গায় ক্রুজ, বড় জলযান, বোটের সংখ্যা বাড়ছে। বাড়ছে পণ্যবাহী বার্জের সংখ্যাও। কিন্তু জল পরিবহণের চরিত্র বদলই বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে গঙ্গেয় ডলফিনদের (শুশুক) কাছে। ক্রুজ এবং বার্জের প্রপেলারের ধাক্কায় মারা যাচ্ছে ডলফিনরা। এরকমটা চলতে থাকলে আগামী দিনে গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্রে বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে দুর্লভ প্রজাতির ডলফিন। এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইনল্যান্ড ওয়াটারওয়েজ অথরিটি অফ ইন্ডিয়া এবং কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ দপ্তর। পশ্চিমবঙ্গ বন্যপ্রাণ শাখার তরফে বিষয়টি নিয়ে সমীক্ষা করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, ডলফিনকে বাঁচাতে ক্রুজ, বার্জ এবং বড় বড় জলযানে সেন্সর লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই সেন্সর লাগানো থাকলে আশপাশে ডলফিন এলেই তা ক্রুজ বা জলযানের চালক বুঝতে পারবেন। সেইমতো নেওয়া হবে ব্যবস্থা।
ডলফিনের চোখের আকৃতি ছোট এবং এর চোখে লেন্স নেই। লেন্স না থাকার কারণে এরা চোখের সাহায্যে কেবলমাত্র আলো ও অন্ধকার ছাড়া অন্য কিছু দেখতে পায় না। তাই গঙ্গায় ক্রুজের সংখ্যা বাড়তে থাকে তাহলে ডলফিনদের অস্তিত্ব বিলুপ্ত হবে। ডলফিনদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে গঙ্গায় ক্রুজের সংখ্যা বেঁধে দেওয়া ও তাদের গতি নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, গঙ্গায় যে ডলফিন দেখতে পাওয়া যায়, তাদের দৃষ্টিশক্তি নেই বললে চলে। সেজন্য তাদের ‘অন্ধ ডলফিন’ বলা হয়ে থাকে। তারা ইকোলোকেশন পদ্ধতিতে শব্দ তরঙ্গ ব্যবহার করে তাদের চারপাশের পরিবেশ সম্পর্কে একটা ধারণা তৈরি করে নেয়। এভাবেই তারা জলে চলাচল করে এবং শিকার ধরে।

ডলফিন মিষ্টি জলের নদীতে বসবাস করে। এই প্রাণীটি গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, এবং তাদের শাখানদীতে দেখতে পাওয়া যায়। একেকটি প্রাপ্তবয়স্ক ডলফিনের দেহের দৈর্ঘ্য প্রায় ২-২.৬ মিটার পর্যন্ত হয়। মহিলা ডলফিনের ওজন প্রায় ৯০-১৫০ কেজি। ডলফিন তার শিকার চিহ্নিত করতে শব্দ তরঙ্গ ব্যবহার করে। ডলফিন কেবলমাত্র ছোট মাছ এবং চিংড়ি খায়। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, নদীতে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার ডলফিনের জন্য ক্ষতিকারক। যেসব জায়গায় ডলফিনরা বসবাস করে, সেখানে ক্রুজের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে বলা হয়েছে। তারপরেও অনেক সময় ডলফিনরা ভুল করে ক্রুজের প্রপেলারের সামনে চলে আসে। তখন বিপদ ঘটে। তাই এই সেন্সর লাগলে বিপদ কিছুটা এড়ানো যাবে।

পরিবেশকর্মীদের আন্দোলনের ফলে ১৯৯০ সালে প্রথম গঙ্গার ডলফিনকে বিপন্ন প্রাণীর তালিকায় ঢোকানো হয়। গঙ্গার ডলফিন বাঁচাতে সরকার থেকে একাধিক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। তার ফলে গঙ্গায় ডলফিনের সংখ্যা আগের থেকে অনেক বেড়েছে। কিন্তু গঙ্গায় ক্রুজ অন্যান্য বড় জলযানের সংখ্যা অত্যধিক বেড়ে যাওয়ায় প্রচুর ডলফিন মারা পড়ছে।
সর্বশেষ খবর
-
প্রাণহানির পর টনক নড়ল! কৌশিকী অমাবস্যার আগেই তারাপীঠের হোটেলগুলির ‘স্বাস্থ্যে’ নজর প্রশাসনের
-
বিশালের চওড়া হাতে টাইব্রেকারে জিতে ডুরান্ড ফাইনালে মোহনবাগান
-
যন্তরে মন্তরে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগে অভিযুক্ত পুলিশ, খতিয়ে দেখতে কমিটি গড়ল সুপ্রিম কোর্ট
-
‘দিল্লিতে জেএনইউ, বাংলায় জেইউ’, যাদবপুরকে ‘শহুরে নকশালদের আঁতুরঘর’ বললেন অর্জুন সিং
-
হোমওয়ার্ক করেনি বলে লাঠি দিয়ে মার শিক্ষিকার, ক্লাসেই চিরঘুমে ঢলে পড়ল ৬ বছরের পড়ুয়া!