Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৩ ভাদ্র ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ২১ আগস্ট ২০২৬
Black Hole Star

‘ব্ল্যাক হোল তারকা’ রহস্যভেদে ভারতীয় তরুণ! কী এই মহাজাগতিক বস্তু?

মহাকাশবিজ্ঞানের এক জটিল রহস্যের সমাধান হয়েছে সম্প্রতি। আর সেই উদ্ভাবনের নেপথ্যে অন্যতম নাম জ্যোতির্বিজ্ঞানী রোহন নাইডু। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পথ ছেড়ে যিনি পাড়ি দেন মহাবিশ্বের রহস্যসন্ধানে!

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ২১, ২০২৬, ১৬:১৯

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ২১, ২০২৬, ১৬:১৯

options
link
‘ব্ল্যাক হোল তারকা’ রহস্যভেদে ভারতীয় তরুণ! কী এই মহাজাগতিক বস্তু? zoom
রোহন নাইডুর আবিষ্কার তাক লাগিয়ে দিয়েছে বিজ্ঞানজগতে।
Advertisement

১৮ বছর বয়সে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পথ ছাড়ার সময় রোহন নাইডু স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি মহাবিশ্বের রহস্য সন্ধানের সঙ্গে তিনি কীভাবে জড়িয়ে পড়বেন! ছোট থেকেই তাঁর জীবনের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল কুইজ। প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করাতেই ছিল আসল আনন্দ। কোনও প্রতিযোগিতায় হেরে ফেরার পর না বলতে পারা প্রশ্নের উত্তর নিয়েই মাথা ঘামাতেন বেশি। কালক্রমে তিনি খুঁজে পেলেন এমন প্রশ্নের উত্তর যা কেউই খুঁজে পাননি। তিনি জড়িয়ে রয়েছেন সেই গবেষক দলের সঙ্গে যারা আবিষ্কার করেছে ‘ব্ল্যাক হোল স্টার’ তথা কৃষ্ণগহ্বর তারকা!

কী এই ‘ব্ল্যাক হোল স্টার’? আসলে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বছরের পর বছর ধরে যে প্রশ্নগুলির উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছেন তার মধ্যে একটি হল— বিশাল আকারের কৃষ্ণগহ্বরগুলি কীভাবে গঠিত হয়। এবং একেবারে শুরুর দিকে বা শৈশবে এদের রূপ কেমন ছিল? টেলিস্কোপ থেকে পাওয়া ছবিগুলি খুঁটিয়ে দেখার সময় জ্যোতির্বজ্ঞানীরা প্রায়ই সেগুলোর মধ্যে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ছোট ছোট লাল বিন্দু দেখতে পেতেন। কিন্তু এই ক্ষুদ্র ও উজ্জ্বল বস্তুগুলো আসলে কী, সে বিষয়ে তাঁদের কাছে কোনও ব্যাখ্যা ছিল না।

Advertisement

গত ১২ আগস্ট বিখ্যাত ‘নেচার’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে একটি গবেষণাপত্র। সেখানেই নতুন এক মহাজাগতিক বস্তুর কথা উঠে এসেছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা একে গ্যাসের ঘন আবরণের আড়ালে লুকিয়ে থাকা একটি কৃষ্ণগহ্বর হিসেবেই উল্লেখ করেছেন।

২০২৩ সালে ‘ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’-র এক গবেষক দল এই ছোট লাল বিন্দুগুলোর আবিষ্কার নিয়ে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছিল। তবে সেই সময় ওই গবেষকদের কোনও ধারণাই ছিল না যে, পরবর্তী কয়েক বছরে এই বস্তুগুলি কেমন বিস্ময়কর হয়ে উঠবে! এই দলেই ছিলেন রোহন। গত ১২ আগস্ট বিখ্যাত ‘নেচার’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে একটি গবেষণাপত্র। সেখানেই নতুন এক মহাজাগতিক বস্তুর কথা উঠে এসেছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা একে গ্যাসের ঘন আবরণের আড়ালে লুকিয়ে থাকা একটি কৃষ্ণগহ্বর হিসেবেই উল্লেখ করেছেন। জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের তোলা ছবিতে এক রহস্যময় লাল বিন্দুকে এতটাই উজ্জ্বলভাবে জ্বলতে দেখা গিয়েছে যে, সেটিকে প্রায় একটি তারার মতোই মনে হচ্ছিল। এই আবিষ্কার জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা উল্লসিত। আর সেই আবিষ্কারের সঙ্গে জড়িয়ে থেকে ভারতীয় তরুণ রোহনের নামও পৌঁছে গিয়েছে বিশ্বের দরবারে।

অথচ জ্যোতির্বিজ্ঞানের পথে নাইডুর এই যাত্রা একদমই সোজাসাপ্টা ছিল না। একাদশ শ্রেণিতে পড়ার সময় তিনি কেবল এটুকুই জানতেন যে, তিনি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে চান না। অথচ, হায়দরাবাদের ‘ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ইনফরমেশন টেকনোলজি’-তে কম্পিউটার সায়েন্সের প্রথম বর্ষের ছাত্র থাকাকালীনই তিনি প্রথমবারের মতো ইয়েল-এনইউএস কলেজের ‘লিবারেল আর্টস’ প্রোগ্রাম সম্পর্কে জানতে পারেন। সিঙ্গাপুরে কলেজ জীবন শুরু করার পর তাঁর পরিচয় হয় জ্যোতির্বিজ্ঞানের এক অধ্যাপকের সঙ্গে। বদলে যায় জীবন। সেই বছরের শেষের দিকে তিনি ওই অধ্যাপকের একজন ইন্টার্ন হিসেবে চিলিতে যান। হায়দরাবাদের মতো আলো-দূষণযুক্ত শহরে রাতের আকাশ দেখার সুযোগ তাঁর কখনওই হয়নি। আটাকামা মরুভূমিতে তিনি প্রথমবারের মতো খালি চোখে ‘মিল্কি ওয়ে’ বা আকাশগঙ্গা দেখলেন! তখনই স্থির করে ফেলেন এবার তিনি প্রশ্নের উত্তর কেবল কুইজে নয়, অনন্ত নক্ষত্রবীথির মধ্যেই খুঁজে বেড়াবেন। তবে বোস্টনের বাসিন্দা রোহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা অনলাইনে বিভিন্ন কুইজ কমিউনিটিতে সময় কাটান সপ্তাহান্তে। ছোটবেলার সেই শখ এখনও তিনি ত্যাগ করেননি।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.