কল্পনা করা যাক, ঘন সবুজ শ্যাওলা ঢাকা খাড়াই পাহাড়ি পথ। সঙ্গে তুমুল বৃষ্টি। প্রাণ হাতে করে এখানে পথ চলেন পর্যটক। সামান্য পা হড়কে গেলেই পড়তে হবে খাদে! তবে এই দুর্গম রাস্তা পার করতে পারলে পৌঁছতে পারা যাবে ত্রিঙ্গলওয়াড়ি দুর্গে (Tringalwadi Fort)। মহারাষ্ট্রের নাসিক জেলার ইগতপুরির কাছে সহ্যাদ্রি পর্বতমালায় অবস্থিত এই ত্রিঙ্গলওয়াড়ি দুর্গ। আর তার প্রবেশদ্বারে অপেক্ষমান স্বয়ং অঞ্জনিপুত্র।
আরও পড়ুন:
দুর্গটির নির্মাণকাল নিশ্চিতভাবে জানা যায় না। তবে তার পাদদেশে অবস্থিত প্রাচীন জৈন গুহার নির্মাণের ধরন দেখে আন্দাজ করা যায়, যে এটি আনুমানিক ১০ম শতকে তৈরি। ঐতিহাসিক সূত্রে উল্লেখ রয়েছে যে দুর্গটি প্রাচীন বাণিজ্যপথের উপর নজর রাখার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এককালে।
দুর্গের পশ্চিম দিকের প্রবেশপথটিই সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য। মনে করা হয়, সে যুগের সুদক্ষ স্থাপত্যকীর্তিগুলির অন্যতম এটি। বিভিন্ন সূত্রের বর্ণনা অনুযায়ী, প্রবেশপথ এবং সেখানে পৌঁছনোর সিঁড়ি, একই বিশালকায় শিলার অংশ কেটে তৈরি করা হয়েছিল। এই পথ অত্যন্ত দুর্গম ও খাড়াই। পায়ে হেঁটে উঠতে হয় প্রায় ৩০০০ ফুট। পথ চলার সময় বৃষ্টি নামলে তা আরও বিপদসঙ্কুল হয়ে ওঠে।
সিঁড়ি এসে থামে দুর্গের প্রবেশদ্বারের কাছে, যেখানে আলোচ্য হনুমান মূর্তিটি রয়েছে। মূর্তিটির উচ্চতা প্রায় ৬–৭ ফুট। সেটিকেও আলাদা কোনও শিলাখণ্ড কেটে তৈরি করা হয়নি। বরং সংশ্লিষ্ট পাহাড়টির গা কেটেই নির্মাণ করা হয়েছে। এ কাজে কত সময় লেগেছে তার কোনও লিখিত উল্লেখ ঐতিহাসিক নথিতে না থাকলেও, এমন সূক্ষ্মতার কাজ যে রীতিমতো সময়সাপেক্ষ তা অনুমান করা যায়। দুর্গম পথের শেষে যেন মারুতি অপেক্ষা করে রয়েছেন ভক্তদের তরে। ভক্তরাও ঈশ্বরের এমন রূপ দর্শনের আশায় খাড়াই গিরিপথ অতিক্রম করেন। অনেকে মনে করেন, মারুতি এখানে দুর্গটির রক্ষাকর্তা। তাই সেখানে প্রবেশের আগে স্বয়ং পবনপুত্রকেই কৈফিয়ত দিয়ে হবে যে কোনও পথচারীকে।
প্রবেশপথের আরও এক চমক হল, দ্বারপাশে খোদাই করা দুটি শরভের অবয়ব। হিন্দু পুরাণ ও ভারতীয় মন্দির-স্থাপত্যে শরভকে এক শক্তিশালী পৌরাণিক প্রাণী হিসেবে দেখা যায়। গরুড় ও সিংহের মিশ্রণে যেন তৈরি হয়েছে প্রাণীটির রূপ। ত্রিঙ্গলওয়াড়ি দুর্গের প্রবেশদ্বারে শরভের উপস্থিতি যেন আরও রহস্যময় করে তুলেছে গোটা চত্বরটিকে।
দুর্গের পাদদেশে রয়েছে পাণ্ডব লেণি গুহা। গুহার প্রবেশপথেও সূক্ষ্ম পাথরের কাজ দেখা যায় এবং ভিতরে ঋষভনাথের মূর্তি ও সভামণ্ডপের উল্লেখ পাওয়া যায়। দুর্গের ভিতরে রয়েছে পুরনো স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ, জলাধার এবং একটি ভবানী মন্দিরের অস্তিত্বের চিহ্ন।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
দলীপ ফাইনালে ইতিহাসের দোরগোড়ায় শামি, জাতীয় দলে ব্রাত্য তারকাকে সম্মানিত করবে সিএবি
-
‘একদম চলবে না’, মুখের উপর বিরাটকে বলেছিলেন অনুষ্কা! কেন এত অপছন্দ ছিল?
-
‘মানুষ বড় কাঁদছে…’, টিফিনের টাকা দিয়ে নেপালের বিপর্যস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে স্কুলের পড়ুয়ারা
-
নিত্যদিন ঝগড়া! স্ত্রীকে ‘খুন’ করে ‘আত্মঘাতী’ স্বামী, চাঞ্চল্য আউশগ্রামে
-
ক্যানসারে আক্রান্ত স্ত্রী, অনুমোদনের পরেও মেলেনি আয়ুষ্মান কার্ড! পুরুলিয়ায় ‘জনতার দরবারে’ অসহায় স্বামী

