ব্রজধামের ধূলিকণায় চিরকাল ধ্বনিত হয়েছে রাধা-মাধবের অপ্রাকৃত প্রেমের সুর। তবে মথুরার বুকে ৫০০ বছরের প্রাচীন এক মন্দিরে বিরল দৃশ্য। এখানে বিগ্রহের অলিন্দে বংশীধারীর পাশে শ্রীরাধিকা অনুপস্থিত। তাঁর স্থান অধিকার করে বসে আছেন কংসের দাসী কুব্জা। ভক্ত ও ভগবানের সমর্পণের এমন বিরল লীলাক্ষেত্র সমগ্র ভারতে দ্বিতীয়টি খুঁজে পাওয়া ভার! সনাতন ভাবধারায় এই মন্দির কেবল এক দর্শনীয় স্থান নয়, বরং করুণাবারিধি শ্রীকৃষ্ণের ভক্তবাঞ্ছাকল্পতরু রূপের এক জীবন্ত অলেখ্য।

আরও পড়ুন:
পৌরাণিক কাহিনি ও স্থানীয় জনশ্রুতি অনুযায়ী, এই মন্দিরের প্রাঙ্গণেই একদা বাস করতেন কংসের অনুগতা কুব্জা। শারীরিক কদাকার রূপ এবং কূজপৃষ্ঠের যন্ত্রণায় ক্লিষ্ট হয়েও প্রতিদিন নিষ্ঠাভরে কংসের জন্য সুগন্ধি চন্দন লেপন তৈরি করতেন তিনি। মল্লযুদ্ধের প্রাক্কালে মথুরায় শ্রীকৃষ্ণের পদার্পণ ঘটলে তাঁকেও তিনি চন্দন বেটে পাঠান। কুব্জার অর্পিত ভক্তিসিক্ত অনুলেপনে প্রীত হন পূর্ণব্রহ্ম। ভক্তের হৃদয়ের ব্যাকুলতা অনুধাবন করে তিনি স্পর্শ করেন কুব্জার শরীর। সেই ঐশ্বরিক পরশমাত্রেই বিনাশ ঘটে কুঁজের। শারীরিক ব্যাধি নিমেষে বিলীন হয়ে প্রস্ফুটিত হয় এক অসামান্য অলৌকিক রূপলাবণ্য। ভক্তের ক্লেশ হরণের এই মাহাত্ম্যই মন্দিরটিকে এক মহাসিদ্ধপীঠে পরিণত করেছে।

ধর্মীয় বিশ্বাস, কুব্জার প্রতি বাসুদেবের এই অমোঘ কৃপাই আজও প্রবাহিত হচ্ছে মন্দিরের পবিত্র বাতাসে। ব্যাধিমুক্তির ব্যাকুল আকাঙ্ক্ষা নিয়ে দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন শয়ে শয়ে পুণ্যার্থী ছুটে আসেন এখানে। কথিত আছে, ভক্তিভরে এই ধামে আরাধনা করলে এবং চরণামৃত গ্রহণ করলে দূরারোগ্য চর্মরোগ ও কায়িক যন্ত্রণা থেকে নিষ্কৃতি মেলে। রাধাকৃষ্ণের মাধুর্যলীলার বাইরে গিয়ে দাস্য ও বাৎসল্য রসের এমন অপূর্ব মিলনক্ষেত্র ব্রজভূমির এক অনন্য রত্ন। শ্রীকৃষ্ণের চরণে আত্মনিবেদনের এই কাহিনি প্রমাণ করে, বাহ্যিক রূপ নয়, ভক্তি ও ভাবাবেগই বৈকুণ্ঠপতির প্রীতির একমাত্র কারণ।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
দার্জিলিংয়ে জোরবাংলো ট্রাফিক পয়েন্টের কাছে ধসে উধাও অর্ধেক রাস্তা! বিপর্যস্ত জনজীবন
-
ডাক্তারিতে ভর্তি করানোর নামে প্রতারণা, ২৫ লক্ষ টাকা হাতাল কাউন্সিলিং সংস্থা!
-
সরকারি হাসপাতালে থ্রেট কালচারের মাথা! চিকিৎসক অভীক দে-র বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন
-
অতি ভারী বৃষ্টিতে ভাসল কলকাতা, উত্তর থেকে দক্ষিণের একাধিক রাস্তা জলমগ্ন!
-
ভয়াবহ ভূমিকম্পে কলম্বিয়ায় হাহাকার, তাসের ঘরের মতো ভাঙছে বাড়ি! মৃত অন্তত ১১১