Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • বুধবার
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
Earth Prize 2026

পানীয় জল থেকে প্লাস্টিক সরাবে তেঁতুলের বীজ! তাক লাগানো আবিষ্কার ভারতীয় পড়ুয়াদের

তিন ভারতীয় পড়ুয়া বিবান ছওছারিয়া, আরিয়ানা আগরওয়াল এবং অভ্যানা মেহতা আবিষ্কার করে বসেছেন এমন এক অভিনব প্রযুক্তি, যার নাম তাঁরা রেখেছে ‘প্লাস-স্টিক’।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ২, ২০২৬, ১৪:০৭

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ২, ২০২৬, ১৪:০৭

options
link
পানীয় জল থেকে প্লাস্টিক সরাবে তেঁতুলের বীজ! তাক লাগানো আবিষ্কার ভারতীয় পড়ুয়াদের zoom
ভারতীয় তিন পড়ুয়ার বুদ্ধিতেই তেঁতুলের বীজ কাজে লাগানো গেল আশ্চর্য প্রযুক্তি উদ্ভাবনে।
Advertisement

তেঁতুলের বীজ এতদিন পর্যন্ত প্রসাধনীতে ব্যবহার করেছে মানুষ, চিকিৎসাশাস্ত্রেও তার খানিক উপযোগিতা দেখা গিয়েছে। তা বলে এই অতিসাধারণ বীজ যে এক যুগান্তকারী উদ্ভাবনের অংশ হয়ে উঠতে পারে, তা কি ভাবতে পেরেছে কেউ? ভেবেছে একদল ভারতীয় পড়ুয়া। ব্যক্তিস্বার্থের গণ্ডি পেরিয়ে তারা ভেবেছে, ভারত তথা পৃথিবীবাসীর কথা। আর তাই চলতি বছরের ‘আর্থ প্রাইজ’ (Earth Prize 2026) বরাদ্দ হয়েছে তাদের নামে।

Earth Prize 2026 Indian students use tamarind seeds to tackle microplastic pollution
বিবান ছওছারিয়া, আরিয়ানা আগরওয়াল এবং অভ্যানা মেহতা

বহু বছর ধরেই দুনিয়ার তামাম বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন সাবধানবার্তা— দূষণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পানীয় জলে মিশছে মাইক্রোপ্লাস্টিক। সে জল যতই শোধন করা হোক না কেন, আণুবীক্ষণিক অবিয়োজ্য কণা মিশে রয়ে যায় তাতে। প্রাণীশরীরে প্রবেশ করে ক্যানসারের মতো দীর্ঘমেয়াদি মারণরোগের পথ প্রশস্ত করে।

Advertisement

বিবান ছওছারিয়া, আরিয়ানা আগরওয়াল এবং অভ্যানা মেহতা আবিষ্কার করে বসেছেন এমন এক অভিনব প্রযুক্তি, যার নাম তাঁরা রেখেছেন ‘প্লাস-স্টিক’ (Plas-Stick)। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ফেলে দেওয়া তেঁতুলের বীজের গুঁড়ো থেকে একটি জৈব-বিয়োজ্য উপাদান তৈরি করা হয়, যা জলে থাকা অতি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার সঙ্গে যুক্ত হয়ে সেগুলিকে ছোট ছোট দলায় পরিণত করে। এরপর চুম্বকের সাহায্যে দলাগুলি সহজেই জল থেকে সরিয়ে ফেলা যায়। সমগ্র প্রক্রিয়ায় কোনও ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করতে হয় না। পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, প্রচলিত অনেক ফিল্টারে ধরা না পড়া মাইক্রোপ্লাস্টিকও এই পদ্ধতিতে অপসারণ করা সম্ভব।

আর তাই ‘দ্য আর্থ প্রাইজ ২০২৬’-এর বিজয়ীর সম্মান অর্জন করেছেন এই ভারতীয় ত্রয়ী। সাক্ষাৎকারে তাঁরা জানিয়েছেন, সংগ্রহ করা মাইক্রোপ্লাস্টিক যাতে আবারও নতুন করে পরিবেশে আবর্জনার পরিমাণ না বাড়ায়, সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখবেন তাঁরা। তোলার পরে তা টাইলস বা কোস্টারের মতো ব্যবহারযোগ্য সামগ্রী তৈরিতে কাজে লাগানো হবে, যাতে তা ফের পরিবেশে না ফিরে যায়।

Earth Prize 2026 Indian students use tamarind seeds to tackle microplastic pollution
তেঁতুলের বীজের গুঁড়োর সংস্পর্শে দলা পাকিয়ে উঠছে জলে থাকা মাইক্রোপ্লাস্টিক।

এমন পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পরিকল্পনা কেমন করে এল এই কিশোর-কিশোরীদের মননে? তাঁরা জানিয়েছেন, ভারতের এক গ্রামে ঘুরতে ঘুরতে আচমকাই এই আইডিয়ার অবতারণা। সেখানে এক শিশুকে প্লাস্টিকের গ্লাসে অপরিশোধিত জল পান করতে দেখেন তাঁরা। আর তখনই তাঁদের ভাবায় যে কী অনায়াসে ভারতের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশ করছে। সেই সমস্যার সমাধান খুঁজতেই শুরু হয় গবেষণা।

ভারতে তেঁতুল সহজলভ্য হওয়ায় এই প্রযুক্তির দাম সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যেই রাখা যায় বলে অনুমান করা গিয়েছে। বাস্তব ক্ষেত্রে তা কতখানি কার্যকর হয়, তাই এখন দেখবার বিষয়।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.