শিব কেবল সংহারকর্তা নন, তিনি বৈষ্ণব দর্শনের শ্রেষ্ঠ আদর্শ। ‘বৈষ্ণবানাং যথা শম্ভু’—এই চিরন্তন সত্যকে পাথেয় করেই শিবরাত্রির পুণ্য লগ্নে সেজে উঠল বাগবাজার গৌড়ীয় মঠ। শৈব ও বৈষ্ণব চেতনার এক অপূর্ব মেলবন্ধন দেখা গেল মঠ প্রাঙ্গণে। পরম বৈষ্ণব রূপে দেবাদিদেবকে আরাধনা করলেন ভক্তরা। চিরাচরিত প্রথা মেনে এদিন সকাল থেকেই ছিল সাজ সাজ রব।
ভোর থেকেই শুরু হয় বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ। মঠের আচার্য তথা সভাপতি ভক্তি সুন্দর সন্ন্যাসী মহারাজ শিবলিঙ্গে গঙ্গাজল ও দুগ্ধ দিয়ে মহাভিষেক সম্পন্ন করেন। একে একে জল ঢালেন অন্য সন্ন্যাসী ও অগণিত ভক্ত। বৈষ্ণব শাস্ত্র মতে, শিব হলেন ভগবান বিষ্ণুর পরম ভক্ত। সেই ভাবধারাকে সামনে রেখেই এই বিশেষ আরাধনা। মঠ সূত্রে জানা যায়, এখানে প্রতিদিন শিব পূজা হয়। তবে শিব চতুর্দশীতে থাকে বিশেষ আয়োজন।
আরও পড়ুন:
মিশনের সহ সেবাসচিব ভক্তিনিষ্ঠ মধুসূদন মহারাজ জানান, বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের কাছে শিবজি অনন্য শ্রদ্ধার পাত্র। তাঁকে ‘পরম বৈষ্ণব’ জ্ঞানেই পূজা করা হয়। এদিনও তার ব্যতিক্রম হয়নি। পূজার পাশাপাশি ছিল হরিনাম সংকীর্তনের আসর। খোল-করতালের ধ্বনি ও হরিনামে মুখরিত হয়ে ওঠে মঠের চারপাশ। মহতী আরতি দেখতে ভিড় জমান বহু মানুষ।
বিকেল গড়াতেই মঠ প্রাঙ্গণে ভক্তিভাব আরও ঘনীভূত হয়। আগত দর্শনার্থীদের জন্য ছিল বিশেষ প্রসাদের ব্যবস্থা। সব মিলিয়ে, আড়ম্বর নয় বরং ভক্তি ও দর্শনের আলোয় উদযাপিত হল এবারের শিবরাত্রি। বৈষ্ণব মতে মহাদেবের এই আরাধনা সাধারণ মানুষের মনে এক নতুন আধ্যাত্মিক চেতনার সঞ্চার করেছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
সম্ভব হল না অবতরণ! মাঝআকাশে চক্কর রাহুল গান্ধীর বিমানের
-
বিনা অনুমতিতে জবরদখল! ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস থেকে অভিষেককে তুলতে হাই কোর্টের দ্বারস্থ বাড়ির মালিক
-
কম ফ্যাটের দই মানেই ভেজাল নয়, ২৬ বছর পর হাই কোর্টে বেকসুর খালাস কৃষ্ণনগরের মিষ্টি ব্যবসায়ী
-
টাকা দিয়ে দেবীদর্শন! বদলের বঙ্গে বন্ধ হচ্ছে পুজোর ‘বিতর্কিত’ প্রিভিউ শো?
-
মন্দির ধসে পড়লেও নড়ানো যাচ্ছে না বজরংবলীকে! উজ্জয়িনীতে ‘অলৌকিক’ কাণ্ড, ভাইরাল ভিডিও