Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৩২ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • মঙ্গলবার
  • ১৮ আগস্ট ২০২৬
Pitru Paksha 2025

কীভাবে শুরু হল পিতৃপক্ষ? মহাভারতে রয়েছে সেই আশ্চর্য কাহিনি

ব্রহ্মার নির্দেশে পিতৃপুরুষরা ১৫ দিন মনুষ্যলোকের কাছাকাছি থাকেন।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৫, ১৭:৫৫

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৫, ১৭:৫৫

options
link
কীভাবে শুরু হল পিতৃপক্ষ? মহাভারতে রয়েছে সেই আশ্চর্য কাহিনি zoom
Advertisement

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ভাদ্র মাসের কৃষ্ণ প্রতিপদ থেকে শুরু করে পরবর্তী অমাবস্যা পর্যন্ত সময়কে পিতৃপক্ষ বলে। পুরাণ মতে, ব্রহ্মার নির্দেশে পিতৃপুরুষরা এই ১৫ দিন মনুষ্যলোকের কাছাকাছি চলে আসেন। এই সময় তাঁদের উদ্দেশে কিছু প্রেরণ করলে তা সহজেই পিতৃপুরুষদের কাছে পৌঁছয়। তাই গোটা পক্ষকাল ধরে পিতৃপুরুষদের স্মরণের মাধ্যমে তর্পণের রীতি প্রচলিত রয়েছে। আর এই পিতৃপক্ষের মহালগ্ন বা অন্তিম কাল হল মহালয়া। এটি পিতৃপক্ষের শেষ দিন। পরের দিন শুক্লা প্রতিপদে দেবীপক্ষের সূচনা হয়। আর এদিন থেকে কোজাগরী পূর্ণিমা পর্যন্ত ১৫ দিনই হল দেবীপক্ষ। কিন্তু কীভাবে শুরু হয়েছিল এই পিতৃপক্ষের (Pitru Paksha 2025)? জানেন সেই কাহিনি? চলুন, জেনে নেওয়া যাক।

পিতৃপক্ষের সূচনা নিয়ে ভারি সুন্দর একটি কাহিনি রয়েছে মহাভারতে। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে অর্জুনের হাতে মৃত্যু হয়েছিল কর্ণের। অর্জুন অঞ্জলিকাস্ত্র ব্যবহার করে শিরশ্ছেদ করেছিলেন কর্ণের। নিহত হওয়ার পর তিনি গমন করলেন দেবলোকে। স্বর্গরাজ্যে দেবপতি যম কর্ণকে স্বাগত জানিয়ে আমন্ত্রণ করলেন। তাঁকে পাশে এনে বসালেন। এই অসাধারণ যোদ্ধা ও দানবীরকে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করলেন দেবরাজ। নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বললেন কিছুক্ষণ। তারপর দেবরাজ হঠাৎ করেই কর্ণের জন্য অন্নের সংস্থানে ব্যস্ত হয়ে উঠলেন। কিছুক্ষণ পর আয়োজন সম্পূর্ণ হলে কর্ণ খেতে বসলেন। কিন্তু খেতে বসে তিনি দেখলেন এ কী? স্বর্ণপাত্রে খাদ্যের পরিবর্তে সোনা, হিরে, মণিমুক্তো প্রভৃতি। কর্ণ অবাক হয়ে দেবরাজকে প্রশ্ন করলেন, খাদ্যবস্তুর পরিবর্তে এগুলি কেন?

Advertisement

দেবরাজ যম হেসে বললেন, হেবীর আপনি তো শ্রেষ্ঠ দানবীর! আপনি জীবনে স্বর্ণ, রত্ন, ঘোড়া, হাতি, সম্পত্তি অকাতরে দান করেছেন সকলকে। এমনকী নিজের কবচ-কুণ্ডলও ইন্দ্রকে দান করেছিলেন। জীবনে কখনও কাউকে প্রত্যাখ্যান করেননি। কিন্তু নিজের জীবদ্দশায় কি কখনও কাউকে অন্নদান করেছেন? এ কথা শুনে কর্ণ গভীর ভাবে অনুতপ্ত হলেন। করুণার বশবর্তী হয়ে যম তাঁকে ভাদ্রপদের অন্ধকার পক্ষকালে ১৫ দিনের জন্য পৃথিবীতে ফিরে আসার অনুমতি দেন। এই পক্ষকাল যাবৎ তিনি পিতৃকুল ও ব্রাহ্মণদের অন্নদান ও তিল-জল তর্পণ করেছিলেন। ভগীরথ তীরে তিনি পিণ্ডদান করেছিলেন পিতৃপুরুষদের শ্রদ্ধা জানিয়ে। সেই পক্ষকাল সময়ই ‘পিতৃপক্ষ’ নামে পরিচিত।

বিশ্বাস করা হয়, কর্ণের মতো আমাদের পিতৃপুরুষেরাও এই পক্ষের সময় অন্ন-তর্পণ এবং পিণ্ড-দানের প্রত্যাশায় তাদের অবস্থান থেকে অবতরণ করেন। ঠিক যেমন কর্ণকে পরলোকে খাদ্য থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল, তেমনই আমাদের পিতৃপুরুষরাও এই পক্ষের সময় আমাদের নৈবেদ্যর উপর নির্ভর করে থাকেন। তাঁদের অন্ন অর্পণ করে তৃপ্ত করতে হয়। কারণ ১ বছরে পিতৃপক্ষের ১ দিন হয়। তাই, প্রতিদিনের খাদ্য হিসেবে এই পক্ষকাল যাবৎ তর্পণ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.