Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩
  • মঙ্গলবার
  • ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Sunderbans

বাঘের মুখে প্লাস্টিক থেকে থার্মোকলের দূষণে জেরবার ম্যানগ্রোভ, শিরে সংক্রান্তি সুন্দরবনের!

পর্যটকদের ঘনঘন আনাগোনায় অর্থনীতি ফুলেফেঁপে উঠলেও অভিশাপের ছায়া কালো হচ্ছে।

দেবব্রত মণ্ডল
দেবব্রত মণ্ডল

শেষ আপডেট: আগস্ট ৯, ২০২৬, ১৫:০৯

link
দেবব্রত মণ্ডল
দেবব্রত মণ্ডল

শেষ আপডেট: আগস্ট ৯, ২০২৬, ১৫:০৯

options
link
বাঘের মুখে প্লাস্টিক থেকে থার্মোকলের দূষণে জেরবার ম্যানগ্রোভ, শিরে সংক্রান্তি সুন্দরবনের! zoom
সুন্দরবনের জল, মাটিতে মিশছে প্লাস্টিকের মতো বর্জ্য, বাড়ছে দূষণ
Advertisement

দিনে দিনে বিপদ বাড়ছে। প্লাস্টিক আর থার্মোকলের দূষণ মাত্রাছাড়া হওয়ায় এবার সুন্দরবনের শিরে সংক্রান্তি দশা! একদিকে যেমন ম্যানগ্রোভ বাঁচানোর উদ্যোগ নিয়েছে বনদপ্তর ও পরিবেশপ্রেমী সংগঠনগুলি, অন্যদিকে সেই সুন্দরবনেই গ্রামবাংলার হাট থেকে প্লাস্টিক ও পরিবেশের ক্ষতিকারক বর্জ্য মিশছে সেই ম্যানগ্রোভ অরণ্যে মাটি, জলে। বিরাট ক্ষতি হচ্ছে সুন্দরী, গরান, হেঁতাল থেকে সুন্দরবনের বাঁধ, এমনকি বন্যপ্রাণীদেরও। পরিস্থিতি দেখে ইতিমধ্যেই পরিবেশবিদরা সুন্দরবনে প্লাস্টিক দূষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

দিন কয়েক আগে একটি ছবি ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, একটি ব্র্যাঘ্র শাবকের মুখের সামনে পড়ে প্লাস্টিকের বোতল, তাতে মুখ দিয়ে পরখ করে দেখছে সে। সোশাল মিডিয়ায় এই ছবি পোস্ট হতেই মন্তব্যের ঝড়। উল্লেখযোগ্য মন্তব্য – ‘এবার কি ওরা সফট ড্রিঙ্কস খাবে?’ এই মন্তব্য হাস্যকর নয় মোটেও, গভীর উদ্বেগ লুকিয়ে এর মধ্যে। এতটাই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে সুন্দরবনের পরিবেশ?

দিন কয়েক আগে একটি ছবি ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, একটি ব্র্যাঘ্র শাবকের মুখের সামনে পড়ে প্লাস্টিকের বোতল, তাতে মুখ দিয়ে পরখ করে দেখছে সে। সোশাল মিডিয়ায় এই ছবি পোস্ট হতেই মন্তব্যের ঝড়। উল্লেখযোগ্য মন্তব্য – ‘এবার কি ওরা সফট ড্রিঙ্কস খাবে?’ এই মন্তব্য হাস্যকর নয় মোটেও, গভীর উদ্বেগ লুকিয়ে এর মধ্যে। এতটাই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে সুন্দরবনের পরিবেশ? উত্তর ২৪ পরগনার কালীতলা থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগরদ্বীপ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে রয়েছে অসংখ্য বাজার ও হাট। এই বাজারগুলি থেকে পরিবেশের ক্ষতিকারক প্লাস্টিক, থার্মোকল বা ওই জাতীয় বর্জ্য এসে মিশছে সরাসরি নদীর জলে। নদীর ঢেউ ও জোয়ারের টানে সেই সমস্ত বাজারে দূষিত বর্জ্য ছড়িয়ে পড়ছে সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভের জঙ্গল এলাকাগুলিতে।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

