অরিজিৎ গুপ্ত, হাওড়া: শিবপুর বোটানিক্যাল গার্ডেন মানেই গাছেদের জগৎ। পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি প্রজাতির গাছ দেখা যায় এখানেই। তবে এবার গাছপ্রেমীদের জন্য আরও সুখবর নিয়ে হাজির বি গার্ডেন কর্তৃপক্ষ। এখন থেকে সেখানে গিয়ে গাছ দেখার পাশাপাশি পছন্দের গাছের চারা কিনতেও পারবেন। গত সপ্তাহ থেকে বোটানিক্যাল গার্ডেনের গেটে শুরু হল বিরল প্রজাতির গাছ বিক্রি। রীতিমতো কাউন্টার তৈরি করে এই গাছ বিক্রি হচ্ছে। আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু বোটানিক্যাল গার্ডেনের জয়েন্ট ডিরেক্টর দেবেন্দ্র সিং জানান, ‘‘বোটানিক্যাল গার্ডেনের ইতিহাসে এই প্রথম এই উদ্যোগ। যেখানে ভিজিটররা গাছ দেখার পাশাপাশি গার্ডেনে এসে তাঁদের পছন্দের গাছ কিনতেও পারবেন।’’
সোমবার বন্ধ থাকে শিবপুর বি গার্ডেন। সেদিন বাদ দিয়ে সপ্তাহের যে কোনও দিন যেদিন বোটানিক্যাল গার্ডেন খোলা থাকে, সেই দিনই গার্ডেনের গেটের কাছে কাউন্টার থেকে গাছ কিনতে পারবেন সাধারণ মানুষ। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত এই কাউন্টার খোলা থাকবে। বিরল প্রজাতির যে কোনও গাছের চারা এখান থেকে কেনা যাবে। যে গাছগুলি সাধারণত বাজারে পাওয়া যায় না। সাধারণ মানুষ এই গাছগুলি বাড়ির ছাদে, বাগানে কিংবা ফাঁকা জমিতেও পুঁততে পারবেন। এখানে আপাতত ৭২ রকমের বা ৭২ প্রজাতির গাছ কিনতে পাওয়া যাবে। বোটানিক্যাল গার্ডেনের এই কাউন্টারে ২০ টাকা থেকে শুরু করে ২০০ টাকা মূল্য পর্যন্ত গাছের চারা কিনতে পাওয়া যাবে।

বিভিন্ন গাছের সম্ভাব্য দামের তালিকাও দেওয়া হয়েছে। যেমন ৫০ টাকায় পাওয়া যাবে রক্তচন্দন, ২০ টাকার অ্যালোভেরা, ৩০ টাকার নিম, ৩০ টাকা দামের কাঞ্চন, ৩০ টাকার তাল গাছের চারা কিনতে পাওয়া যাবে। এছাড়া ৫০ টাকায় আম, ৫০ টাকার কলা গাছের মতো ফলের গাছের চারাও কিনতে পারবেন গাছপ্রেমীরা। কিন্তু বাজার থেকে গাছের চারা না কিনে কেন বোটানিক্যাল গার্ডেনে এসে লোকে গাছ কিনবেন? এই প্রশ্নের উত্তরে বিক্রির কাউন্টারে থাকা বোটানিক্যাল গার্ডেনের এক কর্মী তমা বিশ্বাসের কথায়, ‘‘বাজারের থেকে অনেক কম খরচে বি গার্ডেনের এই কাউন্টার থেকে গাছের চারা কিনতে পারা যাবে। তাছাড়া অনেক বিরল প্রজাতির গাছের চারা যেগুলি সচরাচর বাজারে পাওয়া যায় না। সেগুলিও এই কাউন্টারে এসে বোটানিক্যাল গার্ডেনে আসা ভিজিটররা কিনতে পারবেন।’’

গার্ডেন কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়, বোটানিক্যাল গার্ডেনে টিকিট করে ঢোকার পরই ভিজিটররা এখানকার কাউন্টার থেকে গাছ কিনতে পারবেন। কেন এই ধরনের গাছের চারা বিক্রির উদ্যোগ নিল বোটানিক্যাল গার্ডেন কর্তৃপক্ষ? এর উত্তরে জয়েন্ট ডিরেক্টর দেবেন্দ্র সিং বললেন, ‘‘বিরল প্রজাতির গাছকে বাঁচাতেই আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি। বিরল প্রজাতির গাছকে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিলি করতে চাইছি। যাতে তারা এই গাছ পুঁতলে গাছগুলি সমাজের মধ্যে থেকে বাঁচতে পারে। হারিয়ে না যায়।’’
সর্বশেষ খবর
-
দ্বিতীয়বার ক্যানসার আক্রান্ত হয়েও লড়াই ছাড়েননি, সাংবাদিক হওয়ার স্বপ্ন নিয়েই মৃত্যু পায়েলের
-
‘ককরোচ’দের স্কুল কর্মসূচিতে উদ্বুদ্ধ এবিভিপি! বর্ধমানের উপাচার্যকে ‘চোর’ তকমা দিয়ে ঘেরাও
-
ধূমপান না করেও মুখে ক্যানসারের থাবা! এই ৭ উপসর্গ দেখলে সাবধান হতে হবে আজই
-
যাদবপুরের জমায়েতে ‘দিমাগি নকশাল’! ‘মাওবাদীদের হাতে মার খাব না’, ক্যাম্পাসে হুঙ্কার এবিভিপির
-
উসেইন বোল্টের বিশ্বরেকর্ড ভেঙে খানখান! নয়া নজির গড়ল চিনের ‘সুপারম্যান’, ভিডিও ভাইরাল