Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ১১ জুলাই ২০২৬
Sabrina Pasterski

১৪ বছরে বানায় বিমান, ফেরায় নাসার চাকরিও! মহাকাশবিজ্ঞানে ‘আগামীর আইনস্টাইন’ সাবরিনা

অনেকেই সাবরিনাকে ‘পরবর্তী আইনস্টাইন’ বলে অভিহিত করেন। সাবরিনার মনে করেন, বিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হল— নতুন আবিষ্কার কখন, কোথায় এবং কার হাত ধরে আসবে, তা আগে থেকে কেউ জানে না।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ১১, ২০২৬, ১৬:৪৭

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ১১, ২০২৬, ১৬:৪৭

options
link
১৪ বছরে বানায় বিমান, ফেরায় নাসার চাকরিও! মহাকাশবিজ্ঞানে ‘আগামীর আইনস্টাইন’ সাবরিনা zoom
হার্ভার্ড তাঁকে 'আগামীর আইনস্টাইন'-এর তকমা দিয়েছে।

এ গল্পের সূচনা যখন হয়, মেয়েটির বয়স তখন মোটে ১৪। ওই বয়সের মেয়েরা বিমান ওঠার স্বপ্ন দেখে, বড় হয়ে পাইলট হতে চায়। কিন্তু আমাদের এ গল্পের নায়িকা সাবরিনা গনজালেস পাসটরস্কি (Sabrina Pasterski) ওই বয়সেই নিজে হাতে তৈরি করে ফেলেছিলেন আস্ত একখানা বিমান! আর তা উড়িয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন সকলকে। তখনও তাঁর গাড়ি চালানোর আইনি বয়স হয়নি।

১৯৯৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে জন্ম সাবরিনার। ছোটবেলা থেকেই বিজ্ঞান ও বিমানচালনার প্রতি ছিল অদম্য কৌতূহল। ইলিনইস ম্যাথমেটিক্স অ্যান্ড সায়েন্স একাডেমিতে পড়ার সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক পদার্থবিজ্ঞান অলিম্পিয়াড দলে যোগ দেওয়ার প্রতিযোগিতায় সামিল হন। পাশাপাশি নাসার কেনেডি স্পেস সেন্টার এবং জেফ বেজোসের মহাকাশ সংস্থা ব্লু অরিজিনে ইন্টার্নশিপ করার সুযোগও পান।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement
Who Is Sabrina Pasterski Physicist Who Rejected NASA
সাবরিনা গনজালেস পাসটরস্কি

২০১০ সালে তিনি বিশ্বের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (MIT)-তে আবেদন করেন। প্রথমে তাঁকে ওয়েটলিস্টে রাখা হলেও, তাঁর নিজের হাতে তৈরি বিমানটি দেখে কর্তৃপক্ষ মুগ্ধ হয়ে যায়। ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান সাবরিনা।

এরপর মাত্র তিন বছরে পদার্থবিজ্ঞানে সর্বোচ্চ নম্বর নিয়ে স্নাতক হন তিনি। উল্লেখ, প্রায় দুই দশকের মধ্যে MIT-এর পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে সর্বোচ্চ ফল লাভ করা প্রথম নারী তিনি। এরপর তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানে পিএইচডি করেন। সেখানে অধ্যাপক অ্যান্ড্রু স্ট্রোমিঙ্গার এবং আলেকজান্ডার ঝিবোয়েদভের সঙ্গে কাজ করে, ‘Spin Memory Effect’ নিয়ে গবেষণা প্রকাশ করেন। এই গবেষণা মহাকর্ষীয় তরঙ্গ ও স্থান-কালের প্রকৃতি বোঝার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত খুলে দেয়। গবেষণাটি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং জীবনের শেষদিকের কিছু গবেষণাপত্রে সাবরিনার কাজের উল্লেখ করেন।

নাসা তাঁকে নিয়োগ করতে আগ্রহ প্রকাশ করে। জেফ বেজোসের ব্লু অরিজিন থেকেও চাকরির প্রস্তাব আসে। এমনকি ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রায় ১১ লক্ষ মার্কিন ডলার পারিশ্রমিকের সহকারী অধ্যাপকের পদ অফার করা হয়। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে সাবরিনা এ সমস্ত প্রস্তাবই ফিরিয়ে দেন!

২০২১ সালে তিনি কানাডার পেরিমিটার ইনস্টিটিউট ফর থিওরিটিক্যাল ফিজিক্সের গবেষক হিসেবে যোগ দেন। সেখানে সেলেস্টিয়ার হলোগ্রাফি ইনিশিয়েটিভ (Celestial Holography Initiative) নামে একটি কর্মসূচি শুরু করেন, যার লক্ষ্য পদার্থবিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় রহস্যগুলোর একটি- কোয়ান্টাম মেকানিক্স ও আইনস্টাইনের মাধ্যাকর্ষণ তত্ত্বকে একত্রিত করা। বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস, যদি কোনও দিন এই দুটি তত্ত্বকে একত্রিত করা সম্ভব হয়, তাহলে মহাবিশ্ব, স্থান, সময় এবং মাধ্যাকর্ষণ সম্পর্কে মানুষের ধারণাই বদলে যেতে পারে। এমনকী ভবিষ্যতে এমন প্রযুক্তির জন্ম হতে পারে, যা আজ কল্পনার বাইরে। সাবরিনার গবেষণার মূল লক্ষ্য এই অমীমাংসিত রহস্যের সমাধান করা।

হার্ভার্ড সাবরিনাকে ‘পরবর্তী আইনস্টাইন’ বলে অভিহিত করে। সাবরিনার মনে করেন, বিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য এ-ই, নতুন আবিষ্কার কখন, কোথায় এবং কার হাত ধরে আসবে, তা আগে থেকে কেউ জানে না।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.