পঞ্জাবের এই মন্দিরে গিয়ে দাঁড়ালে, দেবীমূর্তিকে দেখে ভক্তির বদলে ভয় উদ্রেক হয় দর্শনার্থীর মনে। সন্ধে তো দূরের কথা, পরিষ্কার দিনের আলোতেই সেখানে গিয়ে দাঁড়ানোর মতো সাহস যোগানো কঠিন! মন্দিরে অধিষ্ঠাত্রী দেবীর শরীর পাথরের, ধবধবে সাদা। কিন্তু মুখভঙ্গি বিকৃত। জিভ বেরিয়ে রয়েছে অনেকখানি, দেখা যাচ্ছে ভাঙা দাঁতের অংশ। মাথায় সাজানো একের পর এক নরমুণ্ড। বিস্ফারিত চোখের একটিতে মণি থাকলেও, অন্যটি শূন্য। সেদিকে একটানা তাকিয়ে থাকা অসম্ভব। অজান্তেই দর্শনার্থীর শিরদাঁড়া বেয়ে নেমে যায় ঠান্ডা স্রোত।

আরও পড়ুন:
পাটিয়ালার সিন্ধু কলোনির মনজিত নগরে অবস্থিত শ্রী কালী দেবী মন্দির। সেখানেই রয়েছে এই রহস্যময়ী দেবীমূর্তি। অনুমান করা হয়, এককালে রীতিমতো রমরম করেই দেবীর পূজা হত, তবে বর্তমানে তা লোকচক্ষুর আড়ালেই রাখা হয়। তাছাড়া দেবীর এই ভয়ঙ্করী মূর্তি দেখা দুর্বলচিত্তের কাজ নয় বলেই মনে করেন স্থানীয়রা। সূত্র জানায়, এই দেবী মা ভগবতী (Bhagwati Devi of Patiala) নামে পরিচিত।
মূর্তির অধিকাংশই যদিও কাপড়ে আবৃত, তবু তাঁর উগ্র মুখাবয়ব, তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ও স্বতন্ত্র গঠনশৈলী উত্তর ভারতের প্রাচীন তান্ত্রিক শক্তি-উপাসনার গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যের ইঙ্গিত বহন করে। বিশেষ করে মূর্তির বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে তান্ত্রিক ভগবতী তারার (উগ্রতারা) একাধিক সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়।
ঐতিহাসিকভাবে উত্তর ভারতের বহু অঞ্চলে তারা, কালী, ছিন্নমস্তা ও অন্যান্য মহাবিদ্যার উপাসনা প্রচলিত ছিল। মধ্যযুগে এই তান্ত্রিক সাধনার বিস্তার কাশ্মীর, হিমাচল, পঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ ও বাংলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে দেখা গিয়েছিল। সময়ের প্রবাহে বহু প্রাচীন তান্ত্রিককেন্দ্র বিলুপ্ত হয়েছে, তবুও বিচ্ছিন্নভাবে সংরক্ষিত কিছু প্রাচীন মূর্তি সেই বিস্মৃত ঐতিহ্যের সাক্ষ্য বহন করে।

পাটিয়ালার এই প্রাচীন মন্দিরটি ১৯৩৬ সালে মহারাজা ভূপিন্দর সিং প্রতিষ্ঠা করেন, সেখানে বাংলার কালীমূর্তি ও অখণ্ড পবিত্র জ্যোতি আনয়ন করা হয়। তবে সময়ের সঙ্গে সেখানেও পরিবর্তন এসেছে। মন্দিরের পুনর্নির্মাণের পর সেখানে নতুন করে মা কালীর বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং বর্তমানে সেই নতুন মূর্তিকেই কেন্দ্র করে পূজা চলে। এর ফলে প্রাচীন বিগ্রহটি ধীরে ধীরে ইতিহাসের আড়ালে হারিয়ে যেতে থাকে।
তবে প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে— এই প্রাচীন দেবীমূর্তির প্রকৃত পরিচয় কী? সত্যিই কি তিনি উগ্রতারার কোনও আঞ্চলিক রূপ? কোন উদ্দেশসাধন করতে দর্শনার্থীরা ভিড় করত তাঁর সামনে? নাকি তাঁর আসল পরিচয় সময়ের সঙ্গে হারিয়ে গিয়েছে পুরোপুরিভাবে?
সর্বশেষ খবর
-
রোগ সারাতে বাংলাদেশিদের ভরসা কলকাতাই! দেড় লক্ষ ভিসা আবেদনে মেডিক্যাল ট্যুরিজমে জোয়ার
-
মেসির গায়ে শুকোচ্ছে লেপ-কাঁথা-কম্বল! বিশ্বকাপের মাঝে এ কী অবস্থা সেই ‘বিখ্যাত’ মূর্তির
-
‘আরএন রবি বলছি’, রাজ্যপালের নামে অগ্নিমিত্রা-দুধকুমারকে ফোন, বালি থেকে যুবককে ধরল পুলিশ
-
জল জীবন মিশন প্রকল্পে সাড়ে ১৪ কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ, চাঞ্চল্য দার্জিলিংয়ে
-
বিশ্বকাপে ধুন্ধুমার! অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের আগে পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতি মিশর কোচের, হলটা কী?