প্রতিদিন এই সমস্ত বর্জ্য ক্ষতি করছে পরিবেশকে। পাখিরালা, সাতজেলিয়া, গোসাবা, কুমিরমারি, মোল্লাখালি, কাকদ্বীপ, রায়দিঘি-সহ বিভিন্ন গ্রামের বাজারগুলি অবস্থিত একেবারে নদী সংলগ্ন এলাকাতে। নদীর বাঁধের পাশে এই সমস্ত বাজারগুলি অবস্থান করায় প্রচুর পরিমাণে বর্জ্য সরাসরি মিশছে নদীর জলে শুধু তাই নয়, সুন্দরবনে এখন সারা বছরই প্রায় পর্যটকদের আগমন ঘটছে। বাড়ছে পর্যটকের সংখ্যাও। আর এর ফলে লক্ষ লক্ষ পর্যটকদের ব্যবহৃত বর্জ্য তাও মিশে যাচ্ছে জল আর জঙ্গলে। যত পর্যটকের আগমন ঘটছে ততই বেড়ে যাচ্ছে দূষণের প্রভাব। ডাবের খোলা থেকে মদের বোতল থার্মোকলের থালা থেকে প্লাস্টিকের কেরি ব্যাগ সবই এখন সরাসরি মিশে নদীর জলে।

তার কারণ সুন্দরবনে এই বিরাট পরিমাণের প্লাস্টিক বা বর্জ্যকে পুনরায় ব্যবহারযোগ্য করার কোনও ব্যবস্থাই গড়ে ওঠেনি। এমনকী দ্বীপগুলিতে ডাম্পিং গ্রাউন্ডও নেই। যেখানে অন্তত হাট বাজারের প্লাস্টিক বা হোটেলের পরিত্যক্ত আবর্জনা জড়ো করা যেতে পারে। বর্জ্য নিষ্কাশনের জন্য গোসাবা পঞ্চায়েত সমিতি প্রতিবছর কয়েক লক্ষ টাকা আদায় করে থাকেন টুরিস্ট হোটেল এবং বোট থেকে। তা সত্ত্বেও সেই টাকা দিয়ে কোনওরকম বর্জ্য নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়নি। বাজারগুলি থেকে প্রতিদিন এবং হাটগুলি থেকে প্রতি সপ্তাহে অর্থ সংগ্রহ করা হয় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য। কিন্তু সবটাই নদীর জলে।

সুন্দরবনের জল, মাটিতে মিশছে প্লাস্টিকের মতো বর্জ্য

এ বিষয়ে গোসাবার বিধায়ক বিকর্ণ নস্করের বক্তব্য, ‘‘বিভিন্নভাবে মানুষকে সচেতনতা করার কাজ চলছে। তবে খুব শীঘ্রই আমরা বাজার কমিটিগুলোর সঙ্গে বসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব। যেখানে সমস্ত প্লাস্টিক নদীতে না ফেলে এক জায়গায় জড়ো করে সেগুলোকে পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তোলা যায়, সেই দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সুন্দরবন বাঁচাতে আমাদের সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, আগামী দিনেও করা হবে।” প্লাস্টিক সুন্দরবনের জঙ্গলের মধ্যে বা নদীতে ফেললে এবং পর্যটকদের কাছে ও টুরিস্ট বোটগুলোতে পাওয়া গেলে জরিমানা করার নির্দেশ আছে ব্যাঘ্র প্রকল্পের। সেখানে জরিমানাও করা হয় প্রতিনিয়ত। কিন্তু হাট বাজার গুলি থেকে ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক সুন্দরবনের নদীতে ফেললে তাদের জরিমানা করার কোনও বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়নি।

গোসাবা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নীলিমা মণ্ডল বলেন, ‘‘প্লাস্টিকের ব্যবহার পুনরায় করার জন্য এবং নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার জন্য গোসাবা পঞ্চায়েত সমিতির তরফে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় ময়লা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট স্থান ও করা হয়েছে। তারপরেও মানুষের সচেতনতার অভাবের কারণেই এই সমস্যা তৈরি হয়েছে।”

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.