কাটল দু’বছরের খরা। ফের বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের জঙ্গলে ক্যামেরাবন্দি বিশালাকার ডোরাকাটা। বৃহস্পতিবার রাত ৮ টা ১৯ মিনিটে বনদপ্তরের ট্র্যাপ ক্যামেরায় একটি পূর্ণবয়স্ক রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের ছবি ধরা পড়েছে। শুক্রবার সেই ছবি প্রকাশ করেছে রাজ্যের বনদপ্তর। বনকর্তাদের প্রাথমিক অনুমান, ভুটান থেকে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার এই বনাঞ্চলে আসতে পারে। তবে অসমের বনাঞ্চলের সঙ্গেও বক্সা টাইগার রিজার্ভ ফরেস্টের সংযোগ রয়েছে। ফলে ঠিক কোন এলাকা থেকে এই বাঘটি এই বনাঞ্চলে এসেছে তা খতিয়ে দেখছে বনদপ্তর। ক্যামেরায় ধরা পড়া বাঘটি পুরুষ না স্ত্রী, তা এখনও চিহ্নিত করা যায়নি।
বনকর্তাদের প্রাথমিক অনুমান, ভুটান থেকে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার এই বনাঞ্চলে আসতে পারে। তবে অসমের বনাঞ্চলের সঙ্গেও বক্সা টাইগার রিজার্ভ ফরেস্টের সংযোগ রয়েছে। ক্যামেরায় ধরা পড়া বাঘটি পুরুষ না স্ত্রী, তা এখনও চিহ্নিত করা যায়নি।
আরও পড়ুন:
- ২০২১ সালের ১১ ডিসেম্বর এই বনাঞ্চলে বাঘের ছবি ক্যামেরাবন্দি হয়।
- আবার তা ধরা পড়ে ২০২৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর। পরপর এক বছরের ব্যবধানে ডিসেম্বর মাসেই বক্সাতে বাঘের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল।
- ২০২১ সালে একবার হলেও ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে দু’দিনের ব্যবধানে একই বাঘের দুই দিন দুটো আলাদা ছবি ক্যামেরা বন্দি হয় – ২৮ ডিসেম্বর ও ৩১ ডিসেম্বর।
- কিন্তু ২০২৪ সালে ডোরাকাটার কোনও চিহ্ন পায়নি বনদপ্তর।
- আশা ছিল, ২০২৫ সালে বক্সার দুর্নাম ঘুচবে। কিন্তু ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসও পেরিয়ে গেলেও দেখা দেয়নি ‘বাঘমামা’।
অবশেষে নতুন বছরের শুরুতেই বক্সায় বাঘের ছবি ক্যামেরাবন্দি হলো। এই ছবি দেখার পরই বক্সায় বাঘের বসবাসযোগ্য পরিবেশ রয়েছে বলে দাবি করছে বনদপ্তর। বন্যপ্রাণ বিভাগের রাজ্যের প্রধান মুখ্য বনপাল সন্দীপ সুন্দরিয়াল বলেন, “ঘনঘন বক্সায় বাঘের আনাগোনার প্রমাণ মিলছে। এটা প্রমাণ করে বক্সা টাইগার রিজার্ভের জঙ্গলে বাঘ থাকার উপযুক্ত পরিবেশ রয়েছে। বনাঞ্চলের সব জায়গায় ট্র্যাপ ক্যামেরা পাতা থাকে না। অনেক সময় বনাঞ্চলে বাঘ থাকলেও তা ক্যামেরায় ধরা পড়ে না। আমরা প্রয়োজনীয় সব রকম ব্যবস্থা নিচ্ছি। এই বাঘটি পুরুষ না স্ত্রী, তা খতিয়ে দেখছি আমরা। এখনই বলা সম্ভব নয়।”
বক্সাতে বাঘের উপস্থিতির প্রমাণ পেয়ে খুশি হয়েছেন রাজ্যের বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা। তিনি বলেন, “ট্র্যাপ ক্যামেরার চিপ খতিয়ে দেখার সময় শুক্রবার বিকেলে আমরা জানতে পারি যে ট্র্যাপ ক্যামেরায় বাঘের ছবি ধরা পড়েছে। রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের ছবি ট্র্যাপ ক্যামেরায় ধরা পড়ার পরেই আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। বাঘের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির নানা কাজ এই বনাঞ্চলে চলছে।”
উল্লেখ্য, ১৯৮২ সালে আলিপুরদুয়ার জেলার বক্সা বাঘ বন দেশের ১৫ তম বাঘ সংরক্ষিত এলাকার মর্যাদা পায়। সেসময় এই বনাঞ্চলে ২০ টির বেশি বাঘ থাকার রেকর্ড ছিল। পাহাড়, সমতল মিলিয়ে মোট ৭৬০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে রয়েছে বক্সা ব্যাঘ্র বনাঞ্চল। কিন্তু ধীরে ধীরে এই বনাঞ্চল বাঘশূন্য হয়ে গিয়েছে। বর্তমানে এই বনাঞ্চলে একটিও বাঘ নেই – এমন প্রচার হয়েছে। কিন্তু এখানে ভুটান থেকে নিয়মিত বাঘ আনাগোনা করে বলে মনে করছেন বনকর্তারা।
১৯৮২ সালে আলিপুরদুয়ার জেলার বক্সা বাঘ বন দেশের ১৫ তম বাঘ সংরক্ষিত এলাকার মর্যাদা পায়। সেসময় এই বনাঞ্চলে ২০ টির বেশি বাঘ থাকার রেকর্ড ছিল।
সর্বশেষ খবর
-
বর্ষার শুরুতেই বিপদসীমা ছুঁইছুঁই তিস্তা, সন্ধ্যা ঘনালেই জারি হচ্ছে সতর্কতা
-
এই খাবার খেয়ে বছরে মৃত্যু ১৫ লক্ষ, অধিকাংশই শিশু! প্রকাশ্যে চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট
-
ফুটবলাররা যেন জঙ্গি, ম্যাচ দেখতে পকেট ফাঁকা! আমেরিকায় বিশ্বকাপ আর বিতর্ক যেন সমার্থক
-
স্ট্রাইক রেটে ডবল সেঞ্চুরি! ভারত ‘এ’ দলের হয়ে ঝোড়ো ইনিংস বৈভবের
-
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দূরদর্শিতা ও নেতৃত্বে নির্মিত উন্নয়নের মাইলফলক