‘চিরদিন কাহারও সমান নাহি যায়।’ মানুষ যতই ছড়ি ঘোরাক, এই পৃথিবীতে সেও চিরকালীন নয়! অতিকায় ডাইনোসররা একদিন দাপিয়ে বেড়াত এই গ্রহের বুকে। কিন্তু তারা বিলীন হয়ে গিয়েছে অনন্তের বুকে। এখন সময় অমৃতের পুত্রকন্যার। কিন্তু বিবর্তনের নিয়ম বলছে একদিন এই পৃথিবী থেকে মুছে যাবে মানুষ। তখন কারা রাজত্ব করবে পৃথিবীতে? জানালেন প্রফেসর টিন কোলসন।
ভেবে দেখলে ডাইনোসররা যতদিন এই পৃথিবীতে ছিল, মানুষের রাজত্ব সেই হিসেবে মাত্র সেদিনের! তাকেও ছেড়ে যেতে হবে এই নীল গ্রহের ‘বসতবাড়ি’। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক টিম একটি বই লিখেছেন, যার নাম ‘দ্য ইউনিভার্সাল হিস্ট্রি অফ আস’। সেখানেই তিনি উল্লেখ করেছেন, মানুষের অবলুপ্তির বিষয়টি। লিখেছেন, ‘মানুষ-সহ, সমস্ত প্রজাতির ভাগ্যে একই পরিণতি রয়েছে। কেবল আশা করতে পারি, আমাদের অবলুপ্তি থাকুক দূরবর্তী ভবিষ্যতের কোলে।’ কিন্তু যত বছর পরেই হোক, একদিন মানুষ হারিয়ে যাবেই। তখন? কাদের হাতে বর্তাবে এই গ্রহের রাজপাট?
আরও পড়ুন:
বিবর্তনের নিয়ম বলছে একদিন এই পৃথিবী থেকে মুছে যাবে মানুষ। তখন কারা রাজত্ব করবে পৃথিবীতে? জানালেন প্রফেসর টিন কোলসন।
টিম লিখছেন, ‘অপ্রত্যাশিত উপায়ে বুদ্ধিমত্তা এবং জটিলতার নতুন রূপ আবির্ভূত হতে পারে।’ তাঁর বক্তব্য থেকে অনুমান করা যায়, সম্ভবত নতুন কোনও প্রজাতির আবির্ভাব ঘটতে পারে এই পৃথিবীতে। অনেকের অনুমান, মানুষ না থাকলে বাঁদররাই হবে গ্রহটির শাসক! কিন্তু টিম বলছেন, ‘প্রাইমেটরা সামাজিক বন্ধনের উপরে নির্ভর করে দারুণ ভাবে। তারা শিকার, পরিচর্যা এবং প্রতিরক্ষার মতো কার্যকলাপে জড়িত থাকে, যা তাদের বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য। এই সীমাবদ্ধতাগুলি তাদের বিশ্বের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সংগ্রাম করতে সাহায্য করতে পারে।’ কিন্তু তাদের নয়, টিম এগিয়ে রাখছেন অক্টোপাসকে।
টিম অক্টোপাসের ‘উন্নত স্নায়ু কাঠামো, বিকেন্দ্রীভূত স্নায়ুতন্ত্র এবং অসাধারণ সমস্যা সমাধানের দক্ষতা’র কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, মানুষ না থাকলে সমুদ্র এই পৃথিবীর কেন্দ্রে থাকবে। তবে তখনও খাদ্য শৃঙ্খলের অবস্থানে শীর্ষে জমির প্রাণীরাই থাকবে। টিমের অনুমান, অক্টোপাসরা ভবিষ্যতে জলের বাইরে শ্বাস নেওয়ার ক্ষমতাও অর্জন করতে পারে। সেক্ষেত্রে হরিণ, ভেড়া এবং অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীর মতো স্থলজ প্রাণী শিকার করবে তারা। আর এভাবেই তারা একদিন পৃথিবীর দখল নিতে পারে। উল্লেখ্য, টিম কিন্তু কোনও ভবিষ্যদ্বাণী করছেন না। তিনি তাঁর বইয়ে আলোচনা করেছেন বিবর্তনের অনন্ত সম্ভাবনা নিয়ে।
টিমের মতে, মানুষ না থাকলে সমুদ্র এই পৃথিবীর কেন্দ্রে থাকবে। তবে তখনও খাদ্য শৃঙ্খলের অবস্থানে শীর্ষে জমির প্রাণীরাই থাকবে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
মেডিক্যাল কলেজের অধ্যাপকদের পদোন্নতিতে আর স্বজনপোষণ নয়! বড় পদক্ষেপ রাজ্যের
-
স্বরূপ গ্রেপ্তার হতেই খেলা শেষ! প্র্যাকটিস বন্ধ সুরুচির, আদৌ খেলবে শ্রীভূমি-ডায়মন্ড হারবার?
-
চাকরির ‘টোপ’ দিয়ে হাতানো জমিতে প্রাসাদ! জনতার বিক্ষোভে ‘গৃহবন্দি’ তৃণমূল নেতা
-
সরকারি বাড়ি পেতে নিজের তথ্য যাচাই করুন নিজেই! সাধারণের সুবিধার্থে নয়া অ্যাপ আনল রাজ্য
-
অভিনয় থেকে অবসর নিচ্ছেন অক্ষয়! ‘মৃত্যুর ৫ মিনিট আগে…’, কোন ইঙ্গিত খিলাড়ি কুমারের